ইউরোপের যে ৫টি দেশে বাংলাদেশিরা সহজেই নাগরিকত্ব পাবেন

ইউরোপের উন্নত দেশে অভিবাসী হওয়ার স্বপ্ন প্রায় সবার থাকে। দিন দিন ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসী হওয়া এখন বেশ কঠিন। যদি কারোর কারিগরি দক্ষতা না থাকে কিংবা যদি কেউ উচ্চ শিক্ষিত না হয় তবে এসব উন্নত দেশের অভিবাসী হওয়া তার জন্য দুঃস্বপ্নের সমান। অনেক সময় কারিগরি দক্ষতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এ সকল দেশের অধিবাসী হওয়া সম্ভব হয় না, কারণ এসব দেশের অধিবাসী হতে নানা ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়। আবার অনেকে দীর্ঘদিন বসবাসের পরও নাগরিকত্ব পায় না।

তবে ইউরোপের কিছু দেশ আছে যেখানে খুব সহজেই অভিবাসী হওয়া সম্ভব। বৈধ অভিবাসী হলে দেশগুলোতে নাগরিকত্ব পাওয়াও সম্ভব। নাগরিকত্ব সম্পর্কিত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনারস বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব কর্মসূচিগুলো বিশ্লেষণ করে এক্ষেত্রে সেরা দেশগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে। সেখান থেকে ইউরোপের যে দেশগুলোতে তুলনামূলক সহজেই অভিবাসী হওয়া যায় এমন ৫টি দেশ নিয়ে আজ আলোচনা করা হলো__

১) অস্ট্রিয়া

ইউরোপের এই দেশটি বসবাসের জন্য খুবই উপযোগী। কেননা সেখানে অপরাধ প্রবণতা এবং নরহত্যার হার খুবই কম। দেশটি পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার কারণেও বিশ্বে সুপরিচিত। অস্ট্রিয়া সরকার দেশের সর্বত্র পরিছন্নতা এবং কঠোর বজ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার ব্যাপারে আপোষহীন। মাথাপিছু আয়ের হিসেবে অস্ট্রিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি। দেশটির অধিবাসীদের জীবনযাত্রা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মানের দিক থেকেও খুবই উন্নত। অস্ট্রিয়ায় ১০টি ভিন্ন ধরনের বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। এতে কোন বিনিয়োগেরও দরকার হয় না। আর এই দেশে বসবাসের অনুমতিপত্র সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভিসামুক্ত ভ্রমণের জন্যও ব্যবহৃত হয়।

২) বেলজিয়াম

পশ্চিম ইউরোপের ছোট্ট একটি দেশ বেলজিয়াম। এর তিন দিকে ঘিরে আছে নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানি ও লুক্সেমবার্গ। শুধুমাত্র দেশটির সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরোপে এর দখল নিয়ে লড়াই চলছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি দেশটি দখল করে নেয়। তবে গত ৫০ বছরে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি দুই ক্ষেত্রেই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র বেলজিয়াম। এটি ইউরোপের ক্ষুদ্রতম এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। তাছাড়া ইউরোপের সর্বাধিক নগরায়িত দেশ হিসেবেও এর পরিচয় রয়েছে। দেশটি কৃষি কাজের চেয়ে শিল্প ক্ষেত্রে অনেক বেশি এগিয়ে আছে, বিশেষ করে ভারি শিল্পে। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই এ দেশে বসবাসের অনুমতি পাওয়া সম্ভব। এজন্য আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা হলো শুধুমাত্র একটি চাকরি নিশ্চিত করা। দেশটিতে একটি চাকরি পেলেই বসবাসের অনুমতি পেয়ে যাবেন।

৩) পর্তুগাল

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগাল অন্যতম। সাগরকন্যার দেশ পর্তুগালের নাগরিক হতে পারলে পাবেন অনেক সুযোগ-সুবিধা, যা আপনার জীবনকে করে তুলবে সহজ ও সুন্দর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও রূপ বৈচিত্রে যেমন সাবলীল পর্তুগাল, তেমনি পর্তুগালকে ইউরোপে অভিবাসীদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ইউরোপের অন্যান্য দেশ যেখানে অভিবাসীদের বিষয়ে কঠোর নীতি অনুসরণ করে সেখানে পর্তুগাল বৈধ পন্থায় প্রবেশকারীদের জন্য সহজতম শর্তে রেসিডেন্স প্রদান প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। এ দেশে বসবাসের অনুমতি পেতে কাউকে একটি ব্যবসার মাধ্যমে ১০ জন লোকের কর্মসংস্থান করতে হবে অথবা কোন পর্তুগিজ ব্যাংকে ১০ মিলিয়ন ইউরো জমা রাখতে হবে কিংবা পাঁচ লাখ ইউরোর একটি বাড়ি কিনতে হবে। আর আপনি যদি পর্তুগালে বৈধভাবে ৬ বছর বসবাস করেন তাহলে পাবেন পর্তুগালে নাগরিকত্ব। যদিও এটি সরাসরি পর্তুগালের নাগরিকত্ব না তবে পর্তুগালের নাগরিকত্বের সমান।

৪) মালটা

দক্ষিণ ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র মালটা, ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ এটি। এর ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে ইতালি,পূর্বে তিউনিশিয়ার দূরত্ব ২৮৪ কিলোমিটার, উত্তরে লিবিয়া দূরত্ব ৩৩৩ কিলোমিটার। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্য মন্ডিত এক দেশ মাল্টা। পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের স্থান দখল করেছে দেশটি। উষ্ণ আবহাওয়া, ঐতিহাসিক নানা স্থাপনা, নান্দনিক স্থাপত্যশিল্প, বিনোদনের নানা সুযোগ সুবিধা থাকায় দেশটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। দেশটির অর্থনীতি ও যথেষ্ট সমৃদ্ধ।

মালটার স্থায়ী বাসিন্দাদের কে মাত্র ১৫% কর দিতে হয়। আর মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো বিনিয়োগ করে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়।

৫) স্পেন

স্পেন হচ্ছে সতেরোটি প্রদেশ ও ৫০ টি বিভাগ নিয়ে মনোরম একটি ইউরোপিয়ান দেশ। দেশটি দক্ষিণ পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত। স্পেনের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত মাত্র ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত জিব্রাল্টার প্রণালী স্পেনের মূল ভূখন্ডকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে। দেশটির প্রায় কমবেশি সব জায়গাতেই বাংলাদেশিরা বসবাস করেন। তবে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ ও কাতালোনিয়া প্রদেশের রাজধানী বার্সেলোনাতে বাংলাদেশী মানুষের বসবাস বেশি। দুই সিটিতেই মোটামুটি হাজার খানেক বাংলাদেশ পরিবার বসবাস করেন। এছাড়া সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে প্রায় আনুমানিক ২০ হাজার বাংলাদেশি পরিবার আছেন।

ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ডের পরে স্পেনেই বাংলাদেশিরা ভালো অবস্থানে আছেন বলা যায়। আনন্দের বিষয় হচ্ছে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর তুলনায় স্পেন সরকার বা স্প্যানিশ জাতির নিকট বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশিরা অনেক সম্মানজনক অবস্থানে আছেন। দেশটিতে পাঁচ লাখ ইউরোর একটি বাড়ি কিনে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় অথবা স্পেনের সরকারি ঋণে দুই মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করলেই পাওয়া যাবে বসবাসের অনুমতি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

6 thoughts on “ইউরোপের যে ৫টি দেশে বাংলাদেশিরা সহজেই নাগরিকত্ব পাবেন

  1. মো: শাকিল হোসেন

    - Edit

    Reply

    Commentভাই এসব রাষ্ট্রে কিভাবে যাওয়া সম্ভব

  2. Comment ভাই আমার ইউরোপ যাওয়ার খুব ইচ্ছে আমি কি ভাবে যাবো দয়াকরে জানাবেন প্লিজ

মন্তব্য