ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে ‘দোয়া’ পড়বেন

সুপার সাইক্লোন ‘বুলবুল’ আতঙ্কে কাঁপছে দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলা। ইতোমধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মোংলা ও পায়রা সম্রদ্রবন্দর ও তৎসংলগ্ন খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৯ জেলায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (০৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা নাগাদ এটি সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালাতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্নিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে আতঙ্কিত না হয়ে মহানবী (সাঃ) আল্লাহর নিকট সাহায্য চাইতে বলেছেন। তিনি নিজেও এমন দুর্যোগে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। কেননা মহান আল্লাহই মানুষকে সব বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন। আল্লাহ ছাড়া মানুষকে আর কেউ বেশি নিরাপত্তা দিতে পারে না।

ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। যদি তোমরা একে তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেখতে পাও তবে আল্লাহর কাছে এই দোয়া করবে_
اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ خَيْرِ مَا فَيْهَا وَ خَيْرِمَا أُمِرَتْ بِهِ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ شَرِّ مَا فَيْهَا وَ شَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ.
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া মা ফিহা ওয়া খাইরি মা উমিরাত বিহি, ওয়া নাউজুবিকা মিন শাররি হাজিহির রিহি ওয়া মা ফিহা ওয়া শাররি মা উমিরাত বিহি’ (তিরমিজি, মিশকাত)।

অর্থাৎ: ‘হে আল্লাহ, আমরা তোমার নিকট এ বাতাসের ভালো দিক, এতে যে কল্যাণ রয়েছে তা এবং যে উদ্দেশ্যে তা নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার উত্তম দিকটি প্রার্থনা করছি। এবং তোমার নিকট এর খারাপ দিক হতে, এতে যে অকল্যাণ রয়েছে তা হতে এবং এটা যে উদ্দেশ্যে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার খারাপ দিক হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এ জাতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাসুল (সাঃ) আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করতেন এবং আন্যদেরকেও তা করার নির্দেশ দিতেন। তাই বাংলাদেশের মুসলিমদের উচিত ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আতঙ্কে না ভুগে এসময় বেশি বেশি তওবা করা ও ইস্তেগফার করা। আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সবাইকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর সকল অকল্যাণ থেকে হেফাজত করবেন।

উপকূলীয় ১৯ জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাবে সুপার সাইক্লোন ‘বুলবুল’। এরমধ্যে ১৩ জেলা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে ৭ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব জেলা অতি ঝুঁকিতে রয়েছে সেগুলো হলো_সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

One thought on “ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে ‘দোয়া’ পড়বেন

মন্তব্য