আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:০৯

এই ছুটিতে তাজা কচি সবুজের শহর 'শ্রীমঙ্গল'

অনলাইন ডেস্ক
এই ছুটিতে তাজা কচি সবুজের শহর 'শ্রীমঙ্গল'
চা এর শহর, তাজা কচি সবুজের শহর শ্রীমঙ্গল। এখানে ছোট ছোট পাহাড়, পাহাড়ে চা বাগান, লেক, হাওর, ঝর্ণা কি নেই? সবচেয়ে বড় যেটা আছে, সেটা হল শান্তি। শহুরে, ব্যস্ত ধুলাবালি ভরা জীবন থেকে বেরিয়ে এই ঈদে ছোট্ট একটা ট্যুরে ঘুরে আসতে পারেন এখানে।
 
মাধবপুর লেক
 
চারিদিকে পাহেড়ে ঘেরা মাঝে টলটলে জলের অপূর্ব একটি লেক মাধবপুর লেক। লেকে ভাসে নীল পদ্ম। চমৎকার এই লেকটি মন ভরিয়ে দেয় প্রশান্তিতে। পাহাড়ে পাহাড়ে চায়ের বাগান, ছায়া দেওয়া গাছগাছালি যেন ক্লান্ত মনকে আরাম দিতেই বিস্তৃত। শুধু মাধবপুর লেক ঘুরেই কাটিয়ে দেওয়া যায় একটি দিন।
 
চা বাগান
 
বাংলাদেশে মোট ৭টা টি ভ্যালী রয়েছে এর মধ্যে সিলেট বিভাগে রয়েছে ৬টি। এই ৬ ভ্যালীতে মোট চাবাগানের সংখ্যা ১৩৮ টি। শুধু শ্রীমঙ্গলে রয়েছে ৩৮ টি চাবাগান এবং শ্রীমঙ্গলের পাশবর্তী এলাকা সহ চাবাগানের সংখ্যা হচ্ছে ৬০ টি। এ জন্য শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানীও বলা হয় এতো চা বাগান আপনি কোন বাগান দেখতে যাবেন সিন্ধান্ত নিতে কষ্ট হবে । দরকার নেই এতো কিছুর আপনি শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর ছাড়া যে কোন একটি স্পট নির্ধারন করে রওযানা দিলেই পেয়ে যাবেন চা বগান। কারন শ্রীমঙ্গলের পূর্ব পাশে কিছু অংশ ব্যাপী হাওর ছাড়া পুরুটা উপজেলাই চা বগান দ্বারা আবৃত। আপনি যখন মাইলের পর মাইল চা বাগানের ভিতর দিয়ে চলবেন তখন আপনার মনে হবে বিশ্বের সকল সুন্দর্যরস্মী যেন আপনার সন্মুখে।
 
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
 
চা বাগান দেখা শেষ হয়ে গেলে আপনি চলে যেতে পারেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যেখানে উঁচুুনিচু পাহাড়ের গায়ে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে হাজার হাজার প্রজাপতির লাখ লাখ বৃক্ষ । ন্যাশনাল পার্কে প্রবেশ করা মাত্রই আপনি দেখবেন চারিদিকে হাল্কা অন্ধকার রাস্তায় দুপাশের বৃক্ষগুলো দিবাকরের আলোক রশ্মিকে আটকে রেখেছে , মাঝে মাঝে বৃক্ষসারির মগডালে চোখ রাখুন দেখবেন বানর আর হনুমান লাফালাফি করছে । এতটু ভেতরে প্রবেশ করলে আপনার চোখে পড়বে খাটাস , বনমোরগ , উল্লুক , মেছোবাঘ বন বিড়ালসহ বিভিন্ন জীবজন্তু আর পার্কের বিশাল বিশাল বৃক্ষরাজি,জীবজন্তুর হুঙ্কার, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ, বানরের লাফালাফি, ঝাঁকঝাঁক উল্লুকের ডাকাডাকি একটু সময়ের জন্য হলেও আপনার ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে মনে এনে দেবে প্রশান্তির ছোঁয়া ।
 
বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র( বিটিআরআই)
 
বাংলাদেশের চা গবেষণা কেন্দ্রটি পড়েছে শ্রীমঙ্গলের মূল শহর থেকে মাত্র ২ কিলো দূরে । কিন্তু শ্রীমঙ্গল পৌরসভার অন্তর্ভূক্ত । সংস্থাটিকে সংক্ষেপে সবাই বিটিআরআই বলে জানেন। শহর থেকে ১০ থেখে ১৫ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে সহজেই বিটিআরআই পৌছে যেতে পারেন । বিটিআরআই ক্যাম্পাসেই রয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন অফিস । অফিস গেটে রিকশা থেকে নামামাত্রই চোখে পড়বে হরেক রকম ফুলের সমাহারে ভরা ২টি ফুল বাগান , একটি বিটিআরআইু এর অপরটি চা বোর্ডের। গেটে অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করুন , ভিতরে দেখতে পাবেন ৫০/৬০ বছরের পুরোনো চা গাছ । চা ম্যানুফকচারিংসহ টি টেস্টিং ল্যাব , গবেষণা ফ্যাক্টরিসহ বাংলাদেশর একমাত্র ভেষজ উদ্ভিদের বাগান।
 
রমেশ রাম গৌঢ় এর ৭ কালারের চা
 
বেড়ানো শেষে শরীর ক্লান্তি আসলে চলে যেতে পারেন বিটিআরআই সংলগ্ন রামনগরে চা শ্রমিক রমেশে রাম গৌড় এর আবিষ্কৃত সাত রঙ্গা চা- এর দোকান নীলকন্ঠ চা কেবিনে। রমেশ রাম গৌঢ়ের নীলকন্ঠ চা কেবিনে একই পাত্রে পাঁচরঙ্গা চা ছাড়াও আরো বেশ কয়েক রকমের চা পাওয়া যায় এক কাপ চা পান করলে দেখবেন আপনার শরীরে ক্লান্তি সরে গিয়ে অনেকটা সতেজতা ফিরে এসেছে । রমেশ রাম গৌঢ় ইতি মধ্যে তার গবেষনা চালিয়ে একই পাত্রে ৮রঙ্গা চা আবিস্কারের কৌশল আয়ত্ব করেছেন। বিশ্বের আর কোথাও এ পযন্ত একই পাত্রে ৭ রঙ্গা চা আবিস্কারের খবর পাওয়া য়ায়নি।
 
হাইল হাওর
 
বৃহত্তর সিলেটের টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকির পর শ্রীমঙ্গলের চারটি ইউনিয়ন জুড়ে প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব বৈচিত্র ও জীবিকার বিবেচনায় হাইল হাওর একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিমপ্রান্তে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আছে এ বিশাল হাওর। হাওরে গিয়ে আপনি সৌন্দযৃ উপভোগ করতে পারেন। হাইল হাওর দেশী বিদেশী হরেক রকম পাখি, শাপলা- শালুক, ঝিনুক, শামুক ও হিজল- করল গাছসহ নানা প্রাকৃতিক সম্পদ।
 
বাইক্কা বিল
 
জীববৈচিত্র্য ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর বাইক্কা বিল জলজ সম্পদের অমূল্য ভান্ডার। শিল্প-গবেষণা ও চিত্ত-বিনোদনের জন্য এই বিল এখন অনন্য বিল একটি স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিলের পানিতে ফোটা হাজারো পানা, শাপলা, পদ্ম আর নীলপদ্ম শোভিত মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক শোভা দেখে মন আনন্দে ভরে উঠবে আপনার।
 
যাতায়াত-
 
বাস: সায়েদাবাদ থেকে শ্যামলী, হানিফসহ অনেক বাসই শ্রীমঙ্গল যায়। মহাখালি থেকে যা এনা। এমনি সময়ে গেলে আগে টিকেট না কাটলেও চলবে। প্রতি ৩০ মিনিটে একটি করে বাস ছেড়ে যায়, তাই টিকেট নিয়ে কোন সমস্যা নেই।
ট্রেন: বাসের বদলে ট্রেনেও যেতে পারেন। লাউয়াছরার ভেতর দিয়ে শ্রীমঙ্গলে প্রবেশ করতেই মন আনন্দে ভরে উঠবে আপনার। পারাবত এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৬ টায়, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস দুপুর ২টায় এবং উপবন রাত সাড়ে ১০টায় । ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে চেয়ার কোচের ভাড়া ১৩৫ টাকা, ১ম শ্রেণীর চেয়ার ২০০ টাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে ৩০০ টাকা এবং স্লিপিং কোচে ৩৬০টাকা। টিকিট সংগ্রহ করা যাবে কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে।
 
আবাসন-
 
কোলাহল মুক্ত পরিবেশে থাকতে চাইলে উঠতে পারেন চা বাগানের ভিতর বিটিআরআই রেস্ট হাউজ অথবা টি রিসোর্ট-এ। লেমন ভিউ রিসোর্টের কথা তো বললাম। এখানে সিঙ্গেল, কাপল, গ্রুপ সব ধরণের রুম পাবেন। ভাড়া ৫০০০-১২,০০০ টাকা। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গল শহর ও শহরতলীতে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো রেস্ট হাউজ ও আবাসিক হোটেল। আমরা ছিলাম গ্রীন ভিউ গেস্ট হাউজে। ফোন নং- 01719896788. এখানে ভাড়া ৫০০ থেকে শুরু। তবে যেখানেই থাকুন একটু দরদাম করে নেবেন।
 
অন্যান্য-
 
১ দিন বেড়াতে সি. এন. জি নিলে ১২০০-১৫০০ টাকা নেবে। আমরা ১৫০০ টাকায় এই জায়গাগুলো ঘুরেছি। এছাড়া লাউয়াছড়ায় ঢোকার টিকেট ২০ টাকা করে, গাড়ি পার্কিং এর একটা চার্জ আছে। গাইড নিলে ৩০০ টাকা রেট। তবে বনের গভীরে না গেলে গাইড না নিলেও হবে।
উপরে