পদ হারাচ্ছেন ফখরুল, নতুন মহাসচিবের খোঁজে তারেক!

মহাসচিবের পদ থেকে মির্জা ফখরুলকে সরিয়ে দিতে চান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজপথে আন্দোলন করতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে তারেক রহমানের তোপের মুখে দলের মহাসচিব। তার সকল কর্মকান্ড লন্ডন থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে দল বেকায়দায় থাকায় আপাতত তাকে মহাসচিব পদ থেকে না সরালেও পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে তার পরিবর্তে নতুন কাউকে এ পদে বসাতে চান তিনি। এজন্য লন্ডনে বসে তিনি ফাইল ওয়ার্ক করছেন।

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর থেকেই তাকে আন্দোলন করে মুক্ত করার জন্য লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করে এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কঠোর আন্দোলনে না যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর মির্জা ফখরুল সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচী, প্রতীকী অনশন ও প্রতিবাদ সমাবেশসহ কিছু স্বাভাবিক কর্মসূচী পালন করতে থাকেন। কিন্তু তারেক রহমান এসব কর্মসূচী না দিয়ে বার বার কঠোর কর্মসূচী পালনের নির্দেশ দিতে থাকেন।

এদিকে তারেক রহমানের নির্দেশনায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের পক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সায় আছে কি না জানতে মির্জা ফখরুল সবার সঙ্গেই কথা বলেন। কিন্তু মুখে কিছু সিনিয়র নেতা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও বাস্তবে কেউই রাজপথের আন্দোলনে নামতে রাজি হন না। এ পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজপথে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী পালনও শুরু করতে পারেননি।

সম্প্রতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান দলের কিছু নেতাকর্মীকে নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের সামনে গিয়ে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। এ সময় তারা যানবাহন ভাংচুরসহ ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেন। তবে এক ঘণ্টা পর পুলিশ তাদের টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু হঠাৎ করে দলের মহাসচিবের পরিবর্তে অন্য এক নেতার নেতৃত্বে অনেকদিন পর হলেও বিএনপি রাজপথে শোডাউন করতে পারার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি করে।

বিএনপি মহাসচিব না পারলেও ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান কি করে রাজপথ দখল করে আন্দোলন কর্মসূচী পালন করলেন এ নিয়ে তারেক রহমান তার অনুসারীদের মাধ্যমে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন। এ পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বেকায়দায় পড়ে যান।
জানা যায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বেকায়দায় ফেলতে তারেক রহমানের অনুসারীরাই আব্দুল্লাহ আল নোমানকে দিয়ে রাজপথ দখল করে আন্দোলন কর্মসূচী পালন করেছেন।

এছাড়াও, কিছুদিন আগে বিএনপির দুই সিনিয়র নেতা লেঃ জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান ও এম মোর্শেদ খানের পদত্যাগের কথা জানাজানি হওয়ার পর সাংবাদিকরা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের মুখোমুখি হন। এ সময় মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতারা পদত্যাগ করেছেন এটা এখনও আমি জানি না। দলীয় কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পরও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে জানেন না বলায় তারেক রহমান নাখোশ হয়েছেন বলে জানা যায়।

তবে অপর একটি সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চেয়েছিলেন এ দুই সিনিয়র নেতার পদত্যাগ ঠেকাতে, এমনকি এখনও তিনি সে অবস্থানে আছেন। কিন্তু তারেক রহমান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ অবস্থান মেনে নিতে পারছেন না। তাই এ নিয়ে মির্জা ফখরুল তারেক রহমানের তোপের মুখে রয়েছেন।

এদিকে লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানসহ দলের কিছু নেতার কারণে, বিএনপি নেতাদের মধ্যে এখন পরস্পরিক অবিশ্বাস ও কাদা ছোড়াছুড়ি বেড়েই চলছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলে চেইন অব কমান্ড না থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তারেক রহমান সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে লন্ডন থেকে একক সিদ্ধান্তে দল পরিচালিত করতে চাইলেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সিনিয়র নেতারা। তারা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও বিভিন্নভাবে তারেক রহমানের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। এ নিয়ে বিএনপিতে এখন চরম অস্থিরতা চলছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই দলে চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ে। এর ফলে কেউ কাউকে মানছে না। পারস্পরিক অবিশ্বাস আর কাদা ছোড়াছুড়ি কারণে সর্বস্তরে দলীয় কর্মকান্ডে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। দলের কর্মসূচী পালনের ক্ষেত্রেও মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এক নেতা একটি প্রস্তাব করলে অন্য নেতা তার বিপরীতমুখী প্রস্তাব দিয়ে বসে। তারেক রহমানের চাপে কখনও কখনও সবার সিদ্ধান্তে কোন কর্মসূচী নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাতে বাগড়া দেন কোন কোন নেতা। এর ফলে দলীয় কোন কর্মসূচীই সফল করতে পারছে না বিএনপি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য