বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৬টি আ্যাটাক হেলিকপ্টার ও সেগুলোর দরদাম

আধুনিক যুদ্ধে হেলিকপ্টার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যুদ্ধক্ষেত্রে ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর কাছ থেকে হামলা করা, লড়াইরত সেনাদের কাছে প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র বহন করা, প্রয়োজনে আহত সেনাদের তুলে নিয়ে যাওয়া কিংবা সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নামিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে হেলিকপ্টারের ভূমিকা অতুলনীয়।

যুদ্ধবিমানের চেয়ে ধীরগতির হলেও আ্যাটাক হেলিকপ্টার বা হেলিকপ্টার গানশিপ পদাতিক সেনাদের সঙ্গে কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারে। এতে করে প্রতিপক্ষকে সহজেই কাবু করা যায়। আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, তুরস্কসহ বেশ কিছু দেশ সামরিক হেলিকপ্টার তৈরিতে মনোযোগী হয়েছে।

পাঠকদের জন্য আজকে থাকছে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৬টি আ্যাটাক হেলিকপ্টার বা হেলিকপ্টার গানশিপ সম্পর্কে বিস্তারিত। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক_

১) মিল এমআই-২৪ (ন্যাটো নাম: হাইন্ড)

১৯৬৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের হয়ে প্রথম আকাশে ওড়ে মিল এমআই-২৪। তর্কসাপেক্ষে বিশ্বের সেরা এই হেলিকপ্টার গানশিপটি অস্ত্রে পাশাপাশি সৈন্য বহনে সক্ষম। ৫০টির বেশি দেশ মিল এ্মআই-২৪ ব্যবহআর করেছে বা করছে। একে উড়ন্ত ট্যাংকও বলা হয়। এই আ্যাটাক হেলিকপ্টারটির পুরু বর্ম ও প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র বহনের ক্ষমতা একে শত্রুর কাছে আতঙ্কের বস্তুতে পরিণত করেছিল। প্রায় ৬০ ফুট লম্বা মিল-২৪ ঘন্টায় ৩৩৫ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে, পাল্লঅ দিতে পারে ৪৮০ কিলোমিটার। ৮জন সৈন্য পরিবহনে সক্ষম এই হেলিকপ্টারটিতে গ্যাটলিং গান, অটোক্যানন, বোমা ও অনেকগুলো রকেট বহন করা যায়।

এই হেলিকপ্টারের সবচেয়ে বেশি শিকার সম্ভবত আফগান মুজাহিদরা। মিল এসআই -২৪ কে আফগান মুজাহিদরা ‘শয়তানের রথ’ নামে ডাকতো। একেকটি মিল-২৪ এর মূল্য ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২) বোয়িং এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি

এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি মার্কিন বাহিনীতে যুক্ত হয় ১৯৮৬ সালে। দিনে-রাতে সমানভাবে আক্রমনে পারদর্শী এই নিখাদ হেলিকপ্টার গানশিপটি মিসাইল, রকেটসহ ৩০ মিলিমিটার মেশিনগান বহন করে। মার্কিন বাহিনীর প্রধান আক্রমণ হেলিকপ্টার হিসেবে অ্যাপাচি ইরাক, আফগানিস্তানসহ অনেক যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। ভার্সন ভেদে এর দাম ২০ থেকে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

৩) কমোভ কেএ-৫০ (ন্যাটো নাম: হোকাম এ)

এই অ্যাটাক হেলিকপ্টারটিকে ‘কালা হাঙ্গর’ নামে ডাকা হয়। ১৯৯৫ সালে রুশ সেনাবাহিনীতে যুক্ত হয় এটি। এটি একক সিট বিশিষ্ট হেলিকপ্টার। বিশ্বের প্রথম অ্যাটাক হেলিকপ্টার হিসেবে এর সিটে অটো পাইলট ইজেকশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। কমোভ কেএ-৫০ পুরু বর্ম বিশিষ্ট হেলিকপ্টার গানশিপ। এটি অনেকগুলো মিসাইল ও মেশিনগান বহনে সক্ষম। ৫২ ফুট লম্বা হেলিকপ্টারটি রুশ বাহিনীর হয়ে চেচনিয়া ও সিরিয়াতে যুদ্ধ করেছে। এর গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫০ কিলোমিটার। এর বাজার মূল্য প্রায় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

৪) অগুস্তা এ-১২৯ মানগুস্তা (বেজী)

ইতালির তৈরি এই অ্যাটাক হেলিকপ্টারটি ১৯৮৩ সাল প্রথম আকাশে উড়ে। সম্পূর্ণ ইউরোপীয়ান প্রযুক্তির সাহায্যে বানানাও প্রথম অ্যাটাক হেলিকপ্টার এটি। ৪০ ফুট লম্বা মানগুস্তা দুই সিট বিশিষ্ট হেলিকপ্টার। এর গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ২৮০ কিলোমিটার এবং রেঞ্জ প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। মেশিনগান, মিসাইল ও রকেট বহনে সক্ষম এই গানশিপটি ইতালীয়দের হয়ে আফ্রিকা, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। এর প্রত্যেকটির মূল্য প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার

৫) ইউরোকপ্টার টাইগার

জার্মানি ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ইউরোকপাটার টাইগার। এই হেলিকপ্টারটি গ্লাস ককপিট, স্টেলথ প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী ইঞ্জিনের কারণে বেশ বিপজ্জনক সমরযান হিসেবে পরিচিত।
৪৬ ফুট লম্বা, দুই আসন বিশিষ্ট টাইগার এর গতি ঘন্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, রেঞ্জ প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। এই অ্যাটাক হেলিকপ্টারটি দিন-রাতে, সমুদ্রে বা যে কোন আবহাওয়ায় কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে পারে। টাইগার অত্যন্ত ক্ষিপ্র গতির হেলিকপ্টার এবং ওজনে অত্যন্ত হালকা। ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইরাক ও লিবিয়া যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছে এই হেলিকপ্টারটি। এর প্রত্যেকটির বাজার মূল্য মডেল ভেদে ২৭ থেকে ৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

৬) বেল এএইচ-১ ভাইপার

মার্কিন মেরিন সেনাদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে বেল এএইচ-১ ভাইপার অ্যাটাক হেলিক্প্টারটির। এর ডাক নাম ‘জুলু কোবরা’। দুই আসন বিশিষ্ট হেলিকপ্টারটি মেশিনগানের পাশাপাশি সাইডউইন্ডার, লংবো বা হাইড্রার মতো মারাত্মক সব রকেট ও মিসাইল বহনে সক্ষম। দিনে-রাতে যে কোন সময় এটি সমান দক্ষতায় অভিযান চালাতে পারে।

ভাইপার ৫৮ ফুট লম্বা, গতিবেগ ঘন্টায় ৩০০ কিলোমিটার, রেঞ্জ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। অত্যাধুনিক এভিওনিকস যুক্ত এই অ্যাটাক হেলিকপ্টারটি যুদ্ধক্ষেত্রে এখনও সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি। ২০১০ সালে এটি মার্কিন মেরিন সেনা বহরে যুক্ত হয়। এর প্রত্যেকটির দাম ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য