আপডেট : ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৩:৫৫

বয়সকে থোড়াই কেয়ার: টলি নায়িকারা পিছনে ফেলেছেন বলিউডকে

অনলাইন ডেস্ক
বয়সকে থোড়াই কেয়ার: টলি নায়িকারা পিছনে ফেলেছেন বলিউডকে

বোঝা যাচ্ছে, বলিউডে মোটামুটি ৩৬-৩৭ বছর বয়স হয়ে গেলে নায়িকাদের হাতে ছবি কমতে থাকে। একটু অন্য ধরনের গল্পের জন্য তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। যদিও সেই অন্য ধরনের গল্পের জোগানও বলিউডে বেশ কম। পুরোদস্তুর নায়িকা হিসেবে কাজল সেই ‘ফনাহ্‌’তেই কাজ করেছেন। যখন তাঁর বয়স ৩২। তারপর ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘উই আর ফ্যামিলি’ কিংবা ‘দিলওয়ালে’ করলেও সেখানে একটু ভারিক্কি চরিত্রই দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

এক জায়গায় বলিউডকে পিছনে ফেলে দিয়েছে টলিউড। একটা বয়সের পর যেখানে বলি নায়িকাদের প্রায় অবসর নিয়ে নিতে হয়, সেখানে টলিউডের নায়িকারা চুটিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। 
হাতের নাগালে সবচেয়ে ভাল উদাহরণ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এখনও বাংলার নায়িকাদের মধ্যে ছবির বিচারে তিনিই এগিয়ে। বছরে সবচেয়ে বেশি ছবি করেন। হিটও আছে। সেই তুলনায় ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন কিংবা কাজল ক’টা ছবি করেন? 
বয়সের বিচার করলে অ্যাশ দু’বছরের ছোট ঋতুপর্ণার চেয়ে। কাজলকেও উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। বিয়ে এবং বাচ্চা হয়ে যাওয়ার পর তিনিও খুব কম ছবি করেছেন। 
একটু পিছনে তাকালে দেখা যাবে, বাংলা ছবির নায়িকারা অনেকদিন পর্যন্ত চুটিয়ে কাজ করে থাকেন। বলিউডের নায়িকাদের তুলনায় তাঁদের অবসরের বয়স অনেকটাই বেশি। সুচিত্রা সেন ৪৭ বছর বয়সে ‘প্রণয় পাশা’ করেছেন। সেখানে হেমা মালিনীকে ৪০ বছরেই 
বয়স্ক মহিলার চরিত্র করতে দেখা গিয়েছে।

বোঝা যাচ্ছে, বলিউডে মোটামুটি ৩৬-৩৭ বছর বয়স হয়ে গেলে নায়িকাদের হাতে ছবি কমতে থাকে। একটু অন্য ধরনের গল্পের জন্য তাঁদের অপেক্ষা করতে হয়। যদিও সেই অন্য ধরনের গল্পের জোগানও বলিউডে বেশ কম। পুরোদস্তুর নায়িকা হিসেবে কাজল সেই ‘ফনাহ্‌’তেই কাজ করেছেন। যখন তাঁর বয়স ৩২। তারপর ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘উই আর ফ্যামিলি’ কিংবা ‘দিলওয়ালে’ করলেও সেখানে একটু ভারিক্কি চরিত্রই দেওয়া হয়েছে তাঁকে। একই কথা ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মেয়ে আরাধ্যা হয়ে যাওয়ার পর ঐশ্বর্যা মোটে তিনটে ছবিতে কাজ করেছেন। ঘটনাচক্রে তাঁর মধ্যে ‘জজ্‌বা’ এবং ‘সর্বজিৎ’ ফ্লপ। ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ হিট করলেও সেখানে অ্যাশ প্রধান চরিত্র ছিলেন না। ফলে বয়স হয়ে গেলে নায়িকাদের ছবি চলে না, এই জাতীয় তত্ত্ব এক্ষেত্রে জোরদার হচ্ছে।সেই প্রেক্ষিতে দেখলে বাংলায় ঋতুপর্ণা তো বটেই, রাইমা সেন কিংবা পাওলি দাম কারওরই কাজ পেতে সমস্যা হচ্ছে না। রাইমা ৩৭ বছর বয়সে অনেক রকম চরিত্র করেছেন। যদিও তিনি আরবান ছবিতেই কাজ করে থাকেন। পাওলিও তাই। কিন্তু পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব বলে যে তাঁদের বয়স্ক চরিত্র করতে হচ্ছে, তেমন নয়। কোয়েল যেমন অনেকদিন ধরে বাণিজ্যিক ছবির পয়লা নম্বর জায়গাটা ধরে রেখেছিলেন। তবে এই মুহূর্তে বাণিজ্যিক ছবিতে নুসরত জাহান, মিমি চক্রবর্তী, সায়ন্তিকারাই প্রাধান্য পাচ্ছেন।

বলিউডে ব্যতিক্রম বিদ্যা বালন। তিনি নিয়মিত নারীপ্রধান চরিত্র পেয়ে এসেছেন। বিদ্যা এখন ৩৮। এখানেও একটা ‘কিন্তু’ রয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যার অনেক ছবি ফ্লপ হয়েছে। ভরসা বলতে একমাত্র ‘কহানি টু’। করিনা কপূর খান যেমন জোর গলায় দাবি করেন, বয়স কোনও ফ্যাক্টর নয়। তিনি এখন ৩৬’এর কোঠায়। মা হতে যাচ্ছেন বলে ছবির কাজ বন্ধ করে দেবেন, এমন দাবিও উড়িয়ে দিয়েছেন। বাস্তবটা যদিও একটু আলাদা। করিনা নারীপ্রধান ছবি এখন আর পান না। সেই প্রস্তাবগুলো দীপিকা পাড়ুকোন, প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, কঙ্গনা রানাউত কিংবা আলিয়া ভট্টদের কাছেই যাচ্ছে। করিনার পরপর ছবি ফ্লপ হয়েছে। যেগুলো হিট করেছে, সেখানে তিনি নিমিত্তমাত্র। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ কিংবা ‘সিংহম রিটার্নস’এর হিটের কারণ অবশ্যই অন্য। রানি মুখোপাধ্যায়ও অবসরের রাস্তাতেই বলা চলে। শেষ ছবি ‘মরদানি’। তার আগে অবশ্য লম্বা ফ্লপের তালিকা রয়েছে রানির।
বলিউ়ডের তুলনায় টলিউডে আরবান আর কমার্শিয়ালের বিভাজনটা বেশ স্পষ্ট। অনেক সময়েই যে নায়িকা আগে অনেক বাণিজ্যিক ছবি করেছেন, কেরিয়ারে একটু পরের দিকে তাঁকে আরবান ছবিতে দেখা যায়। স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় যেমন কেরিয়ারের প্রথম দিকে কমার্শিয়াল ছবিতে দিব্যি কাজ করেছিলেন। এখন তাঁকে স্রেফ শহুরে ঘরানার ছবিতেই দেখা যায়। পায়েল সরকারও শুরুর দিকে মসালা বাণিজ্যিক ঘরানার ছবি করতেন। এখন তিনি অঞ্জন দত্ত, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম শীলের ছবি করছেন।
সুতরাং বয়স হয়ে গেলে বলিউডে যেখানে নায়িকাদের হাতে ছবি একেবারে কমে যাচ্ছে, সেখানে টলিউডের নায়িকাদের ততটা মুশকিলে পড়তে হচ্ছে না। গল্পের গতিপ্রকৃতি, ইন্ডাস্ট্রির কাঠামোই এই তফাতের মূল কারণ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/বুলা

উপরে