জনপ্রিয় ১০ ইউটিউব চ্যানেলে সক্রিয় বাংলাদেশের রোহিঙ্গারা

গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং আশ্রয় শিবিরে লাখো রোহিঙ্গার উপস্থিতিতে বিশাল মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই মহাসমাবেশ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ সরকার। এত বড় সমাবেশ অথচ আগে থেকে কিছুই জানতে পারনি বাংলাদেশ। আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে এতো বিশাল সমাবেশ রোহিঙ্গারা কিভাবে আয়োজনে সক্ষম হল সেটা নিয়ে বিষ্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। রোহিঙ্গা শোডাউনকে বাংলাদেশকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন দেশি-বিদেশি চক্র রোহিঙ্গাদের মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে অস্তিতিশীল করার অপচেষ্টা থেকেই এই মহাসমাবেশ করিয়েছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সমাবেশের পিছনে রোহিঙ্গা নেতারা ছাড়াও কক্সবাজারের এনজিও, আইনজীবী, কলেজের প্রভাষক, আরআরসি কর্মকর্তা ও পুলিশসহ একাধিক সংগঠনের হাত রয়েছে। আর তারা সংগঠিত হয়েছে মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ার মাধ্যমে। অনলাইন টিভি,ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলা, আরাকানি ও বার্মিজ ভাষায় নিজেদের বার্তা প্রচার করেছেন রোহিঙ্গারা।

ফেসবুকে রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যানেল ‘রোহিঙ্গা টিভি’। এছাড়া ইউটিউবে ‘রোহিঙ্গা টিভি’ নামে তাদের যে চ্যানেল আছে তাতে টেলিভিশনের মতো করেই রোহিঙ্গা সম্পর্কিত সর্বশেষ খবর জানানো হচ্ছে। এতে শ্লোগান হিসেবে লেখা আছে নিপীড়িত, ‘নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের কথা বলতে আমরা আসছি শীঘ্রই’।

গত ৩০ আগস্ট রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে রোহিঙ্গা টিভির ইউটিউব চ্যানেল। বিবৃতিতে তিনি ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবসের স্মরণ সভার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

‘রোহিঙ্গা টিভি’ নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালও রয়েছে। যেটিতে স্লোগান হিসেবে লেখা রয়েছে ‘ইন সার্চ অব ট্রুথ অ্যান্ড রাইটস’। তবে যোগাযোগের স্থলে কারও পরিচয় কিংবা কোথা থেকে এটি প্রকাশিত হচ্ছে সে সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে অবস্থানরত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে অন্তত ৫ লাখ এ অনলাইন টিভির সম্প্রচারের দর্শক। তাদের হাতে রয়েছে অত্যাধুনিক স্মার্টফোন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ফেসবুক পেজ ও গ্রুপেও সক্রিয় রয়েছে তারা। বাংলা কিংবা বার্মিজ ভাষায লেখা প্রতিটি ফেসবুক পোস্ট নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে।হাজারো রোহিঙ্গা সেখানে মন্তব্য করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পে বাংলাদেশি টিভি ও ইউটিউবন চ্যানেলের চেয়ে মিয়ানমারের চ্যানেলের কদর বেশি রোহিঙ্গাদের কাছে। দেশে-বিদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা নিজস্ব চ্যানেলকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

সূত্র মতে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব চ্যানেলগুলো দেশের বাইরে থেকেই বেশির ভাগ প্রচার হয়। আর এজন্য কিছু ফুটেজ পাঠানো হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে এসব রোহিঙ্গা চ্যানেলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা তৈরি হযেছে।  

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের অনলাইনভিত্তিক কিছু চ্যানেলের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিবিরে সাড়ে পাঁচ লাখ লোকের হাতে মুঠোফোন থাকার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা শিবিরে সক্রিয় যে টিভি চ্যানেলগুলোর  নাম জানা গেছে তার মধ্যে আরও রয়েছে_ রোহিঙ্গা পিস টিভি, রোহিঙ্গা নিউজ আরাকান টিভি, আরাকান আর ভিশন, আরাকান টাইমস, রোহিঙ্গা নিউজ, আরাকান টাইম টুডে, আরাকান নূর, এএনএ টিভি। এসব টিভিতে খবর ও অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় রোহিঙ্গা ভাষায়।

সরাসরি ওয়েবসাইটে গিয়ে অথবা ইউটিউবে এসব চ্যানেল দেখা যায়। এছাড়া অনেক টিভিরই ফেসবুক পেজ রয়েছে। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব চ্যানেল পরিচালিত হয়্ আর রোহিঙ্গা শিবির থেকে এসব চ্যানেলের জন্য পাঠানো হয় ফুটেজ। এসব ফুটেজ আবার ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে শেয়ার করছে রোহিঙ্গারা। এসব ফেসবুক পেজ ও গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রবাসী রোহিঙ্গা ও শিবিরে থাকা কিছু যুবক।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম    

মন্তব্য