আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ১০:০৮

ইতিহাসের সাক্ষী হতে ঘুরে আসুন ছিটমহলে

অনলাইন ডেস্ক
ইতিহাসের সাক্ষী হতে ঘুরে আসুন ছিটমহলে

বাংলাদেশের এক ভূখণ্ড থেকে অন্য ভূখণ্ডে (দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায়) যেতে ১৭৮ বাই ৮৫ মিটার ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে হয়। যার আয়তন প্রায় তিন বিঘার মতো, যা ভারত বাংলাদেশকে ইজারা দেয়। আর এ কারণে এ প্রবেশ পথের নাম তিন বিঘা করিডোর। এ করিডোরের চারপাশে লোহার বেষ্টনী দেয়া আছে। পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়ন ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপন করেছে ঐতিহাসিক এ করিডোরটি। এখানে বিএসএফ ও বিজিবি ক্যাম্প আছে। ইতিহাসের অংশ হতে আসুন না ঐতিহাসিক ও মনোরম তিন বিঘা করিডোর মাড়িয়ে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায়।

একটি দেশের অভ্যন্তরে অন্য দেশের ভূখণ্ডকে ছিটমহল বলে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ছিটমল সংখ্যা ১১১ আর ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের  ছিটমহল সংখ্যা ৫১টি। লালমনিরহাট জেলা সীমান্তে ৩৩ আর কুড়িগ্রাম সীমান্তে ১৮টি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ছিটমহল হচ্ছে- দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ব্যাপক পরিচিত,  যা ১৯৮৫ সালে পাটগ্রাম উপজেলার স্বতন্ত্র দহগ্রাম ইউনিয়ন হিসাবে মর্যাদা পায়। এর তিন দিকে ভারতের কুচবিহার। একদিকে তিস্তা নদী,  নদীর ওপারেও ভারতীয় ভূখণ্ড। আর সেই স্থানে যেতে কেমন রোমাঞ্চ লাগবে? ভাবতে পারেন!
দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যেতে হলে প্রায় ১৭৮ মিটার ভারতীয় ভূখণ্ড পার হয়ে যেতে হয়। দারুণ রোমাঞ্চকর নয়? ব্রিটিশ র্যাডক্লিফ কমিশনের বিতর্কিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সীমান্ত বিভক্তের কারণে ১৯৪৭ সালের পর দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা মূল ভূখণ্ডের বাইরে ছিল। তখন বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যেতে হলে একটি প্যাসেস ডোর পার হয়ে যেতে হতো। এই প্যাসেস ডোর এখনকার- তিন বিঘা করিডোর।

এখন ২৪ ঘণ্টা তিন বিঘা করিডোরের প্রবেশ পথ খোলা থাকে। তবে এর প্রেক্ষাপট এত সহজ ছিল না! ১৯৭৪ সালে মুজিব- ইন্দারা চুক্তি হলেও ১৯৯২ সালের ২৬ জুন মুল ভূখণ্ড থেকে বিছিন্ন দহগ্রাম- আঙ্গরপোতা যুক্ত হয় দেশের সঙ্গে। ১৯৯২ সালের পর প্রথম দিকে দিনে ছয় ঘণ্টা, পরে ১২ ঘণ্টা খোলা থাকত এ করিডোর। বাংলাদেশের অব্যাহত চাপে ১৯১১ সালে ভারত এ করিডোর সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়। তবে এ করিডোরের প্রবেশ পথ নিয়ন্ত্রণ করে ভারত।
১৯১১ সালের আগে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা জনগণের ইচ্ছামতো সবসময় যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য অবর্ণনীয় দুঃখ- কষ্ট ভোগ করতে হয়। পরে ১৯ অক্টোবর ১৯১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল এবং এ করিডোরটি উন্মুক্ত ঘোষণা করেন। এ রকম বহু ত্যাগ- তিতিক্ষার ভূখণ্ডে যাওয়ার পথে ১৭৮ মিটার ভারতীয় ভূখণ্ড মাড়িয়ে যেতে শিহরণ জাগবেই নিঃসন্দেহে! ভেবে দেখুন – একই পথে বাংলাদেশ-ভারতের জনগণ একটি পথ ব্যবহার করছে! তিন বিঘা করিডোরের প্রবেশ পথ পেরিয়ে চৌমুহনীতে আপনার সামনে দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের গাড়ি আর মানুষ যাচ্ছে! কথাও বলতে পারেন অন্য দেশের বাসিন্দাদের সঙ্গে। বিনা পাসপোর্ট আর ভিসায় এ মুহূর্ত স্মরণীয় হয়ে থাকবে!
পার্শ্ববর্তী পর্যটন স্পট: পাটগ্রাম থেকে ১৪ কিমি দূরের বুড়িমারী স্থলবন্দর দেখতে পারেন মূল ভ্রমণের আগে ও পরে। এ বন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান আর নেপালের মালামাল পারাপার হয়। প্রধানত পাথর আমদানি হয় । বাংলাদেশের শেষ প্রান্ত, যা ঢাকা থেকে ৪৫৭ কিমি দূরে অবস্থিত এ বন্দরটি দেখতে প্রতিদিনই পর্যটকের ঢল নামে। এ ছাড়া পাটগ্রাম থেকে প্রায় ৩৫ কিমি দূরের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প ও মনোরম স্পট ডালিয়া পয়েন্টের তিস্তা ব্যারেজও উপভোগ করতে পারেন।
যাতায়াত: পাটগ্রাম উপজেলা থেকে এ ছিটমহলের দূরত্ব প্রায় ১০ কিমি। যেতে হবে অটোরিকশা বা নিজস্ব ব্যবস্থায়। বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে বা ঢাকা থেকে এসি/নন এসি বাসে রংপুর হয়ে লালমনিরহাট আসতে হবে। তবে বেশিরভাগ বাস পাটগ্রাম হয়ে বুড়িমারী স্থলবন্দর যায়। হানিফ, শ্যামলী, নাবিল, এসএ পরিবহন, মানিক, শাহ আলী ইত্যাদি বাসে গাবতলী থেকে উঠতে পারেন। ভাড়া পড়বে ৮০০-১২০০ টাকা। ঢাকা থেকে ট্রেনেও আসা যায় লালমণি এক্সপ্রেসে। শ্রেণিভেদে ভাড়া ৪২০-১৫১০ টাকা। শুক্রবার বাদে ঢাকার ট্রেন ছাড়ার সময় রাত ১০টা ১০ মিনিট এবং লালমনিরহাট পৌঁছায় সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। এরপর ট্রেন বা বাসে পাটগ্রাম যেতে হবে। এ ট্রেনটি শনিবার বাদে প্রতিদিন সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে লালমনিরহাট ছেড়ে যায়। আবাসন ব্যবস্থা: দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় আবাসন ব্যবস্থা নেই। থাকা বা খাওয়ার জন্য আপনাকে পাটগ্রাম বা লালমনিরহাট বেছে নিতে হবে। কম খরচে থাকতে পারবেন। অথবা রংপুরে বিভিন্ন দাম ও মানের হোটেল পাবেন।

উপরে