দেখে নিন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের বাড়ি, মাথা ঘুরে যাবে!

ধনীদের খামখেয়াল বোঝা দায়। কথায় বলে শখের দাম লাখ টাকা! কিন্তু শখের নমুনা যদি এই হয়, তাহলে সম্পত্তির অঙ্কটা ভাবা বৃথা সময়যাপন। একই সঙ্গে প্রকট হয়ে যায় বিশ্বে ধনী-দরিদ্রের বিশাল ফারাকটা। টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন এমন ব্যক্তিদের বলা হয় ধনকুবের। আর পৃথিবীর শীর্ষ ধনকুবেরদের নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। আসুন, বিশ্বের শীর্ষ কয়েকজন ধনকুবেরের বিলাসবহুল বাড়িগুলির সঙ্গে একটু পরিচয় হওয়া যাক। তাঁদের বাড়িগুলো দেখলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য__

১) বিল গেটস

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ওয়াশিংটনের মেডিনায় লেক ওয়াশিংটনের পাশে রয়েছে তাঁর ৬৬ হাজার বর্গফুটের ওপর তৈরি বিলাসবহুল বাড়ি। এ বাড়ির দাম প্রায় ১৫ কোটি ৪২ লাখ ডলার। এ বাড়ির দেয়ালে রয়েছে অত্যাধুনিক সেন্সর। যে কেউ নিজের পছন্দমতো ঘরের তাপমাত্রা বদলে ফেলতে পারেন। ৫০০ বছরের পুরনো বহু মূল্যবান ডগলাস ফার গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি এ বাড়ির বেশির ভাগ অংশ। বাড়ির সামনে রয়েছে ৬০ ফুট লম্বা সুইমিং পুল। অত্যাধুনিক সুবিধাযুক্ত ২৪টি বাথরুম রয়েছে বাড়িটিতে। একসঙ্গে ২০০ জন অতিথি থাকতে পারেন অতিথিশালায়। মোট ছয়টি রান্নাঘর রয়েছে এখানে। ২ হাজার ১০০ বর্গফুটের লাইব্রেরিতে রয়েছে বেশ কিছু প্রাচীন পান্ডুলিপিসহ গেটসের ব্যক্তিগত লাইব্রেরি। এই বাড়িটির বর্তমান বাজারদর ১৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়াও আশপাশের এলাকা কিনে নিতে গেটসকে আরও ১৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে। তিনি জায়গাটি কিনেছিলেন ১৯৯৮ সালে এবং পরবর্তীতে পুরো কাজ সম্পন্ন করতে ৭ বছর সময় লাগে। ১০০০০ স্কয়ার ফিটের ফায়ারপ্লেসসহ ডাইনিং রুমও আছে যেখানে একসঙ্গে ২৪৫ জন বসতে পারে এবং এর সঙ্গেই একটি ৩৯ ফিট বাই ২৩ ফিটের একটি কিচেন রয়েছে।

২) প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান

বিশ্বের সবচেয়ে দামি বাড়িটির মালিক সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। দুই বছর আগে বিক্রি হয়েছিল ফ্রান্সের শ্যাঁতু লুই ফোরটিন নামের একটি বিলাসবহুল প্রাসাদসম বাড়ি। ওই বাড়ি কিনেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফরচুন ম্যাগাজিন তখন সেটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ি বলে অভিহিত করেছে। মোট ৫৭ একর জায়গার ওপর তৈরি এই বাড়িটিতে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ। সৌদি যুবরাজ খুব সতর্কতার সঙ্গে কিছু শেল কোম্পানির মাধ্যমে এই বিলাসবহুল বাড়িটি কিনেছিলেন। এখন এই বাড়ির মালিকানাও আছে এসব কোম্পানির হাতে। শেল কোম্পানি হলো একধরনের নিষ্ক্রিয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এগুলো মূলত ভবিষ্যতে ব্যতিক্রমী কোনো আর্থিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই বাড়িতে কী কী আছে তা নিয়ে এখনো রয়েছে নানা জল্পনা।

৩) মার্ক জাকারবার্গ

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত তাঁর বাড়িটি অনন্য। বাড়িটি তার মেনলো পার্ক ক্যাম্পাস অফিস থেকে মাত্র ১০ মিনিট ড্রাইভ দূরত্বে। বাড়িটি কেনার আগ পর্যন্ত একই এলাকায় জাকারবার্গ বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। স্যান মারকিউরি নিউজের মতে বাড়িটি তিনি ক্রয় করেছেন ৭ মিলিয়ন ডলার দিয়ে। বাড়িটিতে রয়েছে পাঁচটি বাথরুম, একটি সানরুম, একটি সুইপিং পোর্চ, সল্টওয়াটার পুল এবং প্রয়োজনীয় গোপনীয়তা। রিয়েল স্টেটের ওয়েবসাইট থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে সেখান থেকে জানা গেছে যদিও বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে ১৯০৩ সালে কিন্তু এরপর প্রচুর উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। যার মধ্যে একটি ইন্টারটেনমেন্ট প্যাভিলিয়ন এবং একটি আউটডোর ফায়ারপ্লে­স অন্যতম।

৪) কার্লোস স্লিম হেলু

বিশ্বের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি এটি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের কার্লোসের বাড়ি এটি। কার্লোস স্লিম নিছক এক সাদামাটা অবস্থা থেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। ২০১০-১৩ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর বিশ্বের সেরা ধনী হন তিনি। ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের ধনসম্পদ রয়েছে এই ধনকুবেরের। এমন ব্যক্তিদের নিয়েই বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস প্রতি বছর বিশ্ব ধনীদের এই তালিকা তৈরি করে থাকে। কার্লোসের মূল ব্যবসা টেলিফোনের। মেক্সিকোর টেলিযোগাযোগ বাজারে ফিক্সড-লাইন ফোনের ৮০ শতাংশ এবং মোবাইল ফোনের ৭০ শতাংশই রয়েছে যথাক্রমে তার টেলমেক্স ও আমেরিকা মোবাইলের দখলে। মার্বেল পাথর ব্যবহার করেই এই ধনকুবেরের বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। এতে ১২টি বেডরুম, একটি বলরুম, বিলাসবহুল গোসলখানা, পুল, ১৫টি গাড়ি রাখার জায়গা ছাড়াও আধুনিকতার বহু আয়োজন রয়েছে।

৫) মুকেশ আম্বানি

ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির বাড়ির নাম প্রাসাদ আন্তিলা। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামি বাড়ি ‘আন্তিলা’ অবস্থিত মুম্বাইয়ে। আন্তিলার দাম প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অত্যাধুনিক এই বাড়িটি ৪০ হাজার স্কয়ার ফুটের ২৭ তলা উঁচু একটি টাওয়ার। এটি ৫৭০ ফুট লম্বা। পার্কিংয়ের জন্য ছয় তলা রাখা হয়েছে। কারণ সেখানে আম্বানির ১৬৮টি গাড়ি থাকে মহাসাড়ম্বরে। নয়টি এলিভেটর ও প্রতি তলায় ব্যক্তিগত জিমনেসিয়াম আছে। বাড়িটিতে ৬০০ চাকর আছে। আটলান্টিক মহাসাগরের কল্পিত একটি দ্বীপের নামের সঙ্গে মিল রেখে বাড়িটির নাম রাখা হয়েছে। ভারতের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানির জন্যই নির্মিত এই বাড়ি। বাড়িটি নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। বাড়িটিতে হেলিপ্যাড (হেলিকপ্টার অবতরণের স্থান), সুবিশাল পাঠাগার, বিরাট খাবার ঘর, দুর্লভ মার্বেল পাথরের মেঝে, এমনকি স্নো-রুমও রয়েছে।

৬) ভ্লাদিমির পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জীবনযাপনের ধরন ইন্টারনেটে সার্চ করলেই মালুম হবে। বিলাসিতা, অ্যাডভেঞ্চারের মিশেলে সে এক রাজকীয় ব্যাপার। রুশ প্রেসিডেন্টের স্পেনেও একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল প্রাসাদ রয়েছে। স্পেনের লা জাগালেতায়। লা জাগালেতা ইউরোপের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রিয়েল এস্টেট। স্পা, জিম, পিয়ানো বার, সিনেমাহল, ঝরনার সঙ্গে জিব্রালটার উপত্যকার অসাধারণ দৃশ্য। সব মিলিয়েই তৈরি পুতিনের প্রাসাদ।

৭) জ্যাক মা

ই-কমার্স সংস্থা আলিবাবার মালিক জ্যাক মা। চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি তিনি। হংকংয়ে জ্যাক মা-র লাক্সারি বাংলোটির দাম ১৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রিন্স সালমান ও মুকেশ আম্বানির পর বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ দামি বাড়িটির মালিক জ্যাক মা। ১০ হাজার বর্গফুটের এই বাংলোটি লাগোয়া ২০ হাজার বর্গফুটের একটি অপূর্ব বাগান রয়েছে।

৮) জর্জ ক্লুনি

হলিউড সুপারস্টার জর্জ ক্লুনির প্রাসাদটি দেখলেও ভিরমি খেতে হয়। ইতালির কোমো লেকের পাড়ে অপূর্ব সুন্দর প্রকৃতির কোলে ক্লুনির প্রাসাদটির নাম ওলিয়ান্দ্রা। মোট ২৫টি ঘর রয়েছে। এছাড়া সুইমিং পুল, আউটডোর থিয়েটার এবং একটি স্পেশাল গ্যারেজ। স্পেশাল, কারণ ক্লুনির এই গ্যারেজে থাকে দেশ-বিদেশের নানা দামি মোটরবাইক।

৯) ম্যাডোনা

পপস্টার ম্যাডোনার দুবাইয়ে রয়েছে একটি আস্ত দ্বীপ। দ্বীপটি বিলাসিতার শেষ কথা। সেলেব আর্কিটেক্ট জোয়াকিম তোরেস তৈরি করেছেন গোটা দ্বীপটি। নাম ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডস। কেন? কারণ দ্বীপটি উপর থেকে দেখলে মনে হবে, পৃথিবীর মানচিত্র। রয়েছে সব দেশ। সেই দ্বীপে পপ সম্রাজ্ঞির জন্য রয়েছে ১ হাজার ৪০০ মিটার প্রাইভেট বিচ। দ্বীপে ম্যাডোনার বাড়ির লিভিং রুম তৈরি করা হয়েছে সমুদ্রের তলায়। কাচের ওপারে ঘুরে বেড়ায় ডলফিন।

১০) ডেভিড কপারফিল্ড

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী জাদুকরের বাড়িটির সঙ্গে পরিচয় করা যাক। বাহামার একঝাঁক দ্বীপের মালিক কপারফিল্ড। সব মিলিয়ে ১১টি দ্বীপের একটি চেন কিনেছেন এই ধনী জাদুকর। প্রত্যেকটি দ্বীপই বিলাসিতার মোড়া।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য