আপডেট : ১২ জুলাই, ২০১৭ ১৮:৩৭

দুই পুলিশের পরিকল্পনাতেই সাভারে তরুণী ধর্ষণ!

অনলাইন ডেস্ক
দুই পুলিশের পরিকল্পনাতেই সাভারে তরুণী ধর্ষণ!

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কনস্টেবল মো. রেজাউল ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কনস্টেবল আফজাল হোসেনের পরামর্শেই দুই তরুণীকে সাভারের লিজেন্ড কলেজ ভবনে ডেকে আনা হয়েছিল! এই ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ও  ডিবি পুলিশের সোর্স লিটন আলী মণ্ডল এই দাবি করেছে। দুই কনস্টেবলের পরিকল্পনাতেই ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুই তরুণীকে সারা রাত আটকে রাখা হয় এবং ধর্ষণ করা হয় বলেও দাবি করেছে লিটন।

বুধবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাভার মডেল থানা হাজতে লিটন আলী মণ্ডলের কথোপকথন থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়। তবে লিটনের দাবির ব্যাপারে কনস্টেবল আফজাল হোসেন বলেন,‘আমি দুই তরুণী ধর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’ এ ব্যাপারে মন্তব্য নেওয়ার জন্য অন্য অভিযুক্ত রেজাউলের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

লিটনের দাবি, দুই তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে লিজেন্ড কলেজ ভবনের মালিক কবির হোসেনকে ফাঁসিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানোর উদ্দেশ্য ছিল তাদের। সম্প্রতি কবির হোসেন লিটনকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। তাই ক্ষুদ্ধ হয়ে কবিরকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে সে। লিটন বলে, ‘তরুণীদের চিৎকারে মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয়রা জড়ো হওয়ায় আমাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। ভোররাতের দিকে রেজাউল ও আফজাল আমাকে ওই ভবন থেকে বের করে দেয়।’

তবে ধর্ষণের এ ঘটনায় রেজাউল ও আফজালের জড়িত থাকার কথা সরাসরি স্বীকার করেননি সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারশেন) শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তবে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে লিটন। এ ঘটনার সঙ্গে আরও ব্যক্তিদের জড়িত থাকার কথাও জানিয়েছে সে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। এ কারণে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ব্যাপারে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’ ধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য তাদের হাতে এসেছে বলেও দাবি করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, ‘ধর্ষণ মামলার মূল আসামি লিটন। সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আজ (বুধবার) দুপুরে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে লিটনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয় স্পষ্ট হবে।’

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কবির হোসেনের এক আত্মীয় বলেন, ‘লিটন লিজেন্ড কলেজ ভবনের ছয় তলায় একটি মেসে ভাড়া থাকত। লিটনের কক্ষে এসবির কনস্টেবল রেজাউলসহ (ব্যাচ নং ২৬৬৩) পুলিশের আরও কয়েকজন কনস্টেবল মাঝে মাঝেই আসতেন। তারা সবাই মিলে সেখানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক সেবন করতেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাস তিনেক আগে লিটন আরও একবার গ্রেফতার হয়। এতে কবির হোসেন তাকে মেস ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আর এতে সে কবির হোসেনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং কবির হোসেনকে ফাঁসানোর জন্য দুই তরুণীকে ওই ভবনে নিয়ে আসে।’

ধর্ষণের ঘটনায় রেজাউল ও আফজালের জড়িত থাকার অভিযোগের ব্যাপারে ডিবি পুলিশের ওসি এএসএম সায়েদ মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় রেজাউল ও আফজালের জড়িত থাকার অভিযোগ শুনেছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় রেজাউল ও আফজালের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইননানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই দিনগত রাতে সাভারের ডিবি কার্যালয়ের পাশের লিজেন্ড কলেজের ভবনে ধর্ষণের শিকার হন দুই তরুণী। মিউজিক ভিডিও-এর মডেল বানানোর কথা বলে তাদের ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। ৭ জুলাই ভোরে তাদের ওই ভবন থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় ভবনের দুই নিরাপত্তাকর্মী মোকারম হোসেন (১৯) ও মিজানুর রহমানকে (২৮) আটক করা হয়। পরে ওইদিন বিকালে সাভার মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন এক তরুণী। মামলায় দুই নিরাপত্তাকর্মী মোকারম ও মিজান এবং ডিবি পুলিশের সোর্স লিটনকে আসামি করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার পর লিটন ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথাও স্বীকার করেছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে