ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়েছে যে যাত্রীবাহী বিমানগুলো

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে ইউক্রেনীয় বিমান পিএস ৭৫২। এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন বিমানটির ১৭৬ আরোহীর সবাই। ইতোমধ্যে ইরান এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ইরানের কাছে ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণের দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যাবে ইরানের আগেও এভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে যাত্রবাহী বিমান বিধ্বস্ত করার ঘটনা ঘটেছে। আজ আমরা পাঠকদের জানাবো সেসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা__

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স এমএইচ-১৭

ঘটনাচক্রে ইরানের হামলায় ইউক্রেনীয়ান বিমান বিধ্বস্তের আগের ঘটনাটি ঘটিয়েছিল ইউক্রেন নিজেই। ২০১৪ সালে নেদারল্যান্ডের অর্মস্টারডাম থেকে ২৯৮ যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ-১৭ বিমানটি। ইউক্রেন অতিক্রম করার সময় সেটা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। নিহত হন বিমানের আরোহী ২৯৮ যাত্রীর সবাই।

তখন পূর্ব ইউক্রেনে ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী রুশপন্থী বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। সে সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়ে মালয়েশিয়ার এই বিমানটি।

বেলারুশের বিমান ইলিউশন ২-৭৬

২৩ মার্চ, ২০০৭ সালে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বেলারুশিয়ান বিমান সংস্থার যুদ্ধবিমান ইলিউশন ২-৭৬ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ঘটে বিমানের আরোহী ১১ জন যাত্রী সবার। দুর্ভাগ্যবশত ওই ঘটনার দুই সপ্তাহ আগে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেলারুশের অপর একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই বিমান মেরামত করার জন্য বেলারুশিয়ান প্রযুক্তিবিদদের একটি দল নিয়ে সফর করছি ইলিউশন ২-৭৬ যুদ্ধবিমানটি।

রাশিয়ান বিমান টুপোলেভ-১৫৪

৪ অক্টোবর, ২০০১ সাল। ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিব থেকে রাশিয়ার নোভোসিবিরস্ক যাওয়ার পথে সাইবেরিয়া এয়ারলাইন্সের রাশিয়ান টুপোলভ-১৫৪ কৃষ্ণ সাগরের উপরে থাকা কালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়ে। ক্রিমিয়া উপকূলের ৩০০ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৭৮ জন যাত্রী।

ইরানি এয়ারবাস এ-৩০০

১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কবলে পড়ে ইরান এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস এ-৩০০। ইরানের বন্দর আব্বাস থেকে দুবাই যাওয়ার পথে পারস্য উপসাগর এলাকায় বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ৬৬ জন শিশুসহ ২৯০ জন আরোহীর সকলেরই সলিল সমাধি হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার বোয়িং ৭৪৭

১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৩ সাল। সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত হয় দক্ষিণ কোরিয়ার বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি। যাত্রীবাহী বিমানটিতে সোভিয়েত যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। সখালিন দ্বীপে এই এই দুর্ঘটনায় বিমানের ক্রু মেম্বরসহ ২৬৯ জন নিরীহ যাত্রী প্রাণ হারান। এই দুর্ঘটনার ৫ দিন পরে দায় ম্বীকার করে সোভিয়েত ইউনিয়ন।

লিবিয়ার আরব এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭২৭

২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ সালে রাজধানী ত্রিপোলি থেকে মিশরে কায়রো যাওয়ার পথে সিনাই মরুভূমিতে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলার শিকার হয় লিবিয়ার আরব এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭২৭ বিমানটি। সিনাই মরুভূমির ওপর থাকাকালে যুদ্ধবিমান থেকে লিবিয়ার বিমনটিতে হামলা চালায় ইসরাইল। এই দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা ১১২ যাত্রীর সবাই মারা যান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য