আপডেট : ৬ মে, ২০১৭ ২১:৪১

যাবেন নাকি হলুদ ড্রাগনের দেশে!

অনলাইন ডেস্ক
 যাবেন নাকি হলুদ ড্রাগনের দেশে!

চিনে আছে অসাধারণ সুন্দর পাহাড়, নীল সমুদ্র সৈকত, উপত্যকা, বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন। চীনে ভ্রমণ খুব সহজ এবং সস্তা। চীনের ঐতিহ্যবাহী খাবার স্বাদও আপনি নিতে পারবেন সস্তায়। চিনকে বলা হয় হলুদ ড্রাগনের দেশ। এত জনসংখ্যার চাপ তবুও একবার গেলে আপনার মন ভরবে। বারবার যেতে মন চাইবে দেশটিতে। চিনে অনেক কিছুই অন্য রকম৷ যেমন, সেখানে সবজান্তা গুগলও চলে না৷ ওদের ভাষা এমন, জিবে প্লাস্টিক সার্জারি না করালে চিনে ভাষা উচ্চারণ কার্যত ইমপসিবল। স্রেফ বেজিং-এর মতো বড় শহরই নয় সেখানকার প্রত্যন্ত অঞ্চলও পরিচ্ছন্নতা আর নগর পরিকল্পনায় ইউরোপের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে৷ রাস্তায় ময়লা নেই, সাইকেলের আলাদা লেন, মোড়ে-মোড়ে পথ নির্দেশিকা, কংক্রিটের মহড়া দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সবুজ। বাঙালির মতো বিশ্ব নিন্দুকের মুখ থেকেও 'বাহ' আদায় করে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট৷ একটি দ্বীপের কথা বলি৷ গুলাংয়ু৷ দক্ষিণ চিনের ফুজিয়ান প্রদেশের ছোট্ট একরত্তি ফুটকিও বলা যায়৷ সুন্দর-সাজানো গোছানো৷ আর সুন্দর-সাজানো গোছানো বললেই ট্যুরিজম প্রোমোট করার নামে পর্যটক টানার ঢল নামে৷ গুলাংয়ুর মতো অনেক চিনা ট্যুরিস্ট স্পট-এর সেই বালাই নেই৷ বরং উল্টোটা৷ এই দ্বীপে যাওয়ার একমাত্র উপায় শায়ামেন থেকে ফেরি নেওয়া৷ সরকারের কড়া নজর, বেশি ট্যুরিস্ট দ্বীপে যাচ্ছে না তো! বেশি ট্যুরিস্ট মানেই প্রকৃতির উপর বেশি চাপ৷ পরিবেশের ক্ষতি৷ অতএব প্রয়োজন পড়লে নিয়ন্ত্রণ করা হোক পর্যটকদের আনাগোনাও৷ ভালো কথা, পরিবেশ ঠিক রাখতে এই দ্বীপে কোনও যানবাহন নেই৷ সাইকেলও না৷ ব্যাটারি চালিত কয়েকটি গাড়ি আছে বটে৷ তা শিশু ও বয়স্কদের জন্য৷ আম-আদমি চড়তে চাইলে পকেট গচ্চা দিয়ে বেশি ইউয়ানের টিকিট কাটতে হবে৷ ভাগ্গিস এই দ্বীপে থাকেন মাত্র ২০ হাজার বাসিন্দা৷

চিনের মানুষকেও তাদের ট্রাডিশনাল পোশাকে দেখা যায় খুব কম৷ শপিং মল থেকে সাধারণ মুদির দোকানে রিহানা, জাস্টিন বিবার বাজছে৷ ছেলেমেয়েদের অঙ্গে জিনস, টি-শার্ট, জ্যাকেট৷ বয়স্কদেরও তাই৷ বয়সভেদে একটু ভিন্ন৷ কিন্তু চিনা পোশাক উঁহু, নাঃ৷  চিনের অবিসংবাদিত নেতা মাও সত্যিই আছেন চিনে৷ কিন্তু তাঁর নামে কোনও বাড়াবাড়ির প্রচলন নেই সেই দেশে!

চিনের যেতে হলে যা করবেন-

১৷ বাইদু'র মতো ম্যাপ-অ্যাপলিকেশন আগে থেকেই মোবাইলে ডাউনলোড করে রাখুন৷ ইংরেজি ভার্সান সিলেক্ট করতে ভুলবেন না৷

২৷ জিমেল ছাড়া অন্য ইমেল অ্যাকাউন্ট না থাকলে তৈরি করে নিন৷ হটমেল বা ইহায়ু৷ ফ্লাইট টিকিট, বুকিং-এর মতো নথি ফরোয়ার্ড করে রাখুন আগেই৷

৩৷ বেশিরভাগ রেল স্টেশন বা ফেরিঘাটে বিমানবন্দরের মতো সিকিউরিটি চেক হয়৷ ভিসা দেখাতে হতে পারে৷ পাসপোর্ট সঙ্গে থাকলে নিশ্চিন্ত৷

৪৷ হোটেল বা যেখানে থাকবেন, ঠিকানা চিনা ভাষায় লিখিয়ে নিন৷ রাস্তা গোলমাল হয়ে গেলে এটাই একমাত্র সম্বল৷ চিনা ভাষা জানলে অবশ্য আলাদা কথা৷

৫৷ সাংহাইতে প্রায় সারা বছরই বৃষ্টি৷ ফ্লাইট ক্যানসেল বা দেরি হওয়ার আশঙ্কা আঠারো আনা৷ সুযোগ থাকলে সাংহাই বিমান যোগাযোগ বাদ দিয়ে প্ল্যান করুন৷

৬৷ পরিচ্ছন্নতা এখন চিনাদের রক্তে৷ যত্রতত্র সিগারেটের টুকরো (বা নোংরা) ফেললে জরিমানা হতে পারে৷ নিয়ম না জানাটা কোনও অজুহাত বলে গন্য হবে না৷

৭৷ মেনু কার্ড বা ডিশ দেখে খাবারের উপাদান বোঝার সুযোগ নেই৷ যেটা পাস্তা ভাবছেন, সেটা হয়তো সামুদ্রিক আগাছা বা ব্যাঙের ঠ্যাং৷ প্রশ্ন করুন, জেনে নিন৷

৮৷ ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড থাকলে 'ব্যাঙ্ক অফ চায়নার' মতো বড় ব্যাঙ্কের এটিএম-এ থেকে টাকা তোলা যাবে৷

৯৷ ভাষা বড় সমস্যা৷ অধৈর্য হলে কার্যসিদ্ধি হবে না৷ স্থানীয় মানুষ আপনাকে সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন৷ আপনাকে শুধু একটু চোখকান খোলা রাখতে হবে৷

১০৷ ইউরোপের মতো চিনেও যান-বাহন 'লেফট হ্যান্ড ড্রাইভ'৷ বাসে-ট্রামে উঠতে হবে ডান দিক দিয়ে৷ খেয়াল রেখে, সেই অনুযায়ী বাস স্টপে দাঁড়ান৷

উপরে