ওয়ানডের সর্বকালের সেরা ১০ বোলিং ফিগার, তালিকায় ৩ পাকিস্তানি!

দর্শকদের আনন্দ দিতে ও বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নিয়মের জাঁতাকলে বোলারদের বেঁধে ফেলেছে আইসিসি। ক্রিকেট মাঠে এখন ব্যাটসম্যানদের রাজত্ব। এক সময়ে যখন ৫০ ওভারের ম্যাচে ২৫০ রান তোলাই কঠিন হয়ে যেত, এখন সেখানে পাওয়ার প্লে ও বিভিন্ন ফিল্ডিং বিধির দাপঠে ৩৫০-৪০০ রান উঠছে হরহামেশাই। টি-টোয়েন্টিতেও ২০০+ রান এখন নিয়মিত ঘটনা।

ভুরি ভুরি রান ওঠায় মাঠে দর্শকদের সংখ্যাও বেড়েছে ভালই। আর এই সব নিয়মে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন বোলাররা। কিন্তু নিজেদের দিনে যে কোনও পিচে যে তারা ভয়ঙ্কর, বারবার তার প্রমাণ রেখেছেন বোলাররা। আজ আমরা আপনাদের জানাবো ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসের সেরা দশ বোলিং পরিসংখ্যান—

১) চামিন্ডা ভাস (শ্রীলঙ্কা)

ওয়ানডের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গত ১৫ বছর ধরে নিজের দখলে রেখেছেন শ্রীলঙ্কার এই বাঁহাতি পেসার। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১৯ রানে ৮ উইকেট নেন তিনি। সে দিন তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৮-৩-১৯-৮।

২) শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

ব্যাট হাতে বিপক্ষের ত্রাস পাকিস্তানের বুম বুম আফ্রিদি লেগ স্পিনার হিসাবেও বেশ দক্ষ। বছর সাতেক আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তার কামব্যাক ম্যাচে ১২ রানে ৭ উইকেট নেন তিনি। সে দিন তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৯-৩-১২-৭। এ্টাই ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার।

৩) গ্লেন ম্যাকগ্রা (অস্ট্রেলিয়া)

অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের অন্যতম সেরা পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা তালিকার তিন নম্বরে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিপক্ষে ১৫ রানে ৭ উইকেট নেন তিনি। সেদিন তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৭-৪-১৫-৭।

৪) রশিদ খান (আফগানিস্তান)

সর্বকালের সেরা বোলিং ফিগারের তালিকায় চার নম্বরে আছেন আফগান লেগ স্পিনার রশিদ খান। ২০১৭ সালের ৯ জুন সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৮.৪ ওভার বোলিং করে ১৮ রানে নেন ৭ উইকেট। সেদিন তার বোলিং ফিগার ছিল ৮.৪-১-১৮-৭।

৫) অ্যান্ডি বিকেল (অস্ট্রেলিয়া)

ডানহাতি অস্ট্রেলীয় পেসার ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে পোর্ট এলিজাবেথে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০ রানে ৭ উইকেট নেন। তালিকায় তিনি চার নম্বরে। সে দিন তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ১০-০-২০-৭।

৬) মুত্তিয়া মুরলিধরন (শ্রীলঙ্কা)

২০০০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় ভারতের বিরুদ্ধে ৩০ রানে ৭ উইকেট নেন বিশ্বের সর্বকালের সেরা এই অফ স্পিনার। সে দিন তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ১০-১-৩০-৭।

৭) টিম সাউদি (নিউজিল্যান্ড)

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে ওয়েলিংটনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাউদির সেই বিধ্বংসী স্পেলের কথা মনে আছে? ৩৩ রানে ৭ উইকেট নিয়ে একাই হারিয়ে দেন ইংল্যান্ডকে। সে দিন তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৯-০-৩৩-৭।

৮) ট্রেন্ট বোল্ট (নিউজিল্যান্ড)

তালিকার অষ্টম অবস্থানে আছেন নিউজিল্যান্ডের বিধ্বংসী ফাস্ট বোলার ট্রেন্ট বোল্ট। ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর ক্রাইস্টচার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০ ওভার বোলিং করে ৩৪ রানে ৭ উইকেট নেন তিনি। সেদিন তার বোলিং ফিগার ছিল ১০-৩-৩৪-৭।

৯) ওয়াকার ইউনিস (পাকিস্তান)

২০০১ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৬ রানে ৭ উইকেট নেন তিনি। তালিকার ৭ নম্বরে থাকা পাক পেসারেরে সে দিনের বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ১০-০-৩৬-৭।

১০) আকিব জাবেদ (পাকিস্তান)

তালিকার ১০ নম্বরে আছেন পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার আকিব জাবেদ। ১৯৯১ সালের ২৫ অক্টোবর শারজায় ভারতের বিপক্ষে ১০ ওভার বোলিং করে ৩৭ রান দিয়ে ৭ উইকেট শিকার করেন তিনি। সেদিন তার বোলিং ফিগার ছিল ১০-১-৩৭-৭।

এছাড়া ২০১৪ সালের ১৭ জুন ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৪.৪ ওভারে ৪ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ভারতের স্টুয়ার্ট বিনি। বিনির সেদিনের পরিসংখ্যান ছিল ৪.৪-২-৪-৬। ১০ ওভার বোলিং করার সুযোগ পেলে সেদিন বিনি হয়তো চামিন্ডা ভাসের কাছ থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটের সর্বাকালের সেরা বোলিং ফিগারটা নিজের করে নিতে পারতেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য