আপডেট : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:১৫

ডালাস ও নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি সৌরভ দম্পতির জানাজা সম্পন্ন

আমেরিকা প্রতিনিধি
ডালাস ও নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি সৌরভ দম্পতির জানাজা সম্পন্ন

যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাসে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি মাহবুবুল ইসলাম সৌরভ দম্পতির দ্বিতীয় নামাজে জানাযা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় নিউ ইয়র্কের জামাইকা মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত বুধবার বাদ জোহর টেক্সাসের ডলাস রিচার্ডসন মসজিদে প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডালাস ও নিউ ইয়র্কে সৌরভ দম্পতির নামাজে জানাযায় প্রচুর সংখ্যক প্রবাসী অংশগ্রহণ করেন।  নিউ নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল মুসলিম কবরস্থানে তাঁদের মরদেহ দাফন করা হবে।

গত শনিবার সন্ধ্যা ৮টার দিকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের নরমাঙ্গি শহরের ৩৯ নম্বর মহাসড়কে দুই প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহবুবুল সৌরভ ও তাঁর স্ত্রী সাফিনা সৌরভ দুর্ঘটনাস্থলেই  নিহত হন। গাড়ির চালক মাহবুবুল সৌরভ দম্পতির ছেলে শাদাব সৌরভ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন পর্যন্ত চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। পরিবারের কারও সঙ্গেই এখনো তেমন কোনো কথা বলেনি। চিকিৎসকরা বলেছেন, শাদাব সৌরভকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। কিছু পত্রিকায় এ দুর্ঘটনার খবরটি রবিবারের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে জানান মাহবুবুল সৌরভের ছোট ভাই রুহুলুল ইসলাম রুহেল। গত শনিবার সপরিবারে টেক্সাসে বেড়াতে গিয়েছিলেন সৌরভ দম্পতি এবং ঐদিনেই সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

রুহেল আরো জানান, দুর্ঘটনায় পতিত অপর গাড়ির চালকও ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তার গার্লফ্রেন্ড গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

কীভাবে তাঁরা এ দুর্ঘটনার শিকার হলো এ প্রশ্নের জবাবে রুহেল বলেন, নরমাঙ্গি শহরের ৩৯ নম্বর দক্ষিণ দিকে গাড়িটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন শাদাব সৌরভ (২৩)। পাশে বসা ছিলেন তাঁর বাবা সৌরভ এবং তাঁর মা সাফিনা সৌরভ বসেছিলেন পিছনের আসনে। ঐ মহাসড়কে উত্তরমুখি হয়ে দ্রুতবেগে ছুটে আসা অপর গাড়িটি হঠাৎ করেই রং ওয়েতে ঢুকে পড়লে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলেই তাঁর ভাই ও ভাবিসহ অপর গাড়ির চালক কার্লস লোপেজ মারা যান। কার্লসের গার্লফ্রেন্ড লরা অলভেরাকেও  গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সৌরভ দীর্ঘদিন ধরে নিউ ইয়র্কের কুইন্সের এলমহার্ষ্টে বসবাস করতেন। পাঁচভাই তিন বোনের মধ্যে সৌরভ ছিলেন তৃতীয়। দুই ভাই ও এক বোন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। বর্তমানে সবাই ডালাসে অবস্থান করছেন। তাঁদের দেশের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি বলে জানান রুহেল। এ ঘটনায় টেক্সাস, নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে