অস্ট্রেলিয়ার ১৪০ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসালো আফগানিস্তান!

চট্টগ্রাম টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেল আফগানিস্তান। এ নিয়ে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে তিন ম্যাচের দুটিতেই জয় পেলেন আফগানরা। লংগার ভার্সনে এ কীর্তি আছে কেবল অস্ট্রেলিয়ার। অভিষেক টেস্টে ভারতের কাছে পরাজিত হয় নবীন দলটি। তবে পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ায় তারা। দ্বিতীয় টেস্টে আয়ারল্যান্ডকে হারান কাবুলিওয়ালারা।

এ কীর্তি অবশ্য অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানেরও আছে। সে তুলনায় আফগানদের কীর্তিটা আরেকটু বেশি কৃতিত্বের। টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয়ে দলটি ভাগ বসিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ১৪০ বছর পুরোনো এক রেকর্ডেও।

নিজেদের প্রথম টেস্টে জয়ের রেকর্ড শুধু অস্ট্রেলিয়ার আছে। পরের ম্যাচেই তাদের হারিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে নিজেদের প্রথম জয় বুঝে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। দুই বছর পর (১৮৭৯ সালে) আরেকটি সফরে এসে একটি টেস্ট খেলেছিল ইংল্যান্ড। সেটাতেও জয় বুঝে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ফলে নিজেদের প্রথম তিন টেস্টেই দুই জয়ের স্বাদ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরের বছর নিজেদের মাঠের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েই নিজেদের দ্বিতীয় জয় পায় ইংল্যান্ড। সেটি ছিল তাদের চতুর্থ ম্যাচ। টেস্টে দ্বিতীয় জয় পাওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়ানদের ধারে কাছে এত দিন শুধু ইংল্যান্ডই ছিল। আজ ইংল্যান্ডকে টপকে অস্ট্রেলিয়ার পাশে বসল আফগানিস্তান।

গতকালের ধারাবাহিকতায় আজ টেস্টের শেষ দিনেও বাংলাদেশকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছে বৃষ্টি। বন্দরনগরীর আকাশ ভেঙে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়েও শেষ দিনের খেলা শুরু হয়নি। গোটা সকাল চলে যায় বৃষ্টির পেটে। অবশেষে দুপুর ১টায় গড়ায় খেলা। তবে ১৩ বল হতেই আবার হানা দেয় বৃষ্টি। এতে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

পরে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ৪টা ২০ মিনিটে ফের খেলা শুরু হয়। তবে মাঠে নেমেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। প্রথম বলেই কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান। জহির খানের বল পিচ করে অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল। অযাচিতভাবে তাতে খোঁচা দিতে গিয়ে আউট হন তিনি। ফেরার আগে করেন ৪ চারে লড়াকু ৪৪ রান।

সেই রেশ না কাটতেই ফেরেন মেহেদী মিরাজ। ফের ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন রশিদ খান। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। এতেই ক্ষ্যান্ত হননি আফগান অধিনায়ক। খানিক পর তাইজুল ইসলামকে একইভাবে শিকার করেন তিনি। বাংলাদেশ শিবিরে শেষ পেরেকটিও ঠুকেন রশিদ। সৌম্য সরকারকে ইব্রাহিম জাদরানের ক্যাচ বানিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ১৭৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

এ নিয়ে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট দখলে নেন রশিদ। এতে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। প্রথম অধিনায়ক হিসেবে এক টেস্টে হাফসেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট শিকারের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন স্পিন জাদুকর।

বৃষ্টির কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয় চতুর্থ দিনের খেলা। ফলে শেষ দিন প্রায় আধা ঘণ্টা আগে খেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। ৬ উইকেটে ১৩৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ৩৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে ছিলেন। সঙ্গে থাকা সৌম্য সরকার রানের খাতায় খুলতে পারেননি। তবে তারা নতুন দিনের শুরুতে খেলার গোড়াপত্তন করতে পারেননি।

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬০ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। দলের হয়ে ৮৭ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন ইব্রাহিম জাদরান। ফলে ৩৯৭ রানের লিড পান সফরকারীরা। এতে একমাত্র টেস্টের নাটাই হাতে নেন তারা।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে স্বপ্নের মতো ব্যাটিং করে আফগানিস্তান। রহমত শাহর ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরিতে তোলে দলীয় সর্বোচ্চ ৩৪২ রান। জবাবে প্রথম ইনিংসে হতশ্রী পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে বাংলাদেশ। ২০৫ রানে গুটিয়ে যায় তারা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য