বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতির ১০ টি সুপারবাইক!

মানুষ যেমন আকাশে উড়তে চায়, তেমনি দ্রুত গতিতে ছুটতে চায়। গতির প্রতি মানুষের টান আজন্ম। আটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং মানুষের দ্রুত গতিতে ছুটে চলার সেই অদম্য ইচ্ছাকে পূরণ করে সেটাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মানুষ এখন চোখের পলকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটে চলতে পারে। তবে এ পর্যন্ত যতগুলো দ্রুত গতির যানবাহন আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো মোটরবাইক। কারণ মোটরবাইকের দাম মানুষের হাতের নাগালে এবং সে নিজে চালিয়ে এটার গতির রোমাঞ্চ অনুভব করতে পারে। দ্রুতগতিতে বাইক চালানো অনেকের কাছে নেশার মতো, কারও কাছে আবার প্যাশন। সবাই চায় দ্রুতগতির সুপার বাইকের মালিক হতে। কিন্তু কি আছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতির সুপার বাইকগুলোতে?

আজ আমরা পাঠকদের জানাবো বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও দ্রুত গতির ১০টি সুপার বাইক সম্পর্কে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক__

১) Dodge Tomahawk

বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত গতির মোটরবাইক Dodge Tomahawk। এটির দানবীয় ঘন্টায় ৪২০ মাইল বা ৬৭৬ কিলোমিটার গতিবেগের জন্য এখন পর্যন্ত এটাই বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বাইক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত Dodge কোম্পানি সর্বপ্রথম ২০০৩ সালে এই বাইকটি বাজারে ছাড়ে। এই দানবীয় বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে 8.3 Liter V-10 SRT Dodge Viper ইঞ্জিন, যেটি সর্বোচ্চ ৫০০ হর্সপাওয়ার পর্যন্ত শক্তি অর্জন করতে পারে।

এই বাইকটির মডেলও অন্য সকল বাইক থেকে আলাদা, এতে ব্যবহার করা হয়েছে চারটি চাকা। পিছনে দুটি আর সামনে দুটি চাকা রয়েছে বাইকটিতে। শূন্য থেকে ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার গতি তুলতে বাইকটি সময় নেয় মাত্র ১.৫ সেকেন্ড। এই বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২-স্পিড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন এবং এটির চাকার ঘূর্ণন ৪২০০ আরপিএমে ৭১২ নিউটন/মিটার।

২) kawasaki Ninja H2R

জাপানের বিখ্যাত মোটরগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Kawasaki Motorcycle & Engine Company এটি তৈরি করেছে। বাইকটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গতির বাইক। এই বাইকটি ৩১০ হর্স পাওয়ার পর্যন্ত শক্তি অর্জন করতে পারে এবং এর গতিবেগ ঘণ্টায় ২৪৯ মাইল বা ৪০০ কিলোমিটার। এই বাইকে ব্যবহার করা হয়েছে ৩০০ হর্স পাওয়ারের সুপারচার্ড ৯৯৮ সিসি DOHC ইঞ্জিন, যেটি ১৪০০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ৩১০ হর্স পাওয়ার শক্তি অর্জন করতে পারে এবঙ ১২৫০০ ্রপিএমে চাকার সর্বোচ্চ ঘূর্ণন হয় ১৫৬ নিউটন/মিটার। বাইকটিতে আরও ব্যবহার করা হয়েছে MotoGP এবং F1 রেসিং বাইকের ডগ রিং ট্রান্সমিশন, যেটির সাহায্যে বাইকটি দ্রুত এবঙ মসৃণভাবে শ্যাফটিং করতে পারে।

৩) MTT Turbine Superbike Y2K

গতির রেসে তৃতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন টারবাইন টেকনোলজির তৈরি MTT Turbine Superbike Y2K বাইকটি। বাজারে বিক্রির জন্য এটি তৈরি করা হয়নি। তবুও গিনেজ বুক অব ওয়াল্ড রেকর্ডসে এটি ‘দ্য মোস্ট্ পাওয়ারফুল প্রোডাকশন মোটরবাইক’ হিসেবে নাম লিখিয়েছে। এই বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে রোলস রয়েস ২৫০-সি১৮ টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিন, যেটি ৫২০০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ শক্তি ৩২০ হর্স পাওয়ার অর্জন করতে পারে। আরপিএম ২০০০ এ এটার চাকার ঘূর্ণন ৫৭৬.৫ নিউটন/মিটার। বাইকটির গতি ঘন্টায় ২২৭ মাইল বা ৩৬৫ কিলোমিটার।

৪) Kawasaki Ninja ZX-14R

চতুর্থ সর্বোচ্চ গতির Kawasaki Ninja ZX-14R বাইকটিও জাপানের Kawasaki Motorcycle & Engine Company এর তৈরি। এটি প্রতি ঘন্টায় ২০৮ মাইল বা ৩৩৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে এবঙ শূন্য থেকে প্রতি ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে এটির সময় লাগে মাত্র ২.৭ সেকেন্ড এবং ৭.২ সেকেন্ডের মধ্যে এটি ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে শুরু করে। এই বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৪৪১ সিসির চার ভাল্বের লিকুইড কুলড ইঞ্জিন, যেটি ১০০০০ আরপিএমে ব্রেক হর্স পাওয়ার ১৯৭.৩ এবঙ ৭৫০০ আরপিএমে চাকার ঘূর্ণন ১৫৮.২ নিউটন/মিটার।

