যুবককে হাত-পা বেঁধে মল-মূত্র খাওয়ালো যুবলীগ নেতা! (ভিডিও)

একের পর এক অপকর্ম করেই করেই চলেছে যুবলীগ-ছাত্রলীগ। কিছুতেই যেন থামানো যাচ্ছে নাএই দুষ্টুচক্রকে। এবার যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের পর প্রকাশ্যে মল-মূত্র খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারী (২৫) হরিনাথপুর বাজার এলাকার মহিউদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। সেই সঙ্গে আজম ব্যাপরীকে সামাজিকভাবে হেয় করতে সেই ঘটনার ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর লোকলজ্জায় এলাকা ছেড়েছেন আজম ব্যাপারী।

ভিডিওটি দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে, হরিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদারের নেতৃত্বে টুমচর এলাকার রশিদ মাতুব্বর, মো. সোলায়মানসহ ৮ জন ব্যক্তি নির্যাতন ও মল-মূত্র খাওয়ানোর কাজে অংশ নিয়েছেন। মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল ভিডিওটি ধারণ করেছেন বলেও জানা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পুরো ঘটনার নেপথ্যে থেকে উন্ধন জুগিয়েছেন নির্যাতনের শিকার আজম ব্যাপারীর ব্যবসায়ীক অংশীদার মো. জহির। জহির ও আজম ব্যাপারী দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। প্রথমদিকে তারা জ্বালানি তেল কিনে বিক্রি করতেন হরিনাথপুর লঞ্চঘাটে। এরপর তারা জমির ব্যবসা শুরু করেন। জমি ব্যবসায় তাদের প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভ হয়। তবে আজম ব্যবসায় সমান অংশীদার হলেও লাভের টাকা পুরোটাই আত্মসাৎ করেন জহির। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। আজম ব্যবসার লাভের অংশ চাইলে জহির তাকে টাকা দেবে না বলে হুমকি দেন। কিছুদিন আগে আজমকে মারধর করে এলাকা ছাড়া করেন জহির।

কিছুদিন আগে আবার এলাকায় ফিরে আসেন আজম। ফিরেই ব্যবসার পাওনা টাকা দাবি করেন জহিরের কাছে। এতে জহির ক্ষিপ্ত হয়ে হরিনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মাহবুব সিকদার ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদলকে টাকা দিয়ে ভাড়া করেন। তারা একসঙ্গে মিলে আজমকে শাযেস্তা করার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সপ্তাহ খানেক আগে আজমকে বাড়ি থেকে ডেকে তালতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় নিয়ে যান মাহবুব সিকদার। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া মাহবুব সিকদারের সহযোগীরা আজমকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করেন। এক পর্যায়ে মাহবুব সিকদার একটি বদনা ভর্তি মানুষের মল-মুত্র এনে জোর করে আজমকে খাইয়ে দেন। আর মল-মূত্র খাওয়ানোর এই দৃশ্যের ভিঢিও ধারণ করেন মাহবুব সিকদারের চাচাতো ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাহারিয়ার বাদল। পরে আজমকে সেখানে ফেলে রেখে চলে যান তারা।

গতকাল সোমবার মল-মূত্র খাওয়ানোর এই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেন তারা। ফলে লোকলজ্জায় এলাকা ছেড়েছেন আজম ব্যাপারী।

আজমের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী। পুলিশ তাদের পকেটে। এ কারণে আজম থানায় অভিযোগ দিতেও সাহস পায়নি। এছাড়া ঘটনার পর আজমকে হুমকি দেওয়া্ হয়েছে যে, বিষয়টি নিয়ে আইন-আদালত করলে তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

মন্তব্য