ফর্সা ও সুন্দর বাচ্চা পেতে গর্ভাবস্থায় যা খাবেন

যে কোন নারীর জন্য পরম আরাধ্য হল তার সন্তান। আমাদের দেশের সব গর্ভবতী মায়ের একটাই প্রত্যাশা, তিনি যেন একটি সুস্থ্য, সুন্দর ও ফর্সা সন্তান জন্ম দিতে পারেন। এ জন্য গর্ভবতী মায়েরা প্রচলিত কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলেন। তারা গর্ভাবস্থায় নানা রকম সাদা খাবার খান, এই ভেবে যে এতে তাদের গর্ভের সন্তার ফর্সা হবে।

যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে খাদ্য নির্বাচনের উপর সন্তানের গায়ের রঙ কেমন হবে সেটা নির্ভর করে না। এটা নির্ভর করে বাবা-মায়ের কাছ থেকে যে জিন পেয়েছে তার উপর। তবে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, গর্ভবতী অবস্থায় যেসব খাবার গ্রহণ করা হয়, তার ওপর বাচ্চার গায়ে রঙ নির্ভর করে। এতে বাচ্চা ফর্সাও হতে পারে। আপনিও যদি এসব প্রচলিত কথায় বিশ্বাসী হন তাহলে খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারেন এসব সাদা খাবার।

এসব খাবার খেলে বাচ্চার রঙ ফর্সা হবে এমন নিশ্চয়তা কোন ডাক্তার দিতে পারেননি, তবুও গর্ভাবস্থায় এইসব খাবারগুলো আপনিও খেয়ে দেখতে পারেন। রঙ ফর্সা না হলেও খাবারগুলোর পুষ্টিগুণের কারণে বিফলে যাবে না। তো আসুন জেনে নেই সেই খাবারগুলো সম্পর্কে যেগুলো আপনি গর্ভাবস্থায় খাবেন__

১) নারকেল

আপনি যদি ফর্সা বাচ্চা চান তাহলে নারকেলের সাদা শাঁসটা খাওয়ার অভ্যেস করুন। কারণ নারকেলের সাদা শাঁস বাচ্চার গায়ের রঙ ফর্সা হতে সাহায্য করে।

২) জাফরান-দুধ

জাফরানে আছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম, কপার, আয়রন, ভিটামিন সি সহ প্রায় ১৫০টি কার্যকরি উপাদান যা গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ত্বকের রঙ উজ্জ্বল ও ফর্সা করতে সাহায্য করে। আর এই জাফরান দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ত্বকের রঙ ফর্সা করে, ত্বক উজ্জ্বল ও কোমল করে, চুলকে করে তোলে ঝলমলে, ত্বকে বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করে।

৩) ডিম

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি নারীর উচিত বেশি বেশি ডিম খাওয়া। বিশেষ করে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ মাসের মধ্যে ডিমের সাদা অংশ খাওয়া উচিত। ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন ও অ্যালবামিন থাকে। যা ত্বকে টানটান করে, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে, ত্বকের অতিরিক্ত তৈল শোষণ করে। এমনকি ডিমের সাদা অংশে থাকা ভিটামিন এবং খনিজ ত্বকের অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত উপকারি।

৪) দুধ

গর্ভাবস্থায় প্রতিটি না্রীর উচিত বেশি বেশি দুধ খাওয়া। দুধ বাড়ন্ত ভ্রুনের সুগঠনের জন্য অতি আবশ্যকীয় উপাদান। দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার যেমন-পনির এবং দই ক্যালসিয়ামের একটি বড় উৎস, যেটি বাচ্চার শক্ত হাঁড় গঠনের জন্য বেশ প্রয়োজনীয়। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত দুধ পান করলে বাচ্চার উজ্জ্বল ত্বক পেতে সেটা অসামান্য ভুমিকা রাখে।

৫) আমন্ড বাদাম

আপনি যদি বাচ্চার সুন্দর ও ফর্সা্ ত্বক চান তাহলে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত শুকনো বা ভেজানো আমন্ড বাদাম খান। অনেকেই বিশ্বাস করেন বাদম মিশ্রিত দুধ গায়ের রঙ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। আমন্ড বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমানে রাইবোফ্লেবিন ও এল-ক্যার্নিটাইন, যা শিশুর মস্তিষ্কের উন্নতিতে সাহায্য করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। এতে রয়েছে ফসফরাস যা শিশুর দাঁত ও হাড়ের জন্য খুবই উপকারি। এছাড়া আমন্ডে প্রচুর ভিটামিন-ই থাকে, যেটা শিশুর ত্বক, ধমনী, চুল ও নখের জন্য অপরিহার্য।

৬) ঘি

গবেষণায় দেখা গেছে যেসব নারীরা গর্ভাবস্থায় খাবারের সঙ্গে বেশি মাত্রায় ঘি খেয়ে থাকেন তাদের প্রসব যন্ত্রণা কম হয়। ঘি গর্ভস্থ ভ্রুণের বর্ণ উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে। ফলে সুস্থ, সুন্দর, ফর্সা বাচ্চা পেতে খাবারের তালিকায় নিয়মিত ঘি রাখুন।

৭) মৌরি

মৌরি খুবই সহজলভ্য একটি জিনিস। নিয়মিত মৌরি খেলে শরীরে ক্যালসিয়াম ও জিঙ্কের উপাদান বেড়ে যায়। যেটা শরীরে অক্সিজেনের ভারসাম্য ঠিক রাখে। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে সাহায্য করে। মৌরি ভেজানো পানি ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে খুবই কার্যকরি। গর্ভবতী নারীদের প্রতিদিন সকালে ৩ মিলি মৌরি ভেজানো পানি খাওয়া উচিত। এতে সন্তানের গায়ের রঙ অনেক উজ্জ্বল হবে। পাশাপাশি এটা খেলে আপনার বমি বমি ভাবটাও কেটে যাবে।

৮) কমলা লেবু

গর্ভাবস্থায় রসালো ফলের মধ্যে কমলা লেবু অবশ্যই খাওয়া উচিত। এটি ভিটামিন-সি তে ভরপূর, যা গর্ভের বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য খুবই উপকারি এবং বাচ্চার ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতেও এটা খুব বড় ভুমিকা রাখে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য