আপডেট : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৭:৫৩

ফখরুল-মওদুদরা বাদ, এবার তরুণ নেতৃত্বের হাতে যাচ্ছে বিএনপি!

অনলাইন ডেস্ক
ফখরুল-মওদুদরা বাদ, এবার তরুণ নেতৃত্বের হাতে যাচ্ছে বিএনপি!

ঢাকা সিটি নির্বাচনে পরাজয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিরোধীদল বিএনপি। এবার প্রবীণদের সরিয়ে তারুণ্যের কেতন উড়িয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল নিচ্ছে দলটি।

আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল সিটি নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে খোল-নলচে পাল্টে যাবে। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরই বিএনপিতে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার আওয়াজ উঠেছিল। সিটি নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর এই আওয়াজ আরো জোরেসোরে উঠেছে। বিশেষ করে দলে যারা প্রবীণ বৃদ্ধ তাদেরকে বাদ দিয়ে তরুণদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার দাবি অনেক বেশি জোরালো হয়েছে।

বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছে আপাতত সরকার পতনের ক্ষমতা বিএনপির নেই। আবার অন্য কোনো পন্থায় ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনাও বিএনপিতে নাই। এখন আগামী চার বছর ধরে সংগঠন গোছানোই হলো দলটির প্রধান চ্যালেঞ্জ। সংগঠন গোছানোর কাজে বিএনপির এই অতিশীপর বৃদ্ধ এবং নানা রকম রোগে জর্জরিত ব্যক্তিদের দিয়ে হবে না। আর এজন্য প্রয়োজন উপযুক্ত তরুণ নেতৃত্ব।

অবশ্য ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া দলে তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আর সেজন্য তিনি প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে শেষ পর্যন্ত তারুণ্যের উত্থান বিএনপিতে হয়নি। তবে এবার সিটি নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর সিনিয়র নেতারা মনে করছে তাদের সরে যাওয়ার সময় এসেছে। তাদের বদলে নতুনদেরকে জায়গা করে দেওয়া দরকার। বিশেষ করে এবার সিটি নির্বাচনে বিএনপির দুই তরুণ ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল যেভাবে প্রচারণা করে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন, যেভাবে দলের নেতাকর্মীদেরকে একাট্টা করতে পেরেছেন এতে বিএনপি সব হারানোর পরও আশার আলো দেখছে।

বিএনপি মনে করছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে টার্গেট করে যদি তরুণদের নেতৃত্বে আনা যায় এবং তরুণদের দিয়ে দল সংগঠিত করা যায় তাহলে বিএনপির সংগঠন হিসেবে টিকে থাকার একটি সম্ভাবনা রয়েছে। না হলে বিএনপি মুসলিম লীগের মতোই এক সময় বিলীন হয়ে যাবে বলে দলের নেতাকর্মীরাই স্বীকার করছে।

তরুণদের মধ্যে যাদের কথা বিএনপিতে বিভিন্ন সময় আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছে মেয়র নির্বাচনী প্রার্থীতা করা ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল। বিএনপির নারী কোটায় নির্বাচিত এমপি রুমিন ফারহানা, যুব দলের সাবেক নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ আরো অনেক তরুণ নেতা রয়েছেন।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, আমরা একটা পরিকল্পনার কথা ভাবছি। আওয়ামী লীগে যেমন সিনিয়র নেতারা উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছে সেরকম ভাবে বিএনপিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও মির্জা আব্বাসের মতো প্রবীণ নেতা উপদেষ্টামণ্ডলীতে চলে যাবেন। আর দলের স্থায়ী কমিটি বা দলের মূল নেতৃত্বে থাকবেন তরুণ নেতারা।

তরুণ নেতাদের নেওয়ার পেছনে বিএনপির প্রধান যুক্তি হলো তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতে পারবেন এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া তারা ধীরে ধীরে তরুণদের দিয়েই সংগঠন শক্তিশালী করতে পারবে।

বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বর্তমানে যে সাংগঠনিক কাঠামো সেই সাংগঠনিক কাঠামোয় বিএনপি চট জলদি আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাবে এরকম কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং বিএনপির এখন প্রয়োজন নিজেদের সংগঠনকে গোছানো। সংগঠনের তৃণমূলকে শক্তিশালী করা। আর তৃণমূলকে নিয়ে পর্যায়ক্রমে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা। এরপর ধাপে ধাপে একটি সরকার বিরোধী একটি আন্দোলন গড়ে তোলা। আর এটার জন্য তরুণ নেতৃত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এর আগেই বিএনপিতে এ বছরের কাউন্সিল সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব আনার কথা ছিল। কিন্তু সিটি নির্বাচনের কারণে তা পিছিয়ে গেছে। এখন বিএনপির নতুন করে কাউন্সিলের তোরজোর শুরু করবে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে। সেখানে সিনিয়র নেতাদের হটিয়ে তরুণদের হাতে নেৃতৃত্ব তুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। যেন বিএনপি দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করতে পারে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে