রেসে টিকে আছেন শুধু কাদের-রাজ্জাক-হানিফ!

আজ ঢাকা মহানগর সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে যাবে। আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এই কাউন্সিলকে ঘিরে আওয়ামী লীগে যেমন উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা রকম জল্পনা-কল্পনা ও কৌতুহল।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ সাধারণ সম্পাদক কে হবেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা আলাপ আলোচনা এবং গুঞ্জন চলছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ তার প্রতিষ্ঠার পর যে নীতিতে ছিল এবার কাউন্সিলের পর সেই নীতিতে ফিরে যাচ্ছে। আর সেটি হল যিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হবেন যিনি তিনি পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মন্ত্রীত্ব এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব একই সাথে পালন করার যে রেওয়াজ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শুরু করেছিল, সেই রেওয়াজের অবসান ঘটতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের এবারের কাউন্সিলে। এরকম আভাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক নীতি নির্ধারক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, টানা ১১ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি দূর্বল হয়ে পড়েছে। দলের মধ্যে অনেক অনুপ্রবেশকারী এবং হাইব্রিড প্রবেশ করেছে। এর পাশাপাশি অনেকে সুযোগ সন্ধানী হয়ে দলের নাম ভাঙিয়ে অনেক বদনাম করছে। এ রকম অবস্থায় এমন একজন সাধারণ সম্পাদক প্রয়োজন যিনি সার্বক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক বিষয়গুলো দেখভাল করবেন, দলের নিয়ম-কানুন এবং নীতি আদর্শ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দলের কর্মীদের নৈতিক মানের যেন অধঃপতন না হয় সেই বিষয়টি দেখভাল করবেন। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ এমন একজনকে সাধারণ সম্পাদক করবেন, যিনি সার্বক্ষণিকভাবে দলের সাংগঠনিক বিষয়াদিগুলো দেখভাল করবেন।

এবার কাউন্সিল করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের যে উপলদ্ধি তা হলো আওয়ামী লীগে অন্তকোলহ-দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা রকম গ্রুপিং, অসন্তোষ আছে। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ মনে করছে যে সাংগঠনিক বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকার মাসুল তাদেরকে দিতে হবে। পাশাপাশি সাংগঠনিক ভাবে আওয়ামী লীগ যে দূর্বল হয়েছে এই পরিস্থিতি বিরোধী শক্তি কাজে লাগাতে পারে।

তবে দলে পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক কে হবেন তা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা রকম আলোচনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এখন পর্যন্ত তিন জনের নাম এই তালিকায় রয়েছে বলে জানিয়েছে। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওয়বায়দুল কাদের যদি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের পদে রাজি হন তাহলে সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ হয়তো বিকল্প খুঁজবে না। তবে পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চলমান রয়েছে। এই বাস্তবতায় শেষপর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দুটোর মধ্যে ওবায়দুল কাদের কোনটি ছাড়বেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিকল্প চিন্তা ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।

সেক্ষেত্রে আলোচনায় আছেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য। তিনি যদি মন্ত্রীত্ব ছেড়ে সাধারণ সম্পাদক হন সেটিও আওয়ামী লীগের একাংশের বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন মাহবুবুল আলম হানিফ। যিনি গত কিছু দিন ধরেই বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু মন্ত্রীত্ব না পেয়ে তিনি এখন আওয়ামী লীগের এক নম্বর সাধারণ সম্পাদক। তাই শেষপর্যন্ত মাহবুবুল আলম হানিফকে যদি সাধারণ সম্পাদক করা হয় তাহলে তাকে পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তবে শেষপর্যন্ত কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হবে তা এখনো অনিশ্চিত। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এই কাজ চূড়ান্ত করবেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য