পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ১০ রাইফেল ও সেগুলোর মূল্য তালিকা

আপনারা সবাই জানেন, যুদ্ধে সৈনিকদের সবচেয়ে বড় ভরসা রাইফেল। হাতে ভালো রাইফেল থাকলে শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করা যায় সহজেই। বিশ্বের ইতিহাসে মানুষের সৃষ্টি করা মারণাস্ত্রের তালিকায় বন্দুকের স্থান বোধহয় সবচেয়ে সমৃদ্ধ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে কখনো নিরাপত্তা, কখনো শত্রুকে নিকাশ করতে মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা ও শৈলীকে যেভাবে কাজে লাগিয়েছে তা দেখলে অবাক হতে হয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বে এক লক্ষেরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র আবিষ্কৃত ও ব্যবহৃত হয়েছে। সৈন্য বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা অত্যাধুনিক এবং বিধ্বংসী রাইফেল ব্যবহার করা শুরু করেছে। চলুন জেনে নিই বাংলাদেশী টাকায় পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর রাইফেলগুলির মূল্য তালিকা__

১) বিডি-০৮ রাইফেল

তালিকার প্রথমেই থাকছে বিডি-০৮ রাইফেল। এটা মূলত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর স্ট্যান্ডার্ড সাব-মেশিনগান। এটা মুলত টাইপ-৮১ এর উন্নত সংস্করণ। বিডি-০৮ রাইফেলটা অনেকটা একে-৪৭ রাইফেলের মতো হলেও এরমধ্যে অনেক মডিফিকেশন করা হয়েছে। যেমন এতে ফিক্সড গ্যাস অপারেটরের বদলে ফ্লোটিং গ্যাস অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ঝাকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এর কার্যকরি দূরত্ব প্রায় ৫০০ মিটার। এটি দ্বারা গ্রেনেড নিক্ষেপ করা যায়। সব মিলিয়ে এটি একে-৪৭ থেকে আরও বেশি কার্যকর। বাংলাদেশে তৈরি বিধায় এর প্রতি ইউনিট মূল্য মাত্র ৩০ হাজার টাকা।

২) এম-৪ কারবাইন

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এম-৪ কারবাইনের ব্যবহার মূলত কমান্ডো আর্মস হিসেবে। ক্লোজ কমব্যাট প্লেস, নাইট অপারেশন ও নেভাল অপারেশনে এম-৪ এর দক্ষতা অত্যন্ত অতুলনীয়। এর মূল শক্তি অসাধারণ একুরেসি এবং ফায়ারিং রে। তবে ব্যাটলফিল্ডের ক্ষেত্র এম-৪ এর চেয়ে এম-১৬ বেশি ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের সোয়াট ও নেভীর কমান্ডোরা এই অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। এম-৪ কারবাইন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে থাকে মার্কিন সেনাবাহিনী। যার প্রতি ইউনিট মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ৭২ হাজার টাকা।

৩) একে-১২ রাইফেল

১৯৪৭ সাল থেকে যে একে-৪৭ রাইফেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার দাপট থামাতে রাশিয়ানরা ২০১২ সালে নতুন আরেকটি অস্ত্র বাজারে আনে। যার নাম একে-১২। এটি রাশিয়ান সেনাবাহিনীর বর্তমান মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একে একে-৪৭ রাইফেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একে-৪৭ এর মূল সমস্যা ছিল এর লক্ষভেদ ক্ষমতা। কিন্তু নতুন এই রাইফেলে রয়েছে অসাধারণ লক্ষভেদ ক্ষমতা। ২০১৩ সালে এটি সাধারণ জনগণের ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর প্রতি ইউনিট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

৪) ট্যাভোর টার-২১

এই ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্রটি ৯০ দশকের শুরুতে ইসরাইল নির্মান করে। এটি দেখতে অত্যন্ত জটিল কিন্তু সহজেই বহুমূখী কাজে এটিকে ব্যবহার করা যায়। ২০০৬ সালে এটিকে ইসরাইল সেনাবাহিনীর প্রধান অ্যাসল্ট রাইফেল হিসেবে গন্য করা হয়। ইসরাইল সরকার এই রাইফেলটি বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে রপ্তানি করে থাকে। জটিল গঠনের এই রাইফেলটিতে ৫.৫৬ মিলিমিটার রাইফেলের গুলি ব্যবহৃত হয়। এবং এর নলটিকে চাইলেই সহজেই অন্য নল দ্বারা প্রতিস্থাপন করা যায়। এই রাইফেলটি যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক নির্ভরযোগ্য ও অনেক দূর থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর প্রতি ইউনিট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।

৫) এইচ কে ৪১৬ অ্যাসল্ট রাইফেল

জার্মানির তৈরি এই অস্ত্রটি হেকলার অ্যান্ড কচ কোম্পানির ডিজাইন করা একটি অ্যাসল্ট রাইফেল। এই অস্ত্রটি মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অ্যাসল্ট রাইফেল। ২০০৫ সালৈ অস্ত্রটির ডিজাইন করা হয়। এম-৪ কারবাইনের জাতভাই হিসেবে একে মার্কিন সেনাবাহিনীতে স্থান দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে অস্ত্রটি ইউএস আর্মির ইন্ডিভিজ্যুয়াল কারবাইন কম্পিটিশনে অংশ নিয়ে বিশেষ স্থান লাভ করে। এই অস্ত্রটির প্রতি ইউনিট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

