বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৫টি স্নাইপার রাইফেল

স্নাইপার রাইফেল, ফায়ার আর্মস কিংবা আ্যানিমেশন গেম যাদের পছন্দ তাদের কাছে স্নাইপার রাইফেল খুবই পরিচিত একটি নাম। রাইফেলের অত্যাধুনিক সংযোজন বলা হয়ে থাকে স্নাইপার রাইফেলকে। সাধারণ রাইফেল থেকে স্নাইপার রাইফেলের গঠন ও ব্যবহারশৈলী আলাদা হয়ে থাকে। এতে লাগানো থাকে টেলিস্কোপ। এক কথায় বলা যেতে পারে, স্নাইপার রাইফেল হলো এমন এক ধরনের অস্ত্র যা দিয়ে টেলিস্কোপের সাহায্যে নির্ভুলভাবে কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা যায়।

সাধারণ ছোট অস্ত্র থেকে এর প্রধান পার্থক্য হল, অনেক দূর থেকে একে কাজে লাগানো যায়। যে কারণে অন্য কোনো অস্ত্রের থেকে প্রতিযোগিতার পাল্লায় স্নাইপার সবসময় এগিয়ে থাকে।

যারা স্নাইপার রাইফেল পরিচালনা করে থাকে তাদেরকে বলা হয় ‘স্নাইপার’। তবে চাইলেই যে কেউ স্নাইপার হয়ে যেতে পারে না। স্নাইপার হওয়ার জন্য দেওয়া হয় বিশেষ ট্রেনিং। এই ট্রেনিংগুলো যেমন কষ্টকর, তেমনি দরকার ধৈর্য। দরকার হয় প্রখর দৃষ্টি শক্তির। স্নাইপারকে বলা হয় নীরব ঘাতক, কারণ এটি শত্রুর অজান্তেই দূর থেকে শত্রুকে হঠাৎ মেরে ফেলে। পাঠকদের আজ আমরা জানাবো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৫টি স্নাইপার রাইফেল সম্পর্কে__

১) L115A3 AWM sniper

এটি ভয়ঙ্কর এক স্নাইপার রাইফেল। বর্তমান দুনিয়ার সেরা ৪-৫টি স্নাইপার রাইফেলের মধ্যে এটা অন্যতম। অনেকে এটাকে সেরা স্নাইপার রাইফেলের তকমাও দিয়ে থাকেন। প্রস্তুতকারী দেশ ব্রিটেন। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান accuracy international, ১৯৯৭ সাল থেকে আজ অবধি এটা ব্যবহার হয়ে আসছে। এই রাইফেলটির ওজন ৬.৯ কেজি। দৈর্ঘ ৪৮.৪ ইঞ্চি। রেঞ্জ ১৪০০ মিটার। এর প্রতিটি ম্যাগাজিনে ৫টি বুলেট থাকে। এটি বোল্ট অ্যা্কশন ধাঁচের। বর্তমানে এই রাইফেলটি ব্যবহার করে থাকে বাংলাদেশ, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, রাশিয়া ও ব্রিটেন। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে এই স্নাইপার রাইফেলটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

২) Accuracy International AS50 sniper

এই রাইফেলটিরও জন্মভূমি ব্রিটেন। ব্রিটিশ ফার্ম Accuracy International এটার প্রস্তুত কারক। ব্রিটিশদের তৈরি যে কতগুলো রাইফেল সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় তার মাঝে AS50 sniper রাইফেলটি অন্যতম। এই রাইফেলটি অনেক দূর থেকে টার্গেটকে এনগেজ করতে পারে এবং বিস্ফোরক বুলেটের সাহায্যে সহজেই টার্গেটকে ধরাশায়ী করতে পারদর্শী। এই রাইফেলটিতে রয়েছে গ্যাস অপারেটেড semi-automatic একশন এবং হাইলি সফিসটিকেটেড মাজল ব্রেক, যা অস্ত্রের পারফর্মেন্স আরও দ্রুত এবং সফল করতে সাহায্য করে। রাজসিক এই স্নাইপার রাইফেলটির ওজন অনেক কম এবং সহজে বহন ও সংযোজনযোগ্য হওয়ায় এটি অনেক বাহিনীর কাছে প্রথম পছন্দ। এটির ব্যবহারকারি দেশ ব্রিটেন। ধরণ সেমি অটো স্নাইপার রাইফেল। ২০০৬ সাল থেকে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। এটির ওজন ১২.২ কেজি। দৈর্ঘ্য ৫৩.৯ ইঞ্চি। রেঞ্জ ১৫০০ মিটার।

৩) Cheytac Intervention M200 sniper

ভয়ঙ্কর এই স্নাইপার রাইফেলটির প্রস্তুতকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। Cheytac LLC কোম্পানি এটার প্রস্তুতকারক। এই রাইফেলটির ওজন ১৪.১ কেজি। দৈর্ঘ্য ১৩০০ এমএম, এর মধ্যে বেরেলের দৈর্ঘ্য ৭৪০ এমএম। রাইফেলটির ম্যাগাজিনে ৭টি গুলির ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এটি বোল্ট অ্যাকশন প্রকৃতির। এর ফায়ারিং রেঞ্জ ২৫০০ মিটার। এটি তৈরি হয়েছিল ২০০১ সালে। তবে এটি কয়েকটি দেশ বাদে তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। এটির ফ্রেম কার্বন ফাইবারের তৈরি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক ও ইতালি এটির ব্যবহারকারি দেশ।

৪) Dragunov SVD sniper

অত্যন্ত কার্যকরি এই স্নাইপার রাইফেলটির প্রস্তুতকারী দেশ রাশিয়। এটির উঁপাদনকারি প্রতিষ্ঠান Izhmash Ordnance Factories Organization, Norinco। ১৯৬৩ সাল থেকে এটির ব্যবহার হয়ে আসছে। এই রাইফেলটির ওজন ৪.৪০ কেজি। দৈর্ঘ্য ৪৪.৭ মিটার। রেঞ্জ ৮০০ মিটার। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ, কম্বোডিয়া-ভিয়েতনাম যুদ্ধ, প্রথম ও দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধে এটি ব্যাবহার করা হয়। বর্তমানে এটির ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় আছে-রাশিয়া, আফগানিস্তান, বাঙলাদেশ, আলবেনিয়া, বেলারুশ, বুলগেরিয়া, চায়না, চেক রিপাবলিক, ফিনল্যান্ড, জর্জিয়া, হাঙ্গেরি, ভারত,ইরাক, ইরান, কাজাখাস্তান, তুরস্কসহ আরও বেশকিছু দেশ।

৫) L42 Enfield sniper

এই স্নাইপার রাইফেলটিরও প্রস্তুতকারী দেশ ব্রিটেন। উঁপাদকারী প্রতিষ্ঠান James Paris Lee, RSAF Enfiel। ১৯০৭ সাল থেকে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে। এর ওজন ৪ কেজি। দৈর্ঘ্য ৪৪.১৫ ইঞ্চি। রেহ্জ ৫০৩ মিটার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, কোরিয়ান যুদ্ধ, আফগান যুদ্ধ, আরব-আসরাইল যুদ্ধ, নেপালের যুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এই স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধীকে হত্যায়ও ব্যবহার করা হয়েছিল এই রাইফেলটি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফিকা, ভারত, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ আরও কয়েকটি দেশ এটা ব্যবহার করে থাকে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য