যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ‘ক্যাসিনো সম্রাট’

ক্যাসিনো কাণ্ডে আলোচিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকের অবশেষে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)।

রোববার (০৬ অক্টোবর) ভোর পাঁচটার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে এক সহযোগীসহ সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারি পরিচালক এএসপি মিজানুর রহমান সম্রাটকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের শুরু থেকেই নজরদারিতে ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারনে তিনি দেশ ছাড়তে পারেননি।

এদিকে চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাতে ওই এলাকা্র একটি বাড়ি ঘিরে রাখে র‌্যাব। পরে ভোরের দিকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আরও জানান, কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন সম্রাট।

আলকরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলৈছেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। তবে স্থানীয়রা তাকে ফোন করে ঘটনা সম্পর্কে বলেছেন।

প্রসঙ্গত, আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ঢাকার জুয়াড়িদের কাছে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ নামেই পরিচিত। জুয়া খেলাই তার পেশা ও নেশা। প্রতিমাসে দেশের বাইরেও যান জুয়া খেলতে।

সম্প্রতি রাজধানীতে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন সম্রাটের ডানহাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপর ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার মাফিয়া আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দুইজনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে।

তারা গ্রেপ্তার হও্য়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এতে করে বেকায়দায় পড়ে যান সম্রাট।

এরপর গা ঢাকা দেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। আড়াল থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে নানা তৎপরতা শুরু করেন। তবে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণৈ শেষ রক্ষা হল না যুবলীগের এই প্রভাবশালী নেতার।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য