৬) স্টেয়ার এ ইউ জি

১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনী স্টেয়ার এ ইউ জি রাইফেলটিকে সার্বজনিন অ্যাসল্ট রাইফেল হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। রাইফেলটি আবিষ্কারের পর থেকেই এটিকে খুবই বৈপ্লবিক বলে মনে করা হয়। এবং দ্রুত এটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। অস্বাভাবিক বাহ্যিক নকশার এই রাইফেলটিতে ৫.৫৬ মিলিমিটারের গুলি ব্যবহৃত হয়। সিনথেটিক পদার্থ দিয়ে তৈরি স্টেয়ার এ ইউ জি অত্যন্ত হালকা এবং খুবই নির্ভরযোগ্য একটি যুদ্ধাস্ত্র। এটির ট্রিগার অর্ধেকটা টান দিলে একটি গুলি বের হবে, কিন্তু পুরোটা টান দিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুলি ছুড়তে থাকে। পৃথিবীর প্রায় ৪০টি দেশের সেনাবাহিনীতে এই রাইফেলটি ব্যবহৃত হয়। এই অস্ত্রটির প্রতি ইউনিট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

৭) এইচ কে জি-৩৬

১৯৯৫ সাল থেকে জার্মান সেনাবাহিনীকে জি-৩ অ্যাসল্ট রাইফেলের পরিবর্তে হেকলার অ্যান্ড কচ জি-৩৬ রাইফেল প্রদান করা হচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় ৪০টির বেশি দেশে জার্মানির তৈরি এই রাইফেলটি রপ্তানি হয়ে আসছে। রাইফেলটির গঠনপ্রণালী সরল এবং এটিতে ৫.৫৬ মিলিমিটারের গুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জার্মানি সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই রাইফেলটি তৈরি করে থাকে। এটির রয়েছে প্লাস্টিকের স্বচ্ছ ম্যাগাজিন যেটিতে ৩০টি পর্যন্ত গুলি থাকতে পারে। এছাড়া এটির সঙ্গে তিনটি পর্যন্ত অতিরিক্ত ম্যাগাজিন এবং ডুয়েল ডান ম্যাগাজিন প্রয়োজনে যুক্ত করা যেতে পারে। লক্ষবস্তুতে নিশানা করার জন্য এটির রয়েছে ডুয়েল সাইড সিস্টেম। এই অস্ত্রটির প্রতি ইউনিট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

৮) এফএন ইসকার অ্যাসল্ট রাইফেল

এই রাইফেলটি বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে তৈরি। বেলজিয়ামে ডিজাইন ও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অসাধারণ এই অ্যাসল্ট রাইফেলটি মূলত একটি নেক্সট জেনারেশন সুপার রাইফেল। র্তমানে পৃথিবীর প্রায় ২০ টি দেশের বিশেষ ও এলিট বাহিনী এই অস্ত্রটি ব্যবহার করছে। এফএন ইসকার তৈরিতে পূর্ববর্তী কোন রাইফেলের কৌশল প্রণালী অনুসরণ বা ব্যবহার করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত স্পেশাল অপারেশন গুলোতে এই অস্ত্রটি ব্যবহার করে থাকে। এই অস্ত্রটির প্রতি ইউনিট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

৯) এফ-২০০০ অ্যাসল্ট রাইফেল

এই অস্ত্রটি বিশ্বের প্রায় সবদেশের সেনাবাহিনীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অস্ত্র। এটির ডিজাইন করে বেলজিয়াম ভিত্তিক এফএন হাস্টেল নামের একটি অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি। এই অস্ত্রটি ২০০১ সালে সর্বপ্রথম আবুধাবিতে প্রদর্শিত হয়। এই অস্ত্রটির প্রধান বৈশিষ্ট হচ্ছে এতে রয়েছে একটি রিমুভাল হ্যান্ডগার্ড, যা অস্ত্র চালককে অস্ত্রটি চালনায় সাবলিল বোধ করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ওজনে হালকা এবং সাইজে ছোট কিন্তু মারাত্মক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা থাকায় এটি অনেক বাহিনীর প্রথম পছন্দ। এই অস্ত্রটির প্রতি ইউনিট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

১০) ফামাস

মামাস একটি দুর্দান্ত অ্যাসল্ট রাইফেল। ফ্রান্সের এম এ এস কোম্পানি এই রাইফেলটি তৈরি করে। বর্তমানে এই রাইফেলটি ফ্রান্স আর্মিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা, লেবানন, আরবদেশগুলো, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, সার্বিয়া, তিউনিসিয়া সেনাবাহিনী এই রাইফেলটি ব্যবহার করে থাকে। ওজনে হালকা, সহজে ব্যবহাযোগ্য, ব্যাপক ধংসাত্মক ক্ষমতা ও নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ক্ষমতার কারণে এটা বাহিনীগুলোর কাছে খুব জনপ্রিয়। বাহ্যিক দৃষ্টিতে রাইফেলটিকে সাধারণ মনে হলেও দামের ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে বেশি। এই অস্ত্রটির প্রতি ইউনিট মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

One thought on “পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ১০ রাইফেল ও সেগুলোর মূল্য তালিকা

মন্তব্য