আপডেট : ২৯ জুলাই, ২০১৯ ১৭:৪৫

গাজীপুরে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

অনলাইন ডেস্ক
গাজীপুরে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

গাজীপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ৬ মাসে স্থানীয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মোট ৭২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। রবিবারও (২৮ জুলাই) এ হাসপাতালে ১০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে রানী বিলাসমণি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহরুখ জামান সিক্ত। গত ২০ জুলাই সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। ২৩ জুলাই হাসপাতালে আসলে রক্ত পরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। তখন থেকেই সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকে সাধারণ খাবার স্যালাইন ও প্যারাসিটামল দেওয়া হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগরের চান্দনা এলাকার বাসিন্দা সাকিব হাসান এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাসের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি জানান, গত ২৪ জুলাই জ্বরে আক্রান্ত হন। মাথা, শরীর ও চোখ ব্যথা ছাড়াও পানিসহ যেকোনও স্বাভাবিক খাবারে বমি বমি ভাব এবং বমি হয়। তিনি গত ২৭ জুলাই হাসপাতালে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালেই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পান। পেট ব্যথা এবং পাতলা পায়খানাও হচ্ছে তার।

পূর্ব চান্দনার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ স্থানীয় হাসান তানভীর তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। ২৪ জুলাই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৫ জুলাই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, জ্বরের পাশাপাশি মাথা, চোখ, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও পাতলা পায়খানা হচ্ছে।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ বলেন, চলতি বছর এ হাসপাতাল থেকে মোট ৭২ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত মে মাস থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫১ জন রোগী ডেঙ্গু সংক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে মোট ২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ এবং দুইজন নারী। এদের মধ্যে রবিবার ভর্তি হয়েছেন ১০ জন।

তিনি দাবি করেন, এ রোগে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া কোনও রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তাছাড়া চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোরও প্রয়োজন পড়েনি।

চিকিৎসা কর্মকর্তা আরও জানান, হাসপাতালের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু রোগীদেরকে প্যারাসিটামল ও খাবার স্যালাইন দেওয়া হয়। রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ কমে গেলে ডেঙ্গু রোগী কিছুটা ঝুঁকিতে পড়ে যান। তার জন্য উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালের পক্ষ থেকে চলমান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি হাসপাতালের অভ্যন্তরে ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর মহানগর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে