অনলাইন ‘ক্যাসিনো’ আসলে কী, কিভাবে খেলা হয়?

ঢাকার ক্লাবপাড়ার ক্যাসিনোকাণ্ডের পর এবার আলোচনায় ‘অনলাইন ক্যাসিনো’। অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিম প্রধানকে থাইল্যান্ডগামী বিমান থেকে আটকের পর একে একে বেরিয়ে আসছে অবৈধ অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার মূল রহস্য।

রাজধানীর ক্লাবপাড়ায় ‘ক্যাসিনো’ সম্পর্কে মানুষ জানতে পারলেও  অনলাইন ক্যাসিনো আসলে কী সেটা জানতে উদগ্রীব মানুষ। তাদের প্রশ্ন ক্লাবগুলোর ক্যসিনোতে তো সরাসরি জুয়া খেলা হয় এটা আমরা জানি, তাহলে অনলাইন ক্যাসিনো বা জুয়া কিভাবে খেলা হয়? সেখানে আসলে কী হয়?

এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে যা জানা গেল সেটা হচ্ছে, আনলাইনে ‘ক্যাসিনো’ খেলতে হলে প্রথমত একটি গেমিং সফটওয়্যার মোবাইলে ইন্সটল করতে হয়। সেখানে অনেক ধরণের গেমস রয়েছে। গেমসগুলোতে প্রবেশ করতে হলে গ্রাহককে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন হয়। নির্ধারিত গেমসের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ টাকা অ্যাকাউন্টে থাকতে হয়, অন্যথায় খেলা সম্ভব হয় না। খেলা শুরুর পর নির্ধারিত ওই টাকা গ্রাহক খেলায় জিতলে তার অ্যাকাউন্টে চলে যায়, আর হারলে সেটা ক্যাসিনোর অনলাইন গেটওয়েতে জমা হয়।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন ক্যাসিনোর মধ্যে রয়েছে টি-২১ ও পি-২৪ গেম। এই গেমসগুলো কীভাবে খেলতে হবে এবং এর সদস্য কিভাবে হতে হবে তার নির্দেশনা অ্যাপসগুলোতে দেওয়া আছে বাংলায়। র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিম প্রধানই এই গেমসগুলো বানিয়েছিলেন সফটওয়্যারের মাধ্যমে।

অনলাইন ক্যাসিনোর বিষয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারওয়ার বিন কাশেম জানান, ‘অনলাইনে ক্যাসিনো খেলতে হলে একজন গ্রাহককে প্রথমে তার মোবাইলে পি-২৪ অ্যাপসটি ইন্সটল করতে হতো। এই অ্যাপস দিয়েই খেলঅ যেত বিভিন্নধরণের গেম। যে গেমগুলো খেলতে হলে খুলতে হতো নির্দিষ্ট ব্যাংক কিংবা বিকাশ অ্যাকাউন্ট। ভিসা কার্ড কিংবা মাস্টার কার্ডের মাধ্যমেও অ্যাকাউন্ট খোলা যেত। অ্যাকাউন্ট খোলার পর টাকা রিচার্জ করে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে তবে খেলা যেত গেমস। গেম খেলে জিতলে টাকা ফেরত আসতো গ্রাহকের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে। আর হারলে টাকা কাটা যেত। এভাবেই মূলত চলতো সেলিম প্রধানের অনলাইন ক্যাসিনো।

শুধু সেলিম প্রধান নয়, আরও অনেকেই জড়িত আছেন অনলাইন ক্যাসিনোতে। চীন, হংকং, কোরিয়াসহ পাঁচ দেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বাংলাদেশের অনলাইন ক্যাসিনো। ক্যাসিনো নিয়ে দেশজুড়ে যখন র‍্যাবের জোরদার অভিযান চলছে তখন মোবাইলে নীরবে চলছে এই অনলাইন ক্যাসিনো। প্রায় সবার পকেটে এখন স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ, ফলে সহজেই যুক্ত হতে পারছে জুয়ার সঙ্গে। এ যেন হাতের মুঠোয় ক্যাসিনো সুবিধা।

অনলাইনভিত্তিক এই জুয়ায় দিন দিনআসক্ত হয়ে পড়ছে দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষ। এমনই একটি জনপ্রিয় অনলাইন জুয়া ‘তিন পাত্তি গোল্ড’। এটি মূলত একটি অ্যাপলিকেশন। যে কেউ চাইলেই প্লে-স্টোর থেকে এটি ডাউনলোড করতে পারে। এটি এখন পর্যন্ত ৫০ মিলিয়নের অধিক মানুষ ডাউনলোড করেছে।

 ভারতীয় কয়েকজন নাগরিক বিদেশে বসে এই জুয়া পরিচালনা করেন। তবে বাংলাদেশে তাদের কয়েকশ ডিলার রয়েছে। রাত-দিন ২৪ ঘন্টাই চলে ;তিন পাত্তি গোল্ড’। কারণ এটি খেলতে কোন ক্লাবে যেতে হয় না। ভার্চুয়ালি ঘরে বসে নিজের মোবাইল ফোনেই এটা খেলছে জুয়াড়িরা। আর খোয়াচ্ছে অর্থকড়ি। অনলাইন এসব জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমান টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, সাথে সাধারণ মানুষের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও নিয়ে যাচ্ছে তারা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য