এবার নিজ দেশেই বিপাকে ইরান, চলছে বিক্ষোভ!

ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইউক্রেনীয় বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় বেশ বিপাকে পড়তে যাচ্ছে ইরান। এই ঘটনায় বিমানটির ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছে। বিমান ভূপাতিত করার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করায় ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর তেহরানে শত শত বিক্ষোভকারী ইরানের মিথ্যা বলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রথমে অস্বীকার করলেও দুর্ঘটনার তিনদিন পরে গত কাল ইরান স্বীকার করে যে, ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। মানবিক ভুলেই এমনটি হয়েছে বলে দাবি ইরানের। ওই দুর্ঘটনায় বিমানটিতে থাকা ১৭৬ আরোহী ও ক্রুর সবাই নিহত হয়।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের শরীফ ও আমির কবির নামে অন্তত দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। প্রথমে তারা দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে জড়ো হয়। কিন্তু সন্ধ্যা নাগাদ তা বিক্ষোভে রূপ নেয়।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা বিমান ভূপাতিত করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের এবং যারা এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মিথ্যা বলেছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানায়। পরে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এদিকে এক টুইট বার্তায় এই বিক্ষোভকে ‘অনুপ্রেরণামূলক’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দুর্ঘটনার পর থেকেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু প্রথম থেকেই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ভিডিও এবং বেশ কিছু প্রমাণ সামনে চলে আসায় অবশেষে বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হল তেহরান। পাশাপাশি ইরান এটাও জানিয়েছে অনিচ্ছাকৃতভাবে মানবিক ভুলেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এক টুইট বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সংকটের কারণে মানবিক ভুলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।

তিনি বলেন, এটি একটি বেদনাদায়ক দিন। সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেছে যে মানবিক ভুলেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। আমাদের জনগণ, ভুক্তভোগীদের পরিবার ও আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা, দুঃখ ও শোক প্রকাশ করছি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সব পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এর আগে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমান বিধ্বস্তের বিষয়টি নাকচ করে এটাকে ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক যুদ্ধ বলে দাবি করে আসছিল তেহরান। ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবাই বলেছিলেন, ‘এসব প্রতিবেদন ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক যুদ্ধ। যেসব দেশের নাগরিক এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তারা নিজেদের প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন। বিমানের ব্ল্যাক বক্স তদন্ত প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে বিমানের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। তবে আমরা বিমানের ব্ল্যাক ব্ক্স কোন দেশের কাছে হস্তান্তর করবো না।’

বুধবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে ইরাকের দুটি মার্কিন বিমান ঘাঁতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যে ওই বিমান বিধ্বস্তের খবর আছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর ধারণা, যাত্রীবাহী বিমানটিকে মার্কিন যুদ্ধ বিমান ভেবে ভুল করে এতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য