ধূমপান ছাড়তে চান? এই ১০টি খাবার খান

ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বেশ কোমর বেঁধেই নেমেছেন। কিন্তু নিকোটিনের নেশা পিছু ছাড়ছে না, তাই না? ধূমপান ছাড়ার কয়েকদিন পরই আবার ফুঁকতে শুরু করে দেন। ধূমপান ছাড়তে আপনার অবশ্যই তীব্র মানসিক শক্তি দরকার, তেমনি কিছু খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন দরকার। কিছু খাদ্য আছে যেগুলো আপনাকে ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করতে পারে। ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এই খাবার গুলো খান, সিগারেট ফুঁকতে আর ইচ্ছে জাগবে না। নিকোটিনের নেশা আর আপনাকে টানবে না। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক__

১) পানি

শরীর থেকে নিকোটিনের বিষাক্ত উপাদান দূর করে দিতে পানি সবচেয়ে কার্যকর একটি খাবার। এটি ধূমপান থেকে মুক্তি দিতে সরাসরি সাহায্য করে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব কাটতে থাকে। যখনই ধূমপানের ইচ্ছা হবে, তখনই ১-২ গ্লাস পানি পান করুন।

২) মুলা

দীর্ঘদিন নিকোটিনযুক্ত সিগারেট খাওয়ার ফলে শরীরে যে অম্ল ভাব সৃষ্টি হয়, মুলা খেলে এতে প্রভাব পড়ে। মুলার জুস করে তাতে মধু মিশিয়ে খেল ভালো ফল পাওয়া যায়। ধূমপানের নেশা ছাড়াতে মুলা খুবই কার্যকরি।

৩) ওটস

শরীর থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ দূর করে দিতে পার ওটস। এতে ধূমপানের ইচ্ছা কমে। দুই কাপ পানি ফুটিয়ে তাতে দুই চা চামচ ওটস মিশিয়ে সারা রাত রাখুন। সকালে আবার ওই ওটসের মিশ্রণ গরম করে পান করুন। নিয়মিত এভাবে খেলে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হবে এবং ধূমপানের ইচ্ছা কমবে।

৪) মধু

মধু পুষ্টিগুণে ভরপুর। শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব কাটাতে এবং ধূমপানের আসক্তি দূর করতে মধু দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে দরকারি ভিটামিন, এনজাইম, প্রোটিন আছে, যা ধূমপানের অভ্যাস থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করে।

৫) জিনসেং

এক চামচ জিনসেং পাউডার জুসে বা সুপে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেলে সারা দিনের জন্য সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। ফলে নেশার ফাঁস ধীরে ধীরে আলগা হতে শুরু করে।

৬) আদা

ধূমপান ছাড়তে আদা খুবই কার্যকর ও সহজলভ্য একটি খাবার। আদায় থাকা বেশ কিছু উপাদান নানাভাবে সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছাকে দমিয়ে দেয়। নেশা চাপলে আদা চা বা কাঁচা আদা খেতে পারেন।

৭) মরিচের গুঁড়া

নিয়মিত মরিচের গুঁড়া যদি খাওয়া যায়, তাহলে ফুসফুসের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। একই সঙ্গে ধূমপানের ইচ্ছাও কমতে থাকে। খাবারের মধ্যে বা এক গ্লাস পানিতে অল্প পরিমাণ মরিচের গুঁড়া ফেলে সেই পানি পান করলে দারুণ উপকার পাওয়া যেতে পারে।

৮) আঙুরের জুস

ধূমপান ছাড়তে আঙুরের রসও দারুণ কার্যকর। ধূমপানের ফলে শরীরে যে ক্ষতিকর র‍্যাডিকেলস তৈরি হয়, তার প্রভাব কাটাতে আঙুরের রস খেতে পারেন। ফুসফুসের ক্ষতি কমায় এ জুস।

৯) হরিতকি

আয়ুর্বেদিক বিজ্ঞানে ত্রিফলা নামে পরিচিত তিনটি ফলের একটি হল হরতকি। নানা গুণ রয়েছে হরিতকির। স্বাদে তেতো হলেও, এটি ট্যানিন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফ্রুকটোজ ও বিটা সাইটোস্টেবল সমৃদ্ধ। হরতকি দেহের অন্ত্র পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে। হরিতকি মুখে রেখে দিলে ধূমপান করার নেশা চলে যায়, এমনটাই বলছে আয়ুর্বেদ। তাই ধূমপান করার ইচ্ছে হলেই মুখে দিন হরিতকির টুকরো। অন্তত ৫-১০ মিনিট রেখে দিন, নেশা কেটে যাবে।

১০) যষ্ঠিমধু

সিগারেটের নেশা ছাড়তে সাহায্য করে যষ্টিমধু। ধূমপান করার ইচ্ছে প্রবল হলেই এক টুকরো যষ্ঠিমধু মুখে দিন। নেশা কেটে যাবে, সঙ্গে মুখেও একটা সুন্দর ফ্লেভার আসবে। ধূমপান ছাড়তে যষ্ঠিমধুর কার্যকারিতা প্রমাণিত।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য