হঠাৎ জাতীয় দলে ডাক পাওয়া কে এই মিশু?

টেস্ট সিরিজে আফগানিস্তানের কাছে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টির জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই ত্রিদেশীয় সিরিজ। অনুমিতভাবেই টাইগার দলে একাধিক পরিবর্তন এসেছে। চমক হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন ২০ বছর বয়সি পেসার ইয়াসিন আরাফাত মিশু। এখনও পর্যন্ত কোন স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে না খেলা মিশু বেশ কিছুদিন ধরে খেলছেন ‘এ’ দল ও ‘এইচপি’ দলের হয়ে। কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কা এইচপি দলের বিপক্ষেও খেলেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মুখ হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে উত্তরাঞ্চলের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করেন তরুণ এই পেসার। দুই হাটুতে ৭টি অস্ত্রপচারের পরেও দাপটের সঙ্গে খেলে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেটের আইকন গুরু মাশরাফি বিন মর্তুজাকে আদর্শ মেনে পথ চলেন তরুণ এই পেসার। ২০ বছর বয়সী এই পেসারকেও মাশরাফির মতো ইনজুরিতে পড়তে হয়েছে বেশ কযেকবার। তবে মাশরাফির মতোই ইনজুরি তাকে খেলা থেকে দূরে সরাতে পারেনি।

নোয়াখালীর প্রত্যান্ত গ্রামে জন্ম নেওয়া ছেলে মিশুর ছোটবেলা থেকেই প্যাশন ছিলো ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা। পড়েআ ফাঁকি দিয়েও নিয়মিত চলে যেতেন ক্রিকেটের মাঠে। মিশুর ক্রিকেটের প্রতি অগাধ আগ্রহ ও ভালোবাসা দেখে তাঁর বাবা-মাকে তাকে সাভারের বিকেএসপিতে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন গৃহশিক্ষক। তাঁর পরামর্শেই পরবর্তীতে বিকেএসপিতে ভর্তি করা হয় মিশুকে। আর সেখানে ভর্তি হয়েই নিজের জাত চেনান তরুণ প্রতিভাবান এই পেসার।

বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলার প্রথম সুযোগটা এখান থেকেই পান মিশু। আর বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেই ছোট থেকে লালন করা স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে চলে যান তিনি।  সুযোগ আসে প্রথমবারের মতো অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে খেলার। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগে ইনজুরিতে পড়ে সেই স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে যায় তাঁর। সেই সময়ে মাশরাফির মতো দাঁতে দাঁত চেপে ফিরে আসার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নতুন উদ্যামে।

যার সর্বশেষ প্রমাণ দেখা গেছে ২০১৮ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আসরে। ইনজুরি থেকে ফিরে গাজী গ্রুপের হয়ে খেলা এই পেসার একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন আবাহনির মতো প্রবল পরাক্রমশালী প্রতিপক্ষকে। ডিপিএলে নিজের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তরুণ এই পেসার। আর সেই ম্যাচেই নিজেকে প্রমান করেই ছাড়লেন মিশু। নাসির-মাশরাফিদের বিপক্ষে মাত্র ৪০ রান দিয়ে একাই শিকার করেন ৮ উইকেট!! তাঁর এই বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১১৩ রানেই গুটিয়ে যায় শক্তিশালী আবাহনী। আর এই ম্যাচ দিয়েই প্রথম কোন বাংলাদেশি হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে ৮ উইকেট নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েন তরুণ এই পেসার। শুধু তাই নয় বিশ্বক্রিকেটের অষ্টম সেরা বোলিং ফিগারের গর্বিত মালিকও এখন মিশু।

৭টি প্রথম শ্রেণী ও ৬টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তরুণ এই পেসারকে জাতীয় দলে নেওয়া হযেছে মূলত আগামী বছরে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম    

মন্তব্য