অধিনায়কত্ব ছাড়তে চান সাকিব, বিকল্প কে?

টেস্ট ক্রিকেটের নবীন দল আফগানিস্তানের কাছে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ নিয়ে গত ১০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নেতৃত্ব ছাড়ার ইচ্ছে পোষণ করলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

নেতৃত্ব ছাড়ার বিষয়ে সাকিব বলেন, আমি আর অধিনায়কত্ব করতে চাই না। তবে নিজের ইচ্ছাতে নয় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান টাইগার অধিনায়ক।

সাকিব বর্তমানে বাংলাদেশ দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের দায়িত্বে আছেন। অধিনায়কের এই দায়িত্ব তাঁর ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাকিব মনে করছেন, নেতৃত্ব ছেড়ে দিলে সেটা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য ভালো হবে। নিজের খেলায় শতভাগ মনোযোগ দিতে পারবেন।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ খেলোয়াড় যেখানে চাপ দেওয়ার পরও নেতৃত্ব ছাড়তে চান না, সেখানে সাকিব একটু যেন ব্যতিক্রমই!

নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে সাকিব বলেন, “আমার মনে হয়, যদি আমি অধিনায়ক না থাকি সেটা আমার ও দলের জন্য ভালো হবে। আমার দিক থেকে দেখলে এটা আমার ক্যারিয়ারের জন্য ভালো  হবে। আর যদি নেতৃত্ব দিতেই হয় তবে অনেক কিছু নিয়েই আইলোচনা করার আছে।”

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট শুরুর এক সপ্তাহ আগেও একইরকম কথা বলেছিলেন সাকিব। দেশের একটি শীর্ষ দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাতকারে সাকিব বলেছিলেন, “টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করার জন্য আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত নই। তবে দল যেহেতু ভালো আবস্থায় নেই বুঝতে পারছি আমাকে নেতৃত্ব দিতে হবে। আমি আসলে কোন ফরম্যাটেই নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী নই। যদি আমি নেতৃত্ব না দেই , নিজের খেলার ওপর মনোযোগ দিতে পারবো, যেটা দলের জন্য ভালো হবে।”

সাকিব চাইছেন এখন থেকেই যেন তরুণ কাউকে নেতৃত্বের জন্য গড়ে তোলা হয্ কিন্তু সাকিবের এই চাওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ দরের বর্তমান পরিস্থির কোন মিল নেই। তরুণদের মধ্যে যাদের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে ভাবা হয় সেই মিরাজ, মুস্তাফিজ, সৌম্য, লিটনদের বিসিবি এখনও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য মনে করছে না।

এদিকে সিনিয়রদের মধ্যে মাশরাফি ওযানডে দলের নেতৃত্বে আছেন। সাকিবের অনুপস্থিতিতে গত বছর টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টির কয়েকটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন মাহমুদউল্লাহ। তামিম ইকবালও গত শ্রীলঙ্কা সিরিজে অধিনায়ক ছিলেন। তবে তাঁরা বলার মতো তেমন কোন সফলতা এনে দিতে পারেননি। তামিম তো শ্রীলঙ্কার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেছেন।

সিনিয়রদের মধ্য মাশরাফি-সাকিব ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আছে কেবল মাত্র মুশফিকুর রহিমের। তাঁর সাফল্যও আছে বেশ। তবে বেশ কিচু কারণে তাঁকে নেতুত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আবারও তাঁকে নেতৃত্বে ফেরাতে চাইলে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করে তবেই ভাবতে হবে। তাই আপাতত বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাকিবের কোন বিকল্প খুঁজে পাচ্ছে না বিসিবি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম    

মন্তব্য