আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০১৬ ১০:৩১

এবারও ফিরছেন না সোহেল তাজ

অনলাইন ডেস্ক
এবারও ফিরছেন না সোহেল তাজ

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শহীদ তাজউদ্দীনের ছেলে তিনি। রাজনীতিতে এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। তারপর নাটকীয়ভাবে নিজেকে সরিয়ে নিলেন আড়ালে। তার এই সরে যাওয়ার রহস্য আজও কাটেনি।

কিন্তু তাকে নিয়ে সরকার, রাজনৈতিক মহল আর গণমাধ্যমে আলোচনা থেকে গেছে বহুদিন। মাঝখানে আলোচনা ঝিমিয়ে পড়লেও এখন আবার নতুন করে তিনি আলোচনায় আসছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনকে ঘিরে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আবার কি সক্রিয় হচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ? তিনি কি স্থান পাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নির্বাহী কমিটিতে? এমনি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সোহেল তাজ। কিন্তু পাঁচ মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ৩১ মে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। এরপর আর কোনো যোগোযোগ রাখেননি সরকার ও দলের সঙ্গে।

তার এই পদত্যাগ কিংবা দেশছাড়ার প্রসঙ্গে সোহেল তাজ স্পষ্ট করে কিছু বলেননি কখনো। তবে তার এই ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে দলের প্রভাবশালী এক নেতার দুর্ব্যবহারকে দায়ী করে থাকেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মন্ত্রিত্ব ছাড়ার প্রায় তিন বছর পর ২০১২ সালে সংসদ সদস্য পদ থেকেও ইস্তফা দেন সোহেল তাজ। এরপর কখনোই দলের কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হননি। এমনকি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও কখনো সাক্ষাৎ করেননি। তবে এ বছরের জানুয়ারিতে সোহেল তাজ ও তার দুই বোন গণভবনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।

তখন সংশ্লিষ্টদের ধারণা ছিল, আবার রাজনীতিতে ফিরে আসছেন জাতীয় নেতার এ ছেলে। কিন্তু সোহেল তাজ মিডিয়াকে জানিয়ে দেন, আপাতত রাজনীতিতে ফিরছেন না। ‘তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর কাজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্বে নিয়ে আসবে দল। তবে তাদেরই আনা হবে, যারা অতীতে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু যারা অতীতে রাজনীতিতে ছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনীতিতে সক্রিয় নন, তাদের দায়িত্বে আসার সম্ভবনা খুবই কম।

সোহেলে তাজ অওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আবার সক্রিয় হবেন কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, ‘জোট সরকারের সময় সরকারবিরোধী সব আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন সোহেল তাজ। এরপর দল ক্ষমতায় আসার পর তার মূল্যায়নও করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। কোন বিশেষ কারণে সোহেল তাজ পদত্যাগ করলেন সেটা আজও জানি না। কিন্তু সম্মেলনকে ঘিরে তার আসার গুঞ্জন শোনা গেলেও দলীয় কোনো পদে আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’

সোহেল তাজের পদত্যাগের পর ওই আসনে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তার বোন সিমিম হোসেন রিমি। রিমি বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্য্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে