‘বিশ্বের সবচেয়ে গতিময় পেসার হবেন এই তিন তরুণ’

রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত শোয়েব আখতার খেলোয়াড়ি জীবনে গতির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। শোয়েবের বলের আঘাতে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলীর মাঠে লুটিয়ে পড়ার সেই দৃশ্য আজও লেগে আছে ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে দ্রুতগতির ডেলিভারির রেকর্ডও তার দখলে। শেয়েব আখতার, ব্রেট লি, শন টেইট, শেন বন্ডদের মধ্যে সেসময় প্রায়ই চলতো গতির লড়াই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট বিশ্বে নিয়মিত ৯৫ মাইল বেগে বল করার মতো বোলার নেই বললেই চলে।

এছাড়া মারকাটারি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই যুগে গতির ঝড় তোলার চেয়ে ক্রিজে ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগী বোলাররা। যে কারণে গতির ঝড় নয়, মাথা খাটিয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দিকেই নজর থাকে সবার। আর এ কারণেই ক্রিকেটে আগ্রাসী ফাস্ট বোলারদের সংখ্যা কমে আসছে।

তবে শোয়েব আখতার মনে করছেন, তার দেশেরই তিনজন তরুণ পেসার গতির ঝড় তুলতে আসছেন। এই তিন পাকিস্তানি তরুণ পেসার পারবেন গতিতে সবাইকে হার মানাতে। শোয়েবের সেই তিন বাজির ঘোড়া হলেন_ নাসিম শাহ, মুসা খান এবং হারিস রউফ। এদের দুজনের বয়স ১৯’র নিচে। অন্যজনের ২৪।

এদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠজন হলেন নাসিম। মাত্র ১৬ বছর বয়সী এ পেসার এরই মধ্যে অনুর্ধ্ব -১৯ দলের হয়ে দেখিয়েছেন হাতের জোর। তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় হারিস রউফ, ইতোমধ্যে খেলেছেন কায়েদে আজম ট্রফিতে। এছাড়া সর্বশেষ পিসিএলে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে গতির ঝড় তুলেছিলেন তিনি।

বর্তমানে নর্দান পাকিস্তানের হয়ে কায়েদে আজম ট্রফি খেলছেন মুহাম্মদ মুসা। পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে ৭ ম্যাচ খেলে শিকার করেছেন ৮ উইকেট। লাহোরের হয়ে ১০ ম্যাচ খেলা হারিস উইকেট শিকারের সংখ্যা ছিল ১১ টি। তবে দুজনই নিয়মিত প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

এ তিন বোলারের ব্যাপারে শোয়েব আখতারের ভবিষ্যদ্বাণী, ‘নাসিম শাহ, মুসা খান, হারিস রউফদের মতো তরুণ মুখগুলো বিশ্বের সবচেয়ে গতিময় পেসার হতে পারবে। আমি আশা করি তারা আমার কাছে আসবে পরামর্শ নিতে। আমি তাদের নিজের মতো করে গতিতারকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করতে পারে।’

তরুণ পেসারদের ব্যাপারে আশার বাণী শোনালেও পাকিস্তানের বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে ভিষণ হতাশ এই গতিদানব। বলেন, ‘আমার প্রায়ই মন খারাপ হয় যে ভারতীয় বোলাররা আমাকে নিয়মিত ফোন করে বোলিংয়ের ব্যাপারে নানা পরামর্শ নেয়। কিন্তু আমাদের দেশের পেসা্ররা কখনোই এটা করে না। ব্যক্তিগতভাবে তো নয়ই, দলের পক্ষ থেকেও কখনও যোগাযোগ করা হয় না। কেউ যে শিখতেই চায় না।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য