রাজনীতি শেষ হয়ে গেল আ’লীগের এই হেভিওয়েট নেতাদের?

রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকার মহানগরীর এই দুই অংশ যেকোন রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ দল এবং সরকার আলাদা করার নীতি গ্রহণ করায় ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের এমন দুজনকে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে যারা এমপি কিংবা মন্ত্রী নন। এই ধারাবাহিকতা অন্যন্য কমিটিতেও ছিল।

উত্তর এবং দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা করার সঙ্গে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে একসময়কার অখণ্ড ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার রাজনৈতিক জীবনে পরিসমাপ্তি হলো নতুন এই কমিটির মাধ্যমে। মায়া ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাননি। এর আগে তিনি চাঁদপুর থেকে নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ মন্ত্রিসভার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অখণ্ড ঢাকার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মায়ার সুনাম ছিল।

৩০ শে ডিসেম্বর নির্বাচনে যখন মনোনয়ন পাননি তখন অনেকেই মনে করেছিল যে, মায়াকে হয়তো শেষ পর্যন্ত উত্তরের সভাপতি করা হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মায়া সভাপতির পদে থাকতে পারিনি। এর ফলে মায়ার রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মায়াকে নিয়ে কোন কোন মহলে আপত্তি রয়েছে। এছাড়া মায়ার বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁর ছেলে আর মেয়ে জামাইয়ের অপকর্মের দায় আওয়ামী লীগ নিতে চায় না বলেই মায়াকে বাদ দেয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ নতুন কমিটির সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তির ইঙ্গিত পাওয়া গেল। তিনি হলেন ঢাকার লালবাগের একসময়ের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি ছাত্রলীগের নেতাও ছিলেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনে সংস্কারপন্থী হবার কারণেই দলের মূল্ধারা থেকে ছিটকে পড়েন। গত তিনটি নির্বাচনের একটিতেও মহিউদ্দিন মনোনয়ন পাননি। এখন তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু রাজনীতির মাঠে তার শেষ আশা-ভরসাটুকু শেষ হয়ে গেলো। এবার ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হতে চেয়েছিলেন মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। কিন্তু সেই দৌঁড়ে বেশি দূরে যেতে পারেননি তিনি।

শুধু মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন নন মোফাজ্জল চৌধুরী মায়াসহ আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে অনেকেরই রাজনীতির জীবনের ইতি ঘটলো।

ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শাহে আলম মুরাদ। আর এটা ছিল তার জন্য একটি বড় সুযোগ। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। বরং তার বিরুদ্ধে নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে এমপি না হলেও এবার তাকে সরে যেতে হয়েছে দলের নেতৃত্ব থেকে। পাশাপাশি এই সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

একই ভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল ঢাকা দক্ষিণের সদ্য বিদায়ী সভাপতি আবুল হাসনাতের রাজনীতিও। তিনিও মন্ত্রী বা এমপি কিছু নন। নতুন কমিটি গঠনের মধ্যে দিয়ে প্রবীন এই রাজনৈতিক নেতার রাজনীতির অধ্যায়ের অবসান ঘটলো বলে মনে করার যতেষ্ট কারণ রয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তরে রহমতউল্লা ও সাদেক খান দুজনই এমপি হওয়ায় রাজনীতিতে টিকে থাকার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও মহানগর কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়ায় তাদেরও ভবিষ্যত অনিশ্চিত। এমপি হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় কাজের মাধ্যমে তারা রাজনীতিতে টিকে থাকলেও দলের পদে না থাকায় ভবিষ্যত অনিশ্চিত।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য