আপডেট : ৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:০৬

‘খালেদা জিয়া ছাড়া আপনাদের ৪পয়সা দাম নেই’

অনলাইন ডেস্ক
‘খালেদা জিয়া ছাড়া আপনাদের ৪পয়সা দাম নেই’

বড় দলের অহমিকায় ভুগতে থাকা বিএনপির নেতাদের ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া ছাড়া আপনারা অস্তিত্বহীন, মূল্যহীন। আপনাদের চার পয়সার দাম নেই। এত বড়াই করেন কেন?’ গতকাল বুধবার ২০ দলীয় জোটের নতুন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে আলাপকালে সাবেক বিএনপির নেতা এবং এলডিপির প্রধান ওই মন্তব্য করেন।

গত মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) কর্নেল (অব.) অলি ২০ দলীয় জোট ভাঙার হুমকি দিয়েছিলেন এক অনুষ্ঠানে। শরীকদের সম্মান না করার জন্য তিনি ক্ষোভ প্রকাশও করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতেই, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ২০ দলের নতুন সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান টেলিফোন করেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে।

নজরুল ইসলাম খান তাঁকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এধরনের বক্তব্য না রাখার অনুরোধ করেন। জবাবে অলি আহমেদ ক্ষেপে যান। তিনি বলেন ‘এই বিএনপি কি আমরা প্রতিষ্ঠা করেছিলাম? বেগম জিয়া দুই মাস জেলে আর আপনারা গায়ে বাতাস দিয়ে বেড়াচ্ছেন। ২০ দলকেও কাজ করতে দিচ্ছেন না। আপনাদের মতলব জাতির কাছে পরিষ্কার।’

কর্নেল (অব.) অলি বলেছেন, ‘এখনই কিছু করুন না হলে জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না।’

গত মঙ্গলবার রাজধানীতে ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির ঢাকা মহানগর (উত্তর) সম্মেলনে নেতারা বলেন, এপ্রিলের মধ্যে আসন ভাগাভাগির সমঝোতা না হলে তিনশ আসনে ছয় শ প্রার্থী দেয়ার ক্ষমতা রাখে বলে বিএনপিকে সতর্ক করেন শরিক দল এলডিপির একজন নেতা।

জোট নেতাদের অভিযোগ, সরকারের নানা প্রলোভন উপেক্ষা করেও তারা বিএনপির সঙ্গে জোটে থেকেছেন। কিন্তু তার মূল্যায়ন হয়নি।

জোট এখন ভঙ্গুর অবস্থায় আছে, সেই বিষয়টি স্মরণ করিয়ে জোট বাড়ানোর নামে যেনতেন দলকে টানার সমালোচনা করেন।

এতে অতিথি হয়ে আসা ২০ দলের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, এলডিপির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ কয়েকজন জোটের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনায় মুখর ছিলেন।

সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, ‘গত নির্বাচনের (২০ দলের বর্জন করা দশম সংসদ নির্বাচন) আগে এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, ন্যাপকে সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, নানা প্রলোভন ছিল, কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছি গণতন্ত্র ও জোটের স্বার্থে। কিন্তু দুঃখ লাগে যাদের জন্য এই ত্যাগ করেছি তারা গত পাঁচ বছরে একবারও এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেনি।’

‘বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশি। সে কারণে জোটে বর্তমানে ক্রান্ত্রিকাল, ভঙ্গুর অবস্থা চলছে। এ থেকে উত্তরণে বিএনপিকে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।’

রেদওয়ান আহমেদ বলেন, ‘যারা যোগ্য তাদের কাজ করতে বলেছি। বিএনপি এলডিপি সভাপতিসহ নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে যোগ্যদের মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন।’

রেদওয়ান জানান, দশম সংদ নির্বাচনে তারা অংশ নিলে দশটি আসন, দুইজন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী দেয়ার প্রস্তাব ছিল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

‘কিন্তু আমরা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। আমরা বিসর্জন দিয়েছিলাম। বিএনপিকে বলব, আমরা যারা নিবন্ধিত দল তাদের মূল্যায়ন করুন। কে কতজন মনোনয়ন চান তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করুন। তাহলে কোথায় জোটের মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর হবে। জোটের শরিকদের পথ পরিষ্কার করে দিতে হবে।’

এলডিপির নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘জোটের মধ্যে নিবন্ধিত আটটি। এই দলগুলোর মধ্যে কেউ কেউ আছে যারা গত পাঁচ বছরে একটি মানববন্ধনও করেনি। তাই আজকে নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে আলোচনা করতে হবে নিবন্ধিত দলের নেতাদের সঙ্গে। অবশ্যই করতে হবে।’

এপ্রিলের মধ্যেই আলোচনার দাবি জানিয়ে সেলিম বলেন. ‘বিএনপি যদি ৩০০ আসনে নয়শ প্রার্থী তালিকা করতে পারে, এলডিপি তাহলে তিনশ আসনে কমপক্ষে ৩০০ জন প্রার্থীর তালিকা করতে পারে।’

‘এই সমস্যার সমাধান যদি এপ্রিলের মধ্যে করা না হয় তাহলে মনে করবো আপনাদের (বিএনপি) ইচ্ছার অভাব আছে। আপনারা সমাধান করেন কাকে কোথায় কোন আসন দিবেন।’

ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকা হয়। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, চা খেয়ে আমরা চলে আসি। যে অহিংস গান্ধিবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তির আশা করছি এটা সম্ভব হবে এটা অন্য কেউ বিশ্বাস করলেও আমি বিশ্বাস করি না।তাকে মুক্ত করতে হলে জোটকে কার্যকর করতে হবে।’

‘জোট ভেঙে যাচ্ছে-গণমাধ্যমের এমন গুঞ্জনের কথা তুলে ধরে মোস্তফা বলেন, সময়ের পরীক্ষায় আমরা পাস করেছি। বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিলে কর্নেল অলি আহমেদ মন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু সেই নির্বাচনে আমরা কেউ অংশ নেয়নি। তাই বারবার রাজনৈতিক পরীক্ষা দেয়ার দরকার হয় না।’

গত কিছুদিন থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও দলটির নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা শরিক রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বসে থাকতে নারাজ। বরং জোটে থাকা শরিক দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছে, নিজেদের রাজনৈতিক পরিচিতি তুলে ধরতে সোচ্চার হচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে