আপডেট : ৩ জুন, ২০২০ ১২:৫৩

যেভাবে বিবর্তিত হয়েছে মহাবিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে বিবর্তিত হয়েছে মহাবিশ্ব

৫০ বিলিয়ন বছর আগে আমাদের এ মহাবিশ্বের অস্তিত্ব ছিল না। আমাদের মহাবিশ্বের যাত্রা শুরু হয়েছে একটি মহাজাগতিক বিস্ফোরণ থেকে, যা বিগ ব্যাং নামে পরিচিত। শুন্য থেকে এটি সম্প্রসারিত হয়েছে ২ বিলিয়ন বিলিয়ন কিলোমিটার। সেকেন্ডের মধ্যেই এটা হয়েছিল এবং যা আজকের দিনেও ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এ বিগ ব্যাং হওয়ার কারণ নিয়ে আলোচনা করছেন। আমাদের মহাবিশ্বে বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে।

প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে বিলিয়ন বিলিয়ন তারকা। গ্যালাক্সিগুলো সাধারণত গুচ্ছ আকারে থাকে। আমাদের গ্যালাক্সি স্থানীয় একটি গ্যালাক্সি গ্রুপের ৩০টির মধ্যে একটি। আমাদের সবচেয়ে কাছের গ্যালাক্সিগুলোর একটি হল অ্যান্ড্রোমিডা, ২.২ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে এর অবস্থান। 

মহাবিশ্বের প্রাথমিক বিবর্তন

বিগ ব্যাং সংগঠিত হওয়ার সেকেন্ডের মধ্যে সবকিছুর বিল্ডিং ব্লক তৈরি হয়েছিল। তবে প্রথমদিকের তারকা ও গ্যালাক্সির কাঠামো তৈরিতে আরও ২ বিলিয়ন বছর লেগেছিল। মহাবিশ্বের তাপমাত্রা তখন ১ লাখ বিলিয়ন বিলিয়ন বিলিয়ন ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।

এরপর মহাবিশ্ব দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে এবং এটি ছিল তেজিস্ক্রিয়তার পূর্ণ যার বেশিরভাগই ছিল আলো ও তাপ। সম্প্রসারণের হার ধীরগতির হওয়ার পর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কণা কোয়ার্কস সমন্বিতভাবে বৃহত্তর সাবঅ্যাটমিক কনা তৈরি করতে শুরু করে। সাবঅ্যাটমিক কনা একত্রিত হয়ে প্রোটন ও নিউট্রন গঠন করে।

১০০ সেকেন্ড পর

তাপমাত্রা কমে ১ বিলিয়ন ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেডে নেমে আসে।  এসময় মহাকাশ ছিল প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেক্টেনে পূর্ণ। এ তিনটি কনা অ্যাটম তৈরি করে। পরবর্তী ৩২ হাজার বছরে নিউট্রন ও প্রোটন হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গঠনে ভূমিকা রাখে। 

১ বিলিয়ন বছর পর

মহাবিশ্ব স্বচ্ছ রূপ ধারণ করে এবং তাপমাত্রা ৪ হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নেমে আসে। যা অ্যাটম গঠনে ভূমিকা রাখে। জন্ম হয় বৃক্ষের।

২ বিলিয়ন বছর পর 

হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মেঘ থেকে দৃঢ় হতে শুরু করে প্রথমদিকের তারকা ও গ্যালাক্সি। 

বিলিয়ন বছর আগের ঘটনা আমরা কীভাবে জানি

সাধারণভাবেই আমরা এটা দেখি। তারকাপুঞ্জ, মহাকাশ ও সময়; এদের মধ্যে বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান, তাদের আলাদা করাও অসম্ভব। তাদের থেকে যখন আলো আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় তখনই আমরা তাদের দেখি। যেমন সবচেয়ে উজ্জ্বলতম তারকা থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে আট বছর লাগে। ভার্গো ক্লাস্টার গ্যালাক্সিপুঞ্জ থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে লাগে ৫০ মিলিয়ন বছর। মানুষের অস্তিত্ব তৈরি হওয়ার আগেই এসবের অস্তিত্ব ছিল।

তাদের অবস্থান যত দূরে তত আগে তাদের অস্তিত্ব তৈরি হয়েছিল। তারকা থেকে আলোর সঙ্গে নানা ধরনের তেজস্ক্রিয় বস্তু নির্গত হয়। যা বিশেষ টেলিস্কোপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা যায় এবং তা মহাবিশ্বের পূর্ণাঙ্গ চিত্র সম্পর্কে ধারণা দিতে সাহায্য করে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে দূরের গ্যালাক্সি ১৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত, বিগ ব্যাং হওয়ার ২ বিলিয়ন বছর পরের ঘটনা। আমরা যদি যথেষ্ট দূরে দেখতে পেতাম তাহলে আমরা এ মহাবিশ্বের  শুরুটা হয়তো দেখতে পেতাম।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে