আপডেট : ১৫ মে, ২০১৬ ০৮:৩১

আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে নতুন বিতর্কে বিএনপি

বিডিটাইমস ডেস্ক
আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে নতুন বিতর্কে বিএনপি

দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপির মধ্যেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কারণ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাই বুঝতে পারছেন না আসলে আসলামের সঙ্গে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টি নেতা মেন্দি এন সাফাদির বৈঠক হয়েছে কি না। আবার বৈঠক বা দেখা হলেই এর কোনো রাজনৈতিক তাত্পর্য বা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কি না এ নিয়েও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে বিএনপির মধ্যে। ফলে ঘটনাটি সম্পর্কে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই খোঁজখবর নিচ্ছেন।

গত বছর ২৯ জুন জেরুজালেম অনলাইনে প্রকাশিত এক সাক্ষাত্কারে সাফাদি বলেছেন, বাংলাদেশ ছেড়ে বর্তমানে ইউরোপে অবস্থানরত সরকারবিরোধী নেতারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁকে লবিস্ট হিসেবে নিয়োগ করতে চান। এর উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি নির্বাচন আদায় করা। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে আলোচনার জন্য তাঁকে ভারতে আসতে বলা হয়েছে। কারণ ইসরায়েলি হিসেবে তাঁর বাংলাদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগের ওই রিপোর্ট গতকাল শনিবার অনলাইনে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির অনেক নেতার হাতেও এটি চলে যায়। এ ছাড়া গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এ ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো দল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইলে সেটি হবে রাজনৈতিক আত্মহত্যা।

ফলে ঘটনা যাই হোক, আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে বিএনপি চাপের মধ্যে পড়েছে। দিল্লিতে আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে সাফাদির তোলা ছবি এবং বাংলাদেশে তা মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার কারণে বিএনপির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে বিএনপির অধিকাংশ নেতা মনে করছেন।

তাঁরা বলছেন, এর পরও আসলাম চৌধুরী বিএনপিতে থাকেন কী করে! পাশাপাশি আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে বিএনপি আবারও বিপাকে পড়ায় কারা তাঁকে যুগ্ম মহাসচিব পদে নিয়োগ দিয়েছে, দলের মধ্যে এ প্রশ্ন নতুন করে উঠেছে। বলা হচ্ছে, হঠাৎ করেই চট্টগ্রামের উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলামকে দলের যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে। এর পেছনে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন রয়েছে বলেও বিএনপিতে আলোচনা আছে।

আবার বিএনপির অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, লন্ডনে বসবাসরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোরতর সমর্থক হিসেবে তাঁরই ইচ্ছায় গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে আসলামকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দলকে রক্ষায় তাঁকে বহিষ্কার করা উচিত বলে দলটির অধিকাংশ নেতা মনে করেন।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী সেখানে কী করেছেন না করেছেন আমরা জানব কী করে। কারণ তিনি আমাদের কারো সঙ্গে কথা বলে বা হাইকমান্ডের নির্দেশে সেখানে যাননি। গিয়েছেন ব্যবসার কাজে। ফলে সেখানে তিনি যাই করেন না কেন সেটি তাঁর ব্যক্তিগত দায়িত্ব। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ঘটনা যাই হোক, আসলাম চৌধুরীকে জড়িয়ে যা হচ্ছে তা বিএনপির রাজনীতির জন্য ভালো নয়। তিনি বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি হাইকমান্ডের এখতিয়ার। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ঘটনা সম্পর্কে অবশ্যই চেয়ারপারসন খোঁজখবর নেবেন। কারণ আসলে তিনি কী করেছেন আমরা জানি না। তিনি বুঝে, নাকি না বুঝে কী করেছেন সে বিষয়ে আমরা নিজেরাও সংশয়ের মধ্যে আছি। কারণ এটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে।’

এক প্রশ্নের জবাবে গয়েশ্বর বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় আসলাম চৌধুরী কিছু করেননি বা সেখানে যাননি। এ কারণেই চেয়ারপারসন তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

এদিকে ঘটনা নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আসলাম চৌধুরী আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও গতকাল তিনি কোনো ফোন ধরেননি।

সূত্র-কালের কণ্ঠ

জেডএম

উপরে