আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছাড়ছেন শেখ হাসিনা?

আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর দেশের ঐতিহ্যবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল। এ্ই কাউন্সিলের মাধ্যমে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটির নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাউন্সিল যতই এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে, সেটা হচ্ছে আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে সরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা! ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন-‘তিনি আর দলের নেতৃত্বে থাকতে চান না।’

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়া্মী লীগ। এ সরকার গঠনের পরপরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ‘এবারই শেষ মেয়াদ, এরপর আর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ নেবেন না।’ সেই হিসেবে ২০২৩ সালে পরবর্তী নির্বাচন তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদত্যাগ করবেন। নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার একা্ন্ত ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন যে, শেখ হাসিনা তার সেই অবস্থান থেকে এক চুলও সরে আসেননি। এবং তিনি বিভিন্ন আলাপ আলোচনায় বার বার ঐ একই কথা গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরবর্তী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন না এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন না।

সেই বিবেচনায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন শেখ হাসিনা ২০২৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তারপর রাজনীতি থেকে অবসরে যাবেন। কিন্তু সম্প্রতিক সময়ে তিনি তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠজনকে বলেছেন যে, তিনি চান দলে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হোক। সরকার এবং দল আলাদা থাকুক এবং সেটা এবার থেকেই। তিনি ২০২৩ সাল পর্যন্ত শুধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে চান। আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের নেতাকর্মীরা যেন অন্য কাউকে বেছে নেয়। আসন্ন কাউন্সিলে তিনি এ অনুরোধ রাখবেন বলে ঘনিষ্ঠদের কাছে বলেছেন।

শেখ হাসিনার দলীয় প্রধানের পদ ছাড়ার প্রসঙ্গটি নতুন নয়, এর আগেও অন্তত তিনটি কাউন্সিলে তিনি দলের দায়িত্ব ছাড়ার কথা বলেছেন। তবে নেতাকর্মীদের আবেগের কাছে তাকে বারবার পরাজিত হতে হয়েছে। সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে। শেখ পর্যন্ত তিনিই দলের সভাপতির পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, এবারও তিনি নেতাকর্মীদের বাঁধার মুখে পড়বেন। কারণ আওয়ামী লীগে এখনও শেখ হাসিনার বিকল্প তৈরি হয়নি। নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার বাইরে কাউকে দলীয় প্রধান হিসেবে চিন্তাও করতে পারে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনা এবারও কাউন্সিলে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের সেই ঘোষণা নেতাকর্মীদের চাপে টিকবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ‘আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এবার শেখ হাসিনা বেশ অনমনীয় ও অনড় অবস্থানে রয়েছেন। সভাপতির পদ ছাড়ার এটাই সঠিক সময় বলে মনে করছেন শেখ হাসিনা। সভাপতি পদ ছেড়ে তিনি আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, ‘আগামী বছর শুরু হচ্ছে মুজিব বর্ষ। ৮ ডিসেম্বর থেকে মুজিব বর্ষের কাউন্ট ডাউন শুরু হবে। সেই বিবেচনায় শেখ হাসিনা এখন দলের সভাপতি পদ ছাড়বেন এটা নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। পরবর্তী কাউন্সিলে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে, তখন নতুন নেতৃত্ব আসবে। এবার শেখ হাসিনা পদত্যাগ নেতাকর্মীরা মানবে না।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

2 thoughts on “আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছাড়ছেন শেখ হাসিনা?

  1. Commentআপনার ভাবনাই সততা আছে বটে।
    কিন্তু আপনাকে ছাড়া দলের ভবিষ্য অমানিশা ।।

    100% right

  2. Md.shahidul islam

    - Edit

    Reply

    তাহার মন ভেঙ্গে দিয়েছে কিছু অমানুষ ছোট লোক বাদুর চোষা অশিক্ষিত একেবারে নিম্ন শ্রেনীর রাক্ষস ওদের জম্ন চোরের বাবার কোলে।তারা এশহরে কুলি গ্রী করে নশার জগতে এসে এলোমেলো লাল নীল রুপো বতি দেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি মর্যাদা দিতে পারিনি।তাই তারা এই সন্মনী দলটাকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার জন্য তাহার সুযোগ্য কন্যকে বিশ্বের কাছে ছোট করার চেষ্টা করেছে।যাই হোক তিনি সব কিছু ত্যাগ স্বিকার করেছেন তার বাবার আদর্শের জন্য তাতে তার সম্মান কমেনি বরং বেড়েই ছলেছে।কখনও কমবেনা দল যেই হোক মানুষের চরিত্র নিয়েই হয় দল।যারা দল করতেছে তারা তাকিয়ে দেখুক ইতিহাসের পাতায় কারা কিভাবে রাজনিতি করে গেছে।তারা চুরি করেনি রাজনীতির পাতা লিখে রেখে গেছে রক্তের অক্ষরে যা পড়লে কলিজা শিউরে উঠে। আর চোর বাংগালী ইতিহাস লিখছে বদনামের পাতা।এটা কখনও ঠিক করা যাবেনা দশবার নেত্রী জম্ম গ্রহন করে আসলেও সম্বব হবেনা।কারন পিপড়ার গাড়ায় যতবার গুতা দিবেন ততবার উপছে উঠে এটাকি সম্বব।সে তো নূহ নবীর হায়ত নিয়ে আসেনি মেয়ে মানুষ হিসাবে যাহা কিছু করেছে এর চাইতে আর আমার মনে হয় যতেষ্ট এদের মতো চোরের পিছনে না ঘুরে যদি আল্লাহ কাছে তাজবি তালিল করতো তাহলে খোদা খুশি হতো।এরা খুনো খুনি হয়ে মরুক সম্পদের জন্য এদের খোথার উপার ও বিশ্বাস নাই টাকা দেখলে আগুনের উপার ঝাপিয়ে পড়ে।এটা কি আমার আর এ লিখতে মনে চাইতেছেনা।ধন্যবাদ

মন্তব্য