পেঁয়াজ ছাড়াও যেসব মজাদার রান্না হয়, জেনে নিন রেসিপি

পেঁয়াজ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। দিনমজুর-রিকশাচালক থেকে শুরু করে শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কেউই পিছিয়ে নেই পেঁয়াজের আলোচনা থেকে। খবরের পাতাজুড়ে এখন শুধুই পেঁয়াজের ঝাঁঝ। জাতীয় সংসদেও আলোচনায় হয়েছে পেঁয়াজের দাম নিয়ে। অনেক ব্যাচেলর খরচ বাঁচাতে এরইমধ্যে পেঁয়াজ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। বাদ নেই খেটে খাওয়া মানুষ ও হোটেলওয়ালারাও। অনেকে হোটেলে বন্ধ হয়ে গেছে পেঁয়াজু বা ছোলার মতো সুস্বাদু খাবার। তাদের দাবি এসবে পেঁয়াজ লাগে প্রচুর। ভিক্ষুকরা তো ভিক্ষা হিসেবে রীতিমতো পেঁয়াজের দাবি করে বসেছেন।

এই যখন অবস্থা, তখন বেশি করে পেঁয়াজ দিয়ে মজাদার সব ভুনা, ঝোল, ভাজি রান্না কিভাবে হবে? সম্ভব, কারণ পেঁয়াজ ছাড়াও মজাদার রান্না হয়। জানতে হবে শুধু রেসিপি। এমনকি স্বাদেও কোন তারতর্ম্য হয় না। পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করেই দেখুন না কেমন মজাদার হয়। আজ আমরা পাঠকদের জানাবো পেঁয়াজ ছাড়া মজাদার রান্নার এমনই কিছু রেসিপি। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক__

১) মাংসের ঝোল

পেঁয়াজ ছাড়া কখনও মাংস রান্না হয় নাকি! পেঁয়াজে মসলা আর মাংস মিশিয়ে কষিয়ে ভুনা বা ঝোল রান্না হবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু পেঁয়াজের কেজি যখন ৩০০ টাকা তখন এই রেসিপি ভুলে যান। পেঁয়াজ ছাড়াই মাংস রান্নার এই রেসিপি অনুসরণ করুণ।

পেঁয়াজ ছাড়াই সুস্বাদু মাংস রান্না হবে, তবে সেক্ষেত্রে অন্যান্য মসলার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।
পরিমাণ মতো মাংস, রসুন বাটা, আদা বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া জিরা, দই, তেজপাতা, গরম মসলা, জয়ত্রী গুড়া, লবণ ও তেল পরিমাণ মতো দিয়ে মেরিনেট করে রেখে দিন একঘন্টা।

এবার চুলায় দিয়ে মাংস ভালোমতো কষিয়ে নিন। এবার পরিমাণ মতো গরম পানি দিয়ে ঢেকে রাখুন। পানি শুকিয়ে গেলে তেল ওপরে উঠলে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। সঙ্গে আলু এবং পেপে একটু বেশি সিদ্ধ করে দিতে পারেন, ঝোল ঘন হবে। চাইলে ক্যাপসিক্যামও দিতে পারেন।

২) খিচুড়ি

আপনি চাইলে পেঁয়াজ ছাড়া সুস্বাদু খিচুড়ি রান্না করতে পারেন। এই ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশে খিচুড়ি খেতে খুব ভালো লাগবে। এই শীতের মৌসুমে শীতের সবজি দিয়ে জম্পেস খিচুড়ি খাওয়া যায়, এবং সেটা অবশ্যই পেঁয়াজ ছাড়া। এক্ষৈ সবজি এবং চাল-ডালের অনুপাত ঠিক রেখে খুব সাধারণভাবেই আপনি খিচুড়ি রান্না করতে পারেন। রসুন, আদা, জিরা এব গরম মসলার পরিমাণটা একটু বেশি করে দিলেই জম্পেস রান্না হবে। নামানোর আগে কাঁচা মরিচ এবং কয়েকটা গোটা রসুন ছেড়ে দিন খিচুড়িতে।

৩) মুগডাল খিচুড়ি

নিরামিষ খিচুড়ি মূলত করা হয় মুগডাল দিয়ে। রসুন ও পেঁয়াজের বদলে দেওয়া হয় পাঁচফোড়ন। শুকনা মরিচ, গরম মসলা, আদা বাটা ও নানা রকম সবজিও দেওয়া হয় এই খিচুড়িতে। তবে পেঁয়াজের ব্যবহার একেবারেই নেই।

৪) ইলিশের তেল ঝোল

বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ইলিশ রান্নার নানা রকম মজাদার রেসিপি। তার মধ্যে রয়েছে ইলিশের বিখ্যাত ‘তেল ঝোল’। যা অন্য মাছ দিয়েও অনায়াসে করা যায়। শুধু কালোজিরার বাগড়া ও কাঁচা মরিচের স্বাদের উপর ভিত্তি করেই করা হয় এই ‘তেল ঝোল’ রান্নাটি। পেঁয়াজের ব্যবহার একেবারেই নেই। কেউ কেউ মাছের সঙ্গে ডালের বড়ি দিয়েও এই রান্নাটি করে থাকেন।

৫) ভাজি ও ভর্তা

ভাজি ও ভর্তাতে সাধারণত একটু বেশি পেঁয়াজ খেতেই ভালো লাগে। কিন্তু একটু মচমচে ভাজি করলে পেঁয়াজ না দিলেও চলে। আর ভর্তাতে পেঁয়াজের বদলে রসুনের পাতা, কাঁচা টমেটো, ধনেপাতা দিয়ে সুন্দর মুখরোচক ভর্তা তৈরি করে ফেলুন। পেঁয়াজের স্বাদ ভুলে যাবেন।

৬) শুক্তো

পেঁয়াজ ছাড়া রান্নার কথা আসলেই মাথায় আসে নিরামিষ রান্নার কথা। আর শীতের মৌসুমে নানা রকমের সবজি দিয়ে শুক্তো রান্না করার মজাই আলাদা। অর্প মেথি, মৌরি বা পাঁচফোড়ন দিয়ে পছন্দের সবজির সাথে দুধ বা্ নারকেল বাটা বা সর্ষে দিয়ে খুব কম সময়েই বানানো যায় মজাদার শুক্তো। এই পদটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বেশ জনপ্রিয়। এই রান্না পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবহার একেবারেই করা হয় না।

৭) লাবড়া

পাঁচমিশালি সবজির আরেকটি পদ লাবড়া। সাধারণত হিন্দু পরিবারে বা পুজোবাড়িতে নিরামিষ খিচুড়ির সঙ্গে লাবড়া খাওয়া হয়। আলু, মিষ্টি কুমড়ো, বাঁধাকপি, সিম ও বেগুন দিয়ে এই সবজি রান্না করা হয়। এতে শুকনা মরিচ, পাঁচফোড়ন ও তেজপাতা ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় ধরে কষিকে মাখামাথা এই পদটি অনেকেরুটির সঙ্গে খেতেও পছন্দ করেন। এতে পেঁয়াজ ও রসুনের কোন ব্যবহার নেই।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য