আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:২০

একে একে পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছেন প্রবীণ আ'লীগ নেতারা

অনলাইন ডেস্ক
একে একে পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছেন প্রবীণ আ'লীগ নেতারা

একে একে না ফেরার দেশে চলে যাচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের কার্য-নির্বাহী সংসদের দেশ বরেণ্য নেতৃবৃন্দগণ। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন জিল্লুর রহমান, আবদুস সামাদ আজাদ, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল জলিল, মোঃ শামসুর রহমান খান শাহজাহান, কৃষিবিদ মোঃ শওকত মোমেন শাহজাহানের মতো অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদরা।

সর্বশেষ এ তালিকায় যুক্ত হলো আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নাম। রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তিনি। তার মৃত্যু শোকাহত করেছে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব রাজনীতিবিদকে। শোক প্রকাশের পাশাপাশি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলেও মত দিয়েছেন তারা।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে শোকাহত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘তার (সুরিঞ্জত সেনগুপ্ত) মৃত্যুতে বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এটা সহজে পূরণ হবে—এটা মনে করার কারণ নেই।’

অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিকদের চলে যাওয়া যে দেশ ও জাতির জন্য বড় ক্ষতি, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে আরেকবার যেন সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘তিনি (সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত) একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন। আমি দল (বিএনপি) ও দলের চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে তাকে শ্রদ্ধা জানাই। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।’

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে তার রাজনৈতিক জীবনে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যে অবদান রেখেছেন তা জাতি কোনোদিন ভুলবে না। তিনি একজন দক্ষ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে দেশ ও দেশের মানুষের অধিকারের পক্ষে সব সময় সোচ্চার থেকেছেন। দেশের স্বাধিকারের আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রামে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। আমাদের রাষ্ট্রীয় সংবিধান প্রণয়নে একজন অন্যতম রচয়িতা হিসেবে তার ভূমিকা এ দেশের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে।’

দল-মতনির্বিশেষে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ এসব রাজনীতিবিদদের কাছে দেশ-জাতি ঋণী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ থেকে শুরু করে বর্তমানের গণতান্ত্রিক ধারা, দেশের বর্তমান অগ্রযাত্রা- সবকিছুতেই রয়েছে এসব প্রবীণ-অভিজ্ঞ নেতাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা-সময়োপযোগী ভূমিকায়। সেই ভূমিকা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে স্বীকার করে নেন সবাই।

একে একে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিবিদদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একধরনের শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে, বিভিন্ন সময় (ওই নেতাদের স্মরণে) এমন কথা বলে আসছেন বর্তমান রাজনীতিবিদেরা। বর্তমানে যেসব অভিজ্ঞজন রয়েছেন, রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদেরও বয়স হয়েছে। পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতায় একদিন তাদেরও চলে যেতে হবে। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের এই চলে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট শূন্যতা কি বর্তমানের তরুণ রাজনীতিবিদেরা পূরণ করতে পারবেন? নাকি সেই শূন্যতা থেকে যাবে চিরকাল? এমন প্রশ্নও ভাবাচ্ছে রাজনীতিবিদদের অনেককেই।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘অনেক সিনিয়র নেতাই চলে যাচ্ছেন। যারা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাদের শূন্যস্থান পূরণ করা খুবই কঠিন। তার পরও এখন যারা বেঁচে আছেন তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুনদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

জিল্লুর রহমান, আবদুর রাজ্জাকদের নাম উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা চলে যাচ্ছেন। বর্তমানের রাজনীতিতে ব্যবসায়ী, পেশাজীবীরা বেশি আসছেন। তবে অনেক তরুণ ও মেধাবী রাজনীতিক আছেন তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।’

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুতে রবিবার রাতে জাতীয় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যারা বয়োবৃদ্ধ হচ্ছি তাদের তো চলে যেতেই হবে। তবে নতুন যারা, তারা যেন মুক্তিযদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে পারে সেটাই চাই। কারণ, একটা আদর্শ নিয়ে, লক্ষ্য নিয়ে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশ স্বাধীন করে গেছেন।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে