শামীম ওসমানের সঙ্গে কী সম্পর্ক জি কে শামীমের?

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‍্যাবের) হাতে আটক ‘টেন্ডার মাফিয়া’ জি কে শামীমের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আটক জি কে শামীম নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন। এমনকি শামীম ওসমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে গুঞ্জন উঠেছে। কী সম্পর্ক ছিল শামীম ওসমানের সঙ্গে? তার সঙ্গে কি কোন ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শামীম ওসমানের সঙ্গে জি কে শামীমের কোন ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল না। বরং শামীম ওসমানকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ পূরণ করতে চেয়েছিলেন জি কে শামীম। শামীম ওসমানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সরিয়ে নারায়ণগঞ্জের মেয়র হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন জি কে শামীম। আর এক্ষেত্রে শামীম ওসমানকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হতে চেয়েছিলেন জি কে শামীম। পরবর্তী মেয়র নির্বাচনে আইভীকে মনোনয়ন না দিয়ে তাকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয় সে জন্য তদবির করছিলেন জি কে শামীম। এজন্য একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে দেনদরবার করারচেষ্টা করেছিলেন বলেও জানা যায়। তবে কারও কাছ থেকে অবশ্য ইতিবাচক সাঁড়া পাননি জি কে শামীম।

শামীম ওসমানের কাছেও তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। জানা গেছে, এই আগ্রহ প্রকাশের মূল কারণ ছিল জি কে শামীম জানতেন শামীম ওসমানের সঙ্গে সেলিনা হায়াৎ আইভীর সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ। এই দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার খারাপ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জের দখল নেওয়ার ছক কষেছিলেন জি কে শামীম। সেই লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচী ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন জি কে শামীম।

অবশ্য শামীম ওসমান তাকে কোন আশ্বাস দিয়েছিলেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার এক মাস আগে যুবলীগের একজন প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপরে কথা বলার জন্য আশ্বাস চেয়েছিলেন জি কে শামীম।

জানা গেছে, জি কে শামীম ওই যুবলীগ নেতাকে বলেছিলেন যে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে যদি তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে তিনি ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করবেন। প্রয়োজনে আরও বেশি করবেন। এ ব্যাপারে টাকার কোন অভাব হবে না। যত টাকা লাগে তিনি দিতে প্রস্তুত আছেন।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের কোন নেতাই সেলিনা হায়াৎ আইভীর মতো পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতার বদলে জি কে শামীমের মতো ‘টেন্ডার মাফিয়াকে’ মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপরে ইতিবাচক সাড়া দেননি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য