৫) Suzuki Hayabusa

বিশ্বের ৫ম দ্রুত গতির এই বাইকটিও জাপানের তৈরি। সুজুকি কোম্পানির তৈরি বাইকটির নাম দেওয়া হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির পাখি পেরেগ্রিন ফ্যালকনের জাপানি নাম Hayabusa থেকে। এই পাখিটি ঘন্টায় ২০৩ মাইল বেগে উড়তে পারে। সুজুকির তৈরি বাইকটিও প্রায় কাছাকাছি গতিতে ছুটতে পারে। এটির গতিবেগ ঘন্টায় ১৯৪ মাইল বা ৩১২ কিলোমিটার। এই বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪টি সিলিন্ডার যুক্ত ১৬ ভাল্বের ৪ স্ট্রোকের ১৩৪০ সিসির DOHC ইঞ্জিন, যেটি ৯৫০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ১৯৭ হর্স পাওয়ার শক্তি অর্জন করতে পারে এবং ৭২০০ আপিএমে চাকার ঘূর্ণন ১৫৫ নিউটন/মিটার। মাত্র ২.৫ সেকেন্ডে এটি শূন্য থেকে ৬০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে।

৬) Honda CBR 1100XX Super Blackbird

এটিও জাপানের তৈরি। Honda CBR 1100XX Super Blackbird মডেলের বাইকটি হোন্ডা কোম্পানির তৈরি সবচেয়ে দ্রুত গতির বাইক। হোন্ডা এই সিরিজের বাইকগুলো ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তৈরি করেছে। ১৯৯৭ সালে হোন্ডা কোম্পানি Kawasaki ZX-11 কে পেছনে ফেলে সবচেয়ে দ্রুতগতির এই বাইকটি তৈরি করে। এই বাইকটিতে রয়েছে ১৫২ হর্স পাওয়ারের ১১৩৭ সিসির শক্তিশালী ইঞ্জিন, যেটি প্রতি ঘন্টায় ১৯০ মাইল বা ৩০৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে।

৭) Yamaha YZF R1

জাপানের বিখ্যাত মোটরবাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাইক Yamaha YZF R1। ১৯৯৮ সালে ইয়ামাহা সর্বপ্রথম R1 সিরিজের এইে বাইক তৈরি করে এবং ২০১৭ সালে সর্বশেষ YZF R1 মডেলটি বাজারে এনেছে। এই বাইকটিতে রয়েছে চারটি সিলিন্ডার যুক্ত ১৬ ভাল্বের লিকুইড কুলিং সিস্টেম যুক্ত ৯৯৮ সিসির DOHC ইঞ্জিন, যেটি ১৩৫০০ আরপিএমে ২০০ হর্স পাওয়ার পর্যন্ত শক্তি অর্জন করতে পারে এবঙ ১১৫০০ আরপিএমে চাকার ঘূর্ণন সর্বোচ্চ ১১২.৪ নিউটন/মিটার। এই বাইকটি প্রতি ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৮৬ মাইল বা ৩০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। বাইকটিতে রয়েছে অ্যাডভান্সড এন্টি লক ব্রেকিঙ সিস্টেম।

৮) MV Agusta F4 1000R

এটি ইতালির বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান MV Agusta কর্তৃক নির্মিত। F4 1000 এর দ্বিতীয় সিরিজ এবং এই মডেলৈর খুব অল্প সংখ্যক বাইক তৈরি করেছে কোম্পানিটি। এই বাইকে ব্যবহার করা হয়েছে ১৬ ভাল্বের লিকুইড কুলিং সিস্টেমের ১০০০ সিসির ইঞ্জিন, যেটি ১৭৪ হর্স পাওয়ার পর্যন্ত শক্তি অর্জন করতে পারে। এটির চাকার ঘূর্ণন ১০০০০ আরপিএমে ১১৫ নিউটন/মিটার। এই বাইকটি মাত্র ৩.১ সেকেন্ডের মধ্যে শূন্য থেকে ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করতে পারে। বাইকটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৮৪ মাইল বা ২৯৬ কিলোমিটার।

৯) Aprilia RSV 1000R Mille

Aprilia RSV 1000R Mille মডেলের বাইকটি ইতালির Aprilia কোম্পানির তৈরি সবচেয়ে দ্রুতগতির বাইক। বাইকটিতে রয়েছে ৯৯৮ সিসির ভি-টুইন ইঞ্জিন, যেটি ১০০০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ ১৪১.১৩ হর্স পাওয়ার শক্তি অর্জন করতে পারে। ৫৫০০ আরপিএমে চাকার ঘূর্ণন ১০৭ নিউটন/মিটার। বাইকটি ১০ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে। বাইকটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৭৫ মাইল বা ২৮১ কিলোমিটার।

১০) BMW K1200S

বিএমডব্লিউ কারের কথা আমরা প্রায় সবাই শুনেছি, কিন্তু খুব কম মানুষই জানতেন বিএমডব্লিউ মোটরবাইকও তৈরি করে। জার্মানির বিখ্যাত বিএমডব্লিউ কোম্পানির তৈরি BMW K1200S বাইকটি তার সাসপেনশন এবং গতির সাথে সাথে শক্তিশালী ব্রেকের জন্যও সমাদৃত। দুর্দান্ত গতিতে চলার সময় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাইকটি থামানোর জন্য এতে রয়েছে কার্যকরী ব্রেক। বিএমডব্লিউ গাড়ীর মতো এই বাইকেরও রয়েছে নজরকাড়া ডিজাইন। এই বাইকটিতে রয়েছে ১১৫৭ সিসির ১৬ ভাল্বের চারটি সিলিন্ডার যুক্ত DOHC ইঞ্জিন এবং ৬-স্পিড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন। এই বাইকটির সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা ১০২৫০ আরপিএমে ১৬৪ হর্স পাওয়ার এবং ৮২৫০ আরপিএমে চাকার ঘূর্ণন ১২৯ নিউটন/মিটার। এটির গতিবেগ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ১৭৪ মাইল বা ২৮০ কিলোমিটার। এই বাইকটি মাত্র ৩ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য