আপডেট : ২৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৫২

ভার্চুয়াল চিকিৎসায় ড. গুগল কতটা নির্ভরযোগ্য?

অনলাইন ডেস্ক
ভার্চুয়াল চিকিৎসায় ড. গুগল কতটা নির্ভরযোগ্য?

ভার্চুয়াল চিকিৎসা কতটা নির্ভুল? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি বাস্তবের রক্ত-মাংসের মানব চিকিৎসকদেরকেও ছাড়িয়ে যাবে?

না, তেমনটা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। গত সপ্তাহে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের এক গবেষণায় এমনটিই প্রমাণিত হয়েছে। ওই গবেষণার ফলাফল নিয়ে জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সচরাচর ব্যবহৃত হয় এমন ২৩টি রোগের লক্ষণ নির্ণয়কারী অ্যাপসের চেয়ে মানুষ ডাক্তাররা অনেক বেশি সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম।

হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা প্রক্রিয়ার ভুল কমানোর জন্য কম্পিউটার চেক লিস্ট এবং অন্যান্য অ্যাপস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু হাসপাতালের বাইরে কোনো মেডিক্যাল প্রশিক্ষণ নেই এমন লোকদের দ্বারা এগুলোর ব্যবহার বেড়ে চলায় অপচিকিৎসায় মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে চলেছে।

এখন অনেকেই ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে অনলাইনে রোগ নির্ণয় করছেন যে আদৌ তাদের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার আছে কিনা।

যুক্তরাজ্যে ২ হাজার লোকের অংশগ্রহণে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক (৪৭%) মানুষ ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে অনলাইনে তাদের রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা চলান। ২০% বলেছেন তারা অনলাইন থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন করেন। ৫০% জানিয়েছেন, তারা নিজেরা রোগনির্ণয় করে ডাক্তারকে যে ওষুধ দিতে বলবেন ডাক্তার যদি সে ওষুধ দেন তাহলেই তারা খুশি হবেন। বৃহস্পতিবার বিএমজেতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভার্চুয়াল ডায়াগনসিসের মাধ্যমে শুধু সচরাচর যেসব রোগ রয়েছে সে সবের নির্ভুল চিকিৎসা করা সম্ভব। কিন্তু জটিল এবং বিরল রোগের ক্ষেত্রে এবং কোনো রোগ যখন তীব্র আকার ধারণ করে তখন বাস্তবের মানুষ ডাক্তাররাই বেশি ভালো চিকিৎসা করেন।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ চিকিৎসকরাও রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ভুল করেন। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মানুষ ডাক্তাররা রোগের লক্ষণ নির্ণয়ে ভুল করেন এবং সময় মতো চিকিৎসা না করে বরং দেরিতে চিকিৎসা করেন। ওই গবেষণায় ৪৫টি রোগের ক্ষেত্রে ২৩৪ জন ইন্টার্নাল মেডিসিন বা আভ্যন্তরীণ ওষুধ ডাক্তারের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এই রোগগুলোর মধ্যে সাধারণ এবং অসাধারণ সব ধরনের রোগই ছিল।

প্রতিটি ক্ষেত্রেই ডাক্তারদেরকে সবচেয়ে সম্ভাব্য চিকিৎসা পত্রটি এবং পাশাপাশি অতিরিক্ত সম্ভাব্য দুটি চিকিৎসা পত্রও দিতে বলা হয়। প্রথমবার ৭২% ডাক্তার সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিয়েছেন। যেখানে তুলনায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মাত্র ৩৪% ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম হয়েছে।

আর তিনটি সম্ভাব্য শীর্ষ চিকিৎসা সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ৮৪% ডাক্তার সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসাপত্র দিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ডিজিটাল রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া মাত্র ৫১% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করেছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত ওই গবেষণায় উপসংহার টানা হয়, কম্পিউটার ভিত্তিক গাণিতিক পরিভাষা যখন মানুষ ডাক্তারদের চিকিৎসার পাশাপাশি ব্যবহৃত হয় তখনই এ থেকে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এটিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করে মূলত মানুষ ডাক্তারদের সিদ্ধান্ত-গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরো নির্ভুল করা সম্ভব।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/বুলা

উপরে