‘মীর জাফর’ আতঙ্কে বিএনপি, সন্দেহের তীর এই নেতাদের দিকে!

১৪ বছরেরও অধিক সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি। দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন দলটির চেয়ারপার্সন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক। এ সময়ে দলটি সংসদ কিংবা রাজপথ কোথাও তেমন প্রভাববিস্তার করতে পারেনি। মুখর বাগাড়ম্বরই দলটির একমাত্র ভরসা। দলের এই অবস্থার জন্য বিএনপিরই কিছু সিনিয়র নেতা দায়ি বলে মনে করছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এরা দলে থেকে মীর জাফরের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে ধারণা তাদের। এই নেতারা প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করলেও তলেতলে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলে। এদের কারণেই দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আজও জেলে এবং ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। এদের কারণেই আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিএনপি।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে ফের ‘মীর জাফর’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ধারণা ছদ্মবেশী এসব নেতাদের বিতর্কিত ভুমিকা ৩০ জানুয়ারি বিএনপিকে আরও একবার ডুবাতে পারে। এদের কারণে ফের লজ্জায় পড়তে পারে বিএনপি।

বিএনপিতে ‘মীর জাফর’ হিসেবে যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন-

ড. কামাল হোসেন: বিএনপি নেতাকর্মীদের সন্দেহের তালিকায় প্রথমে রয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীকেই সমর্থন দিয়েছেন ড. কামাল। তবে এর ঠিক একদিন পরেই তাঁকে আবার দেখা গেছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে। সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. কামালের উপস্থিতি নিয়ে বিএনপিতে এখন তোলপাড় চলছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন ড. কামালের বিতর্কিত ভুমিকার কারণেই ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : সন্দেহর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে মির্জা ফখরুলই বিএনপিকে টেনে ঐক্যফ্রন্টে নিয়েছিলেন। মির্জা ফখরুলই সরকারের সঙ্গে আঁতাত ও লেনদেনগুলো করে থাকেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর কারণেই বিএনপির সংসদ সদস্যরা এখনও সংসদে আছেন। ফলে ৩০ জানুয়ারির নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের ভুমিকা কী হবে সেটা নিয়ে সন্দিহান বিএনপির নেতাকর্মীরা।

মির্জা আব্বাস : সন্দেহের তালিকায় এর পরেই আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মির্জা আব্বাস নিজে কিংবা তার স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস মেয়র পদে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন, তবে তারেক রহমান একক সিদ্ধান্তে সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনকে প্রার্থী করেছেন। ফলে শুরু থেকেই নাখশ মির্জা আব্বাস। যদিও ইশরাকের নির্বাচনী প্রচারণায় মির্জা আব্বাস ও আফরোজা আব্বাসকে দেখা যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন গণসংযোগে যোগ দিচ্ছেন। আর এখানেই সন্দেহ সাদেক হোসেন খোকার অনুসারীদের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সাদেক হোসেন খোকার ছেলের শুভাকাঙ্ক্ষী মির্জা আব্বাস কখনো হতে পারেন না। তিনি হয়তো গোপনে ইশরাককে পরাজিত করার মিশন নিয়েই মাঠে নেমেছেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় : শুরু থেকেই বর্তমান সরকারের অধীনে কোন প্রকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের। তিনি মনে করেন এসব নির্বাচন অর্থহীন, তবুও তাঁকে ইশরাকের নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি কতোটা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন সেটা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ : মওদুদ আহমেদ সবসময় বিএনপিতে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিসেবে রয়ে গেছেন। তাঁর পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ারই সন্দেহের চাদরে মোড়ানো। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কার্যক্রমের শুরুতেই তিনি বলে দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী হারবে। তারপর কিছু প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হবে এতটুকু ব্যাস। তাঁর এই বক্তব্য থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের সন্দেহ, তবে কি পাতানো খেলার কুশীলবদের একজন মওদুদ?

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য