সর্বকালের সেরা ১০ স্পিনার, তালিকায় আছেন এক বাংলাদেশি!

ক্রিকেট বিশ্বের এত এত বাঘা বাঘা স্পিনারদের মধ্য থেকে সর্বকালের সেরা ১০ জন স্পিনারের তালিকা তৈরি করা চাট্টিখানি কথা নয়। তবুও ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের কথা চিন্তা করে এমন অনেক কঠিন কাজই করতে হয়। তাই আমাদের আজকের প্রতিবেদনে আমরা তুলে এনেছি ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এমনই ১০ জন স্পিনারের গল্প, যাদের বলের ঘূর্ণিতে লুকিয়ে থাকত মারণ বিষ। আমাদের এই তালিকায় স্থান পেয়েছে একজন বাংলাদেশিও।

১) মুত্তিয়া মুরালিধরণ (শ্রীলংকা)

একটি দৃশ্য কল্পনা করা যাক। অদ্ভুতুড়ে বোলিং অ্যাকশনের একজন বোলার ক্যারিয়ারের শুরুতেই একজন বিখ্যাত আম্পায়ার দ্বারা চাকিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত হলেন। তিন বছর পর আবারও একই ঘটনা ঘটলো, তবে এবা্র অন্য আরেকজন বিখ্যাত আম্পায়ার দ্বারা। চারদিকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলো। সবাই ওই খেলোয়াড়ের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। স্বাভাবিক ভাবে চিন্তা করলে ওই বোলারের ক্যারিয়ার ওখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু নামটা যখন মুত্তিয়া মুরালিধরণ তখন আপনার এই ধারণা বিফলে যাবে। লড়াকু তামিল পরিবার থেকে উঠে আসা মুরালিধরণ শুধু নিজেকে প্রমানই করেননি, সর্বকালের সবার সেরা হিসেবে নিজেকে প্রতোইষ্ঠিত করে তবেই ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে যেসব রেকর্ড গড়ে গেছেন তা কারও পক্ষে ভাঙা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শ্রীলংকার ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন মুরালিধরণ। ১৯৯২ সালের অগাস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয় তার। আর ১৯৯৩ সালে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। ক্যারিয়ারের ১৩৩তম টেস্টে ক্রিকেটকে বিদায় জানান মুরালি। আগেই তিনি টেস্ট ক্রিকেটে শিকার করে ফেলেছেন ৮০০ উইকেট! সবার উপরে নিয়ে গেছেন নিজেকে। ওয়ানডে ক্রিকেটেও সবার উপরে থেকেছেন এই স্পিনার। এই ফরম্যাটে মুরালির সংগ্রহ ৫৩৪ উইকেট।সবমিলিয়ে ১৩৩৪ উইকেট শিকার করে তিনি নিজেকে করে গেছেন সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে এক কিংবদন্তী।

২) শেন ওয়ার্ন (অস্ট্রেলিয়া)

ক্রিকেট নিয়ে ধারণা থাকা যে কেউই বলতে পারবেন সর্বকালের সেরা লেগস্পিনারের নাম। তিনি হলেন লেগস্পিনের রাজা অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন। ক্রিকেটের ১৪০ বছরের ইতিহাসে যতজন লেগস্পিনার খেলেছেন, শেন ওয়ার্ন নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে সেরা স্পিনার। লেগস্পিনে আশ্চর্যজনক প্রতিভা হিসেবে নন্দিত ছিলেন শেন ওয়ার্ন। ইতিহাসের সেরা এই লেগস্পিনারের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল খুবই সাদামাটাভাবে। ভারতের বিপক্ষে সিডনিতে ১৫০ রানে মাত্র ১ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন শেন ওয়ার্ন। কিন্তু ধীরে ধীরে খোলস থেকে বেরিয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্টেই নিজের বিরল প্রতিভার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন শেন ওয়ার্ন, এমসিজিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৫২ রানে ৭ উইকেট নিয়ে সেই শুরু। তারপর থেকে তার লেগস্পিনের জাদু দেখেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। গুগলি, হাওয়ায় ভাসানো বল, সব ক্ষেত্রেই নিজের মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন শেন ওয়ার্ন। ক্যারিয়ারে ১৪৫ টেস্ট ৭০৮ উইকেট নিয়ে লেগস্পিনারদের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার তিনি। এবং ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। ওয়ানডেতেও সমআন কার্যকরি ছিলৈন তিনি। ১৯৪ ম্যাচে ২৯৩ উইকেট। মোট ১০০১ উইকেট নিয়ে তিনি সেরা স্পিনারদের তালিকায় দুই নম্বরে অবস্থান করছেন।

৩) অনিল কুম্বলে (ভারত)

লেগস্পিনারদের মধ্যে অনিল কুম্বলেই হয়তো একমাত্র বোলার, যিনি তার সামর্থ্যের সবটুকু ব্যবহার করতে পেরেছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অনিল কুম্বলে তার বোলিংয়ে বড় টার্ন করানোয় গুরুত্ব দেননি। আর এ কারণেই তিনি প্রথাগত লেগস্পিনারদের মত বোলিংয়ে বড় বড় টার্ন পেতেন না, তবে তিনি নিখুদ লাইন লেংথের সঙ্গে বাউন্স যুক্ত করে ব্যাটসম্যানের নাভিশ্বাস উঠিয়ে ফেলতেন। আর এই ফর্মুলাযই তাকে ভারতের ইতিহাসের সেরা স্পিনারে পরিণত করেছে। অনিল কুমলে ১৩২ টেস্ট খেলে শিকার করেছেন ৬১৯ উইকেট। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে তার থেকে বেশি উইকেট পায়নি আর কোন বোলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কপিল দেব ৪৩৪ উইকেট নিয়ে অনিল কুম্বলের থেকে অনেক পিছিয়ে। নিকট ভবিষ্যতেও কেউ অনিল কুম্বলেকে ছাড়িয়ে যাবে সে সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি মাত্র দ্বিতীয় বোলার যিনি এক টেস্টের এক ইনিংসের সবগুলো অর্থাৎ ১০ টি উইকেটই পেয়েছেন। ১৯৯৯ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৭৪ রান দিয়ে তিনি এই কীর্তি গড়েছিলেন।

৪) রঙ্গনা হেরাথ (শ্রীলংকা)

১৯৯৯ সালে গলে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন হেরাত। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক হয় তার। তারপর প্রায় দীর্ঘ দুই দশক শ্রীলংকার স্পিন আক্রমণের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। মুত্তিয়া মুরালিধরন পরবর্তী যুগে অজন্তা মেন্ডিসের আবির্ভাব ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেললেও ক্যারম বলের রহস্য ভেদ হতেই তার ধার কমে। ফলে দলেও মেন্ডিসের গুরুত্ব কমে। তবে হেরাথ থেকেছেন ধারাবাহিকভাবে। ৯৩ টি টেস্ট খেলে তার ঝুলিতে এসেছে ৪৩৩টি উইকেট। এখন পর্যন্ত তিনি বিশ্বের ১০ জন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের মধ্যে একজন। এই বাঁহাতি স্পিনার ৩৪ বার পাঁচটি উইকেট শিকার করেছেন। তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কীর্তি হল তিনি এক ইনিংসেই ৯ উইকেট শিকার করেছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই সেই ম্যাচে তিনি ১৪ উইকেট শিকার করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটেও তিনি ৭১ ম্যাচ খেলে শিকার করেছেন ৭৪ উইকেট।

৫) মুশতা্ক আহমেদ (পাকিস্তান)

আরেক বিখ্যাত পাকিস্তানি লেগস্পিনার আব্দুল কাদেরকে রোল মডেল মেনে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মুশতাক আহমেদ। এবং খুব দ্রুতই পাকিস্তান দলে নিজেকে মেলে ধরেন। তবে অনেক পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের মতো মুশতাকের ক্যারিয়ারটাও খুব একটা দীর্ঘ হয়নি। ৫২ টেস্ট খেলে ১৮৫ উইকেট নিয়ে শেষ হয়ে যায় তার ক্যারিয়ার। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি শেষবার মাঠে নেমেছিলেন। তবে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে একটি দীর্ঘ ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন মুশতাক। তিনি কাউন্টি ক্রিকেটে সামারসেট, সাসেক্স ও সারের হয়ে খেলেছেন। সেরা ১০ স্পিনারের তালিকা হয়তোবা তিনি পরিসংখ্যানের হিসেবে শেষের দিকেই জায়গা পাওয়ার যোগ্য। তবে ক্রিকেটে তার কার্যকারিতার দিক বিবেচনায় তাকে রাখা হয়েছে সেরা ৫ এ।

৬)হরভজন সিং (ভারত)

ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্পিনার হরভজন সিং ১০৩ টি টেস্ট খেলে সংগ্রহ করেছেন ৪১৩ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এক ইনিংসে ৮৪ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৮ উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন এই অফস্পিনার, তবে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন ১৫ টি। তাছাড়াও ক্যারিয়ারে ২৫ বার এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার গৌরব অর্জন করেন এই ডানহাতি অফ-ব্রেক বোলার। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও উজ্জ্বল এই তারকা ক্রিকেটার ২৩৬ টি একদিনের ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ২৬৯ টি উইকেট। তাছাড়া একদিনের ক্রিকেটে মাত্র ৩১ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছে এই বোলার। একদিনের ক্রিকেটে এক ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ৩ বার।

৭) ড্যানিয়েল ভেট্টরি (নিউজিল্যান্ড)

৭ নম্বরে আছেন বাংলাদেশ দলের বর্তমান স্পিন কোচ নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টরি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৯৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভেট্টরির টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিউইদের হয়ে ১১৩ টেস্ট খেলে ম্যাচে ৩৪ দশমিক ৩৬ গড়ে ৩৬২ উইকেট শিকার করেছেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিনি ২৯৫ ম্যাচে ৩১.৭১ গড়ে ৩০৫ উইকেট শিকার করেছেন। ক্রিকেট ইতিহাসের সত্যিকারের এই ভদ্রলোক বিশ্বের বাঁহাতি বোলারদের মাঝে সবচাইতে বেশি উইকেট শিকারী। বল হাতে তিনি সবসময় দলের প্রয়োজনে নিজের সেরাটাই দিয়ে যেতেন। তার বলে হয়তো খুব একটা স্পিন ছিল না, তবে তারপরও তিনি একজন স্পিনার হিসেবে ছিলেন খুবই কোয়ালিটি সম্পন্ন ও কার্যকরী।

৮) সাকিব-আল-হাসান (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচাইতে বড় পোস্টার বয় সাকিব আল হাসান। সাকিব আল হাসানের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরুর দিকটাকে আপনি বলতে পারেন মরুর দেশে এক ফোঁটা পানি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জিততে পারার, বিশ্বসেরা হবার বিশ্বাস অর্জনকারী এই ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পথ চলা শুরু হয় ২০০৬ সালের অগাস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তারপর থেকে তিনি কখনোই থামেননি, ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সব ইনিংসের পাশাপাশি তিনি বল হাতেও দেশকে দিয়ে গেছেন দুহাত ভরে। ব্যাটিংয়ের রেকর্ড বাদ দিলেও তার নামের পাশে বল হাতে আছেন নানান রেকর্ড। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী, ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে উইকেট এর ডাবল সেঞ্চুরি পুরণ। দেশের প্রথম বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট শিকার তাকে দিনকে দিন নিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটের লিজেন্ডদের কাতারে। ক্রিকেট ইতিহাসে তিন ফরম্যাটেই একমাত্র টপ এই অলরাউন্ডার মাত্র ৫৬ টেস্টেই শিকার করেছেন ২১০ উইকেট। ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন ১৮ বার। এই ৫৫ টেস্টের অনেক ম্যাচেই তিনি এক ইনিংসে বল করেছেন, ম্যাচে বৃষ্টির বাধা কিংবা দলের ইনিংস ব্যবধানে বা বড় ব্যবধানে হারের কারণে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০৬ ম্যাচে ২৬০ উইকেট ও ক্রিকেটের সবচাইতে সংক্ষিপ্ত সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতে তিনি স্বীকার করেছেন ৭৬ ম্যাচে ৯২ উইকেট। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের মাত্র ১২ থেকে ১৩ বছরেই ৫৬০ টিরও বেশি উইকেট শিকার করে ফেলেছেন।

৯) আব্দুল কাদির (পাকিস্তান)

আব্দুল কাদের পাকিস্তানের হয়ে ৬৭ টেস্টে ২৩৬ উইকেট নিয়েছেন। একজন পাকিস্তানি বোলার হিসেবে কোন টেস্টের সেরা বোলিং কীর্তির মালিকও আব্দুল কাদের। ১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কাদেরের ৫৬ রানে ৯ উইকেট নেয়ার কীর্তিটাই আজও কোন পাকিস্তানি বোলার পক্ষে সেরা বোলিং ফিগার হিসেবে রয়ে গেছে। বোলিং এর ক্ষেত্রে তিনি দারুণ সব অস্ত্র ব্যবহার করতেন এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ছিল গুগলি। আব্দুল কাদেরের গুগলি ব্যাটসম্যানদের জন্য ভীষণ রকম দুর্ভেদ্য, অননুমেয় ও অস্বস্তিকর ছিল। মাত্র একটি অস্ত্রের যথাযথ প্রয়োগেই তিনি আশির দশকে ব্যাটসম্যানের উপর রাজত্ব করেছেন। যখন ইমরান খান পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার ছিলেন, ঠিক সেইসময়ে আব্দুল কাদের নীরবে পাকিস্তানের অনেক জয়ের কারিগর হয়েছিলেন। ওয়ানডেতেও তিনি ১০৪ টি ম্যাচ খেলে স্বীকার করেছিলেন ১৩২ উইকেট।

১০) স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল (অস্ট্রেলিয়া)

তালিকার ১০ নম্বরে স্থান পেয়েছেন অজি লেগস্পিনার স্টুয়ার্ট ম্যকগিল। তবে তাকে তালিকায় সুযোগ করে দেবার জন্য তার বোলিং রেকর্ডের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে তার প্রতিভা। ক্যারিয়ারের পুরোটা সময়জুড়ে স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের জন্য দুঃখ হয়ে ছিলেন শেন ওয়ার্ন। বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাবান কিন্তু সবচেয়ে দুর্ভাগ্যবান লেগ স্পিনার হিসেবে মনে করা হয় স্টুয়ার্ড ম্যাকগিলকে, কারণটাও খুব পরিস্কার,ম্যাকগিলের যখন আবির্ভাব হয় তখন অস্ট্রেলিয়া দলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সর্বকালের সেরা লেগস্পিনার শেন ওয়ার্ন। তারকাবহুল বোলিং লাইন আপ থাকায় দলের দ্বিতীয় লেগ স্পিনার হিসেবে ম্যাকগিলের প্রয়োজন মনে হয়নি অস্ট্রেলিয়ান টিম ম্যানেজমেন্টের। আর এ কারণে ক্যারিয়ারজুড়ে শেন ওয়ার্নের ছায়া হয়ে থাকতে হয়েছে প্রতিভাবান এই লেগস্পিনারকে। যদি অন্য কোন দলে খেলতেন বা অন্য কোন যুগে খেলতেন তবে হয়তো সহজেই খেলতে পারতেন ১০০ টেস্ট কিংবা নিতে পারেন ৪০০ এর বেশি উইকেট। সেটা হয়নি, মাত্র ৪৪ টেস্ট ম্যাচে ২০৮ উইকেটই তার প্রতিভার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

One thought on “সর্বকালের সেরা ১০ স্পিনার, তালিকায় আছেন এক বাংলাদেশি!

  1. Pingback: বিরাট কোহলির ‘চুরি’ ও অন্যান্য গল্প…! | BD Times 365

মন্তব্য