হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করেছেন বলিউডের যে মুসলিম নায়িকারা!

‘পিরিতে মজিলে মন, কিবা মুচি কিবা ডোম’ প্রচলিত এই প্রবাদটি প্রেম ধর্মে বিশ্বাসীদের ক্ষেত্র শতভাগ সত্য। প্রেমের ইতিহাসে সমাজে প্রচলিত জাত, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী এসব ভেদাভেদকে অস্বীকার করে অমরত্ব লাভ করা মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশ্বের বাঘা বাঘা তারকারাও এই ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। আজ আমরা পাঠকদের জানাবো বলিউডের বিখ্যাত সেই নায়িকাদের কথা যারা মুসলিম হয়েও হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করেছেন__

১) শাবানা রাজ-মনোজ বাজপেয়ি

বলিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা রাজ। মুসলমানের মেয়ে শাবানা রাজ ভালোবেসে বিয়ে করেছেন আরেক বিখ্যাত অভিনেতা হিন্দুধর্মাবলম্বী মনোজ বাজপেয়িকে। তারা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন কখনও ক্যামেরার সামনে আসতে দেননি। বিয়ের আগে তারা পাঁচ বছর চুটিয়ে প্রেম করেছেন, কিন্তু সে খবর কেউ আগে জানতে পারেনি।

২) দিয়া মির্জা-সাহিল সংঘা

বলিউডের মিষ্টি মেয়ে দিয়া মির্জা। মুসলিম হয়েও ভালোবেসে বিয়ে করেছেন হিন্দুধর্মাবলম্বী চলচ্চিত্র নির্মাতা সাহিল সংঘাকে। ২০১৪ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। এসনিতেই সাহিল দিয়াকে ২০০৯ সাল থেকেই চিনতেন-জানতেন। কিন্তু ২০১৪ সালে সাহিল দিয়াকে প্রপোজ করনেন। প্রপোজটাও ছিল খুব মজাদার। সাহিল নিউইয়র্কের ব্রিজে হাঁটু গেড়ে বসে দিয়াকে প্রপোজ করেছিলেন। আর দিয়া যখন বিয়েতে সম্মতি জানিয়েছিল তখন সেখানে উপস্থিত পর্যটকেরা হাততালি দিয়ে তাদের অভিনন্দিত করেছিল।

৩) দিলনাওয়াজ-সঞ্জয় দত্ত

বলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের স্ত্রী মান্যতার আগের নাম দিলনাওয়াজ শেখ। মুসলিম মেয়ে দিলনাওয়াজ ভালোবেসে বিয়ে করেন ২০ বছরের বড় হিন্দুধর্মাবলম্বী সঞ্জয় দত্তকে। পরে নিজেও হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে নাম রাখেন মান্যতা। ২০০৮ সালে সঞ্জয়-মান্যতা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। সঞ্জয় দত্তের কবাবাও একজন মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করেন।

৪) মানা শেট্রি-সুনীল শেট্টি

সুনীল শেট্টি এবং মানা শেট্টির প্রেমের গল্প খুবই রোমাঞ্চকর। এক পার্টিতে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। কিন্তু তাদের প্রথম দেখাতেই একে অপরের প্রতি ভালোবাসা হয়নি। এই ভালোবাসা দিনের পর দিন বন্ধুত্বের সাথে সাথে বেড়েছে। মুসলিম মেয়ে মানা এবং হিন্দু ছেলে সুনীল ধর্মকে কখনও তাদের ভালোবাসার মাঝে বাঁধা হয়ে আসতে দেননি। যদিও পরিবারের সম্মতি আদায়ে তাদের ৯ বছর লেগেছিল।

৫) ফারাহ খান-শিরীষ কুন্দর

ফারাহ আর শিরীষের প্রেমের গল্প তো শুরু হয়েছিল সেই মে হুনা ছবির শুটিং চলাকালীন। তবে তারা যে সত্যিই প্রেম করছেন এই বিষয়টি কোনদিন জানা যায়নি। কিন্তু তারা যখন হঠাৎ করে বিয়ের ঘোষণা দেন তখন সবাই অবাক হয়ে যায়। মুসলিম মেয়ে ফারাহ খান হিন্দুধর্মাবলম্বী শিরীষকে বিয়ে করতে পারেন এটা কেউ কল্পনাও করেনি সেসময়।

৬) নার্গিস-সুনীল দত্ত

‘মাদার ইন্ডিয়া’ ছবির শুটিংয়ে নার্গিসকে ভয়বহ আগুনের হাত থেকে নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে বাঁচিয়েছিলেন সুনীল দত্ত। এই সিনেমায় মা-ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এই জুটি। ধর্মের ভিন্নতা ও বয়সে সুনীলের চেয়ে বড় হওয়ায় তাদের বিয়ের পারিবারিক ও সামাজিক স্বীকৃতি পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।

৭) আলবিরা খান-অতুল অগ্নিহোত্রী

প্রযোজক, পরিচালক ও অভিনেত্রী অতুল অগ্নিহোত্রী এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক, ফ্যাশন ডিজাইনার আলবিরা খানের প্রেমের গল্পও শুরু হয়েছে বন্ধুত্ব থেকে। একটি ছবির শুটিংয়ে তাদের পরিচয় হয়। সেখান থেকে বন্দুত্ব এরপর কথা বলতে বলতে প্রেম। পরে এই জুটি একে অপরকেই বিয়ে করেন। আলবিরা খান বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের আপন বোন।

৮) জরিনা বহাব-আদিত্য পাঞ্চোলি

মুসলিম মেয়ে জরিনা বহাব ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন বলিউডের প্রত্যাত ভিলেন আদিত্য পাঞ্চোলিকে। আদিত্য-জরিনার প্রেমের শুরু ১৯৮৬ সালের ‘কালং কাছে টিকা’ নামের একটি ছবির শুটিংয়ের সময় থেকে। তবে খুব দ্রুতই তারা বিয়ে করে ফেলেন।

৯) নাদিরা বব্বর-রাজ বব্বর

অন্যদের মতো রাজ-নাদিরার ক্ষেত্রেও ছিল লাভ ম্যারেজ। রাজ-নাদিরা থিয়েটার থেকেই একে অপরকে ভালোবাসতো। তারা দ্রুত বিয়েও করে নিয়েছিলেন। তবে রাজ সিনেমায় এসের সফল অভিনেতা হওয়ার পর স্মিতা প্যাটেলর প্রতি আকৃষ্ট হন এবং তাকে বিয়ে করেন। এতে নাদিরা খুব দুঃখ পেলেও স্বামীকে ছাড়েননি। পরে স্মিতা তার প্রথম সন্তান প্রতীক বব্বরকে জন্ম দেওয়ার পরেই মারা যান। পরে রাজ ফিরে আসেন নাদিরার কাছে।

১০) বহীদা রহমান-কমলজিৎ সিং

অভিনেতা কমলজিৎ ‘সবুজ’ সিনেমার অভিনয় চলাকালে বহীদা রহমানের প্রেমে পড়ে যান, কিন্তু তখন বহীদা গুরু দত্তকে ভালোবাসতেন। ১০ বছর পরে নাটকীয়ভাবে তাদের বিয়ে হয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য