ঢাকা উত্তরে আ.লীগের মেয়র প্রার্থী সাবের, দক্ষিণে রোকন?

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক এক বছর পর জানুয়ারিতে ফের ভোটযুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। মহাগুরুত্বপূর্ণ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা-ধানের শীষের জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য আগামী ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন। জানুয়ারিতে নির্বাচন।

ভোট সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দল দুটি। মর্যাদাপূর্ণ এ লড়াইয়ে জয়ী হতে মেয়র পদে শক্তিশালী প্রার্থী দেবে উভয় দল। এ লক্ষ্যে খোঁজা হচ্ছে স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজের হেভিওয়েট নেতাদের।

এবার উভয় সিটিতেই আওয়ামী লীগের মেয়র পদে পরিবর্তন আসতে পারে এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নতুন প্রার্থী খোঁজা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, হঠাৎ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আলোচনায় আসছেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এই আইনজীবী ২০০১-২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৬ সালে বাতিল হওয়া নির্বাচনে মোহাম্মদপুরের আসন থেকে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নও দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচন বর্জন করে আওয়ামী লীগ। নতুন নির্বাচনের আগেই দেশে ওয়ান ইলেভেন আসে। ওয়ান ইলেভেনের সময় ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ভোল পাল্টে ফেলেন। তিনি সংস্কারপন্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বর্তমান প্রধানমমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার সমস্ত ফাইল তিনি ফেরত দেন।

তবে গত কয়েক মা্সে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আবার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা দক্ষিণে একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম খুঁজতে গিয়ে রোকন উদ্দিনের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রোকন উদ্দিনের ব্যাপারে এখনও সবুজ সংকেত দেননি বলে জানা গেছে। একটি মহল চেষ্টা করছে শেষ পর্যন্ত যেন রোকন উদ্দিন মাহমুদকেই প্রার্থী দেওয়া হয়। এছাড়া আরও কয়েকজন প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে।

ঢাকা উত্তরের বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলামের পারফর্মেন্স নিয়ে খুব একটা খুশি নয় আওয়ামী লীগ। যদিও তিনি নিজের যোগ্যতা প্রমাণে সময় খুব কম পেয়েছেন। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক যেভাবে ঢাকা উত্তর সিটিকে সাজিয়েছিলেন, যেভাবে উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিচ্ছিলেন তার ধারে কাছেও যেতে পারেননি বর্তমান মেয়র। উত্তরের মেয়র পদে আনিসুল হকের স্ত্রীর রুবানা হকের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে তিনি বিজিএমইএ’র মতো গুরুত্বপূর্ন সংস্থার বর্তমান সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। যেহেতু তিনি বিজিএমইএ’র সভাপতির দায়িত্বে আছেন সেজন্য তাকে মেয়র পদে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অনেকের আপত্তি আছে।

এমন প্রেক্ষাপটে হঠাৎ আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর নাম। সাবের হোসেন চৌধুরী ক্লিন ইমেজ এবং তার কর্মদক্ষতার কারণে তাকে ঢাকা উত্তরের মেয়রের পদে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের একটি মহল ভাবছে।

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে এমন অনেক নাম আলোচনায় আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত মেয়র পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য