পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া ৫টি দেশের অজানা কথা!

পৃথিবীর বুকে গড়ে উঠেছে কত সভ্যতা, কত দেশ। মানুষ দেখেছে তাদের শান-শওকাত, জেনেছে তাদের বীরত্বগাঁথা। শত বছর, হাজার বছর বা তারও আগে গড়ে উঠেছিল এসব জনপদ। কালের বিবর্তনে কতকগুলি হারিয়ে গিয়েছে, কতগুলো আজও টিকে আছে ধ্বংসাবশেষ হয়ে। শত বছর আগেও এমন কতগুলো দেশ ছিল যা এখনো টিকে আছে আমাদের চোখের সামনে, কতগুলো অঙ্গীভূত হয়েছে অন্য দেশের সাথে, আবার কতগুলো নতুন নামে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বের বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া এমনই পাঁচটি দেশ এবং তাদের বিচিত্র কাহিনী আজ বিডিটাইমস৩৬৫ এর পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে_

চেকোস্লোভাকিয়া

পশ্চিম ইউরোপের একটি এথনিক গ্রুপের সংমিশ্রনের ফলস্বরূপ ১৯১৮ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে পূর্বের অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক মোরাভিয়া, স্লোভাকিয়া এবং বোহেমিয়া অঞ্চলসমূহে সমন্বয়ে চেকোশ্লোভাকিয়া রাষ্ট্র গঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ অঞ্চল নাৎসী বাহিনীকে ইউরোপের মধ্যে অগ্রসর হতে সহায়তা করেছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক স্বাধীনতার পর এটি একটি পূর্বের ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বিশ্বমানচিত্রে আবির্ভূত হয়।

চেকোস্লোভাকিয়া শান্তিপূর্ণভাবে চেক রিপাবলিক এবং স্লোভাকিয়া ১৯৩৩ সালে দ্বিখণ্ডিত হয়। বর্তমানে চেকরিপাবলিক রাষ্ট্রটি রূপকথার গল্পের কোন দেশের মতো সুন্দর।

তিব্বত

যদিও তিব্বতিদের আমরা শান্তিপূর্ণ বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং তাদের নেতা দালাইলামার সাথে সংশ্লিষ্ট করে থাকি। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই অঞ্চলটিকে নিয়ে প্রায় কয়েকশো বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। একমাত্র ১৯১২ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তিব্বতকে যখন চীনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল না, তখন এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। স্বাধীন রাষ্ট্রের ধারণা তিব্বতে এখনো চলমান রয়েছে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী দালাইলামা নির্বাসিত হবার পর এখন তিনি ভারতে জীবন যাপন করছেন। রোমাঞ্চপ্রিয় এবং পর্বতারোহীদের কাছে তিব্বত একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়। সমভূমি থেকে ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্টে এ অঞ্চলেই অন্তর্ভুক্ত, যা কিনা নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

অটোমান সাম্রাজ্য

তুরস্ককে বেষ্টন করে রাখা অন্যান্য অস্টো-হাঙ্গেরিয় সম্রাজ্য গুলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও অটোমান সাম্রাজ্য ১৯২০ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল, তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯২৩ সালে সাম্রাজ্যটি তার অন্যান্য রাজ্যগুলোর দখল হারানোর পর তুর্কিস রিপাবলিকে পরিণত হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে প্রায় ৬ শত বছর ধরে এই সম্রাজ্যটি পূর্ব ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য শাসন করে আসছিল। এই সম্রাজ্যটির নিদর্শন নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করতে ইস্তাম্বুলের ব্র্যান্ড বাজার ঘুরে আসতে পারেন। এটি সেই ১৪৫৫ সাল থেকে ক্রেতাসাধারণের বিস্ময়ের খোরাক যুগিয়ে আসছে। ভ্রমণপিপাসুদের তালিকায় তুরস্ক সৌন্দর্যমন্ডিত গন্তব্যগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়।

সিকিম

আপনি কি হিমালয় পর্বতের এই ছোট্ট অঞ্চলটির নাম শুনেছেন? ১৬৪২ সাল থেকে সিকিম একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ১৯৫০ সালে এটি ভারতের একটি আশ্রিত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়। ১৯৭৫ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের একটি রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সিকিমের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর তালিকায় রয়েছে ভুটান, তিব্বত, চীন এবং নেপাল। তুষারাবৃত পর্বতমালার দ্বারা এই দেশটি পরিপূর্ণ, এখানকার বাসিন্দারা যেগুলোকে স্রষ্টা এবং স্রষ্টার আবাস হিসেবে গভীর ভক্তি ভরে দেখে থাকে। ১৯৪৮ সালে সিকিমে ইয়েতির একটি পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

পার্শিয়া

পারস্যের নাম আমাদের স্মৃতিপটে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম। একেবারে প্রাচীনকালে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অবস্থায় তো বটেই, কয়েক দশক পূর্বেও এটি তার পূর্ব নামে সুপরিচিত ছিল। ১৯৩৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নামকরণ করা হয় ইরান।

বর্তমান সময়ে আমরা এখনো পারস্যের কথা চিন্তা করি যখন, পর্শিয়ান রাজ কিংবা পার্শিয়ান ক্যাটের আলোচনা হয়। এছাড়াও পারস্যের আদি সংস্কৃতি এখনো সুপ্রসিদ্ধ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমানে দেশটির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য আমেরিকানরা দেশটি ভ্রমণ করতে পারে না, তা সত্ত্বেও ইরানের মরুভূমিগুলো অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম    

মন্তব্য