শনিবারেই সরিয়ে দেওয়া হবে শোভন-রাব্বানীকে?

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের আভিযোগের পাহাড় জমেছে। ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোভন রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে বলেছেন। এমতাবস্থায় খুব দ্রুতই তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। আগামী শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহীকমিটির সভায় শোভন-রাব্বানীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, সাম্প্রতি আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল এজেন্ডা ছিলো রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন এবং কয়েকটি উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা, কিন্তু বৈঠকে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হয়ে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী কমিটি ভেঙে দিতে বলেন। ছাত্রলীগের শীর্ষ এই দুই নেতার বিরুদ্ধে বিতর্কিতদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেওয়া, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ইত্যাদি নানা অভিযোগ এসেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

এদিকে গণভবন থেকে এমন খবর আসার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার চেষ্টা করেন শোভন-রাব্বানী্ তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরবর্তীতে নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকে বসেন শোভন-রাব্বানী। পদ টিকিয়ে রাখতে যোগাযোগের চেষ্টা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সাথে। তবে কোন প্রচেষ্টায় কাজ হয়নি। সর্বশেষ শোভন-রাব্বানীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রবেশের পাসও বাতিল করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, শোভর-রাব্বানীকে পদচ্যুতির বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে আগামী শনিবার গণভবনে অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ওই দিনই শোভন-রাব্বানীকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষুব্ধ হওয়ার মতো কোন তথ্য নিশ্চয়ই এসেছে এবং তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তাই এই জায়গাটায় কারও কোন ধরণের ভিন্ন চিন্না করার উপায় নেই।’

শোভন-রাব্বানীর বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘কমিটি পরিবর্তন প্রয়োজন কিনা কিংবা কাউন্সিল কবে দেবে, এই সিদ্ধান্তগুলো সর্বোচ্চ জায়গা থেকে আসবে। যারা দেখভালের দায়িত্বে আছেওন আমরা বৈঠক করছি, সাধারণ সম্পাদকের সাথে বৈঠক করছি, আমাদের নেত্রীর সাথে সাক্ষাত করছি, কথা বলছি। আমরা অচিরেই আপনাদের একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতেও পারবো।’  

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম    

মন্তব্য