আপডেট : ২০ মার্চ, ২০২০ ১১:৪৫

করোনাভাইরাস নিয়ে যা বললেন আতঙ্কিত তসলিমা

অনলাইন ডেস্ক
করোনাভাইরাস নিয়ে যা বললেন আতঙ্কিত তসলিমা

এক জীবনে দুর্ভিক্ষ দেখেছি, যুদ্ধ দেখেছি, গণ আন্দোলন দেখেছি, মিলিটারি ক্যু দেখেছি, শাসক হত্যা দেখেছি,মুক্তচিন্তক খুন দেখেছি,   ধর্মীয় সন্ত্রাস দেখেছি। এখন বিশ্বজুড়ে ভাইরাসের আক্রমণে মৃত্যুও দেখা হচ্ছে। এর আগে এ শুধু বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনীতেই দেখেছিলাম। 

জানিনা ভাইরাসের কবল থেকে বাঁচতে পারবো কিনা। অসুস্থ মানুষের ধারে কাছে যাচ্ছি না, কিন্তু জ্বর কাশি  নেই এমন কিছু  লোক তো ভাইরাস ভেতরে নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাদের মুখ থেকে ভাইরাস ছিটকে বেরোচ্ছে, হাত দেখানেই রাখছে  সেখানেই ভাইরাস রয়ে  যাচ্ছে, এইসবে আমার ছোঁয়া একেবারেই লাগবে না, এ হলপ করে বলতে পারবো না।

মানুষ ২৪ ঘন্টা সাবধান থাকতে পারে, পারে অল্প কিছু দিন, প্রতিদিন নয়, দিনের পর দিন নয়। আমি হয়তো বাইরে যাচ্ছি না, কিন্তু বাইরে থেকে তো ঠিকই ঘরে কাজ করার লোক আসছে, ওরা তো সাত বাড়ি ঘুরে আমার বাড়ি আসছে। ওদের আমি প্রতিদিনই জিজ্ঞেস করি জ্বর কাশি নেই তো, ওরা না বলে। ওদের উত্তর আমাকে স্বস্তি দেয়।  ওদের বলে দিই, কোনও রকম অসুস্থ বোধ করলে যেন ডাক্তার দেখায় বা  হাসপাতালে চলে যায়, বেতন নিয়ে ভাবতে হবে না, কাজ না  করলেও পাবে। স্বস্তি তো ওদেরও দরকার।  

ঢাকায় শুনেছি বিদেশ থেকে এক মেয়ে এসে তার মাকে ভাইরাস উপহার দিয়ে চলে গেছে, ভাইরাসে মা'র মৃত্যু হয়েছে। দিল্লিতেও ইতালি থেকে ছেলে ফিরে মা'র সংগে ঘুরে বেরিয়েছে। সেও মা'কে উপহার দিয়েছে ভাইরাস। মা মারা গেছে। কতটুকু দায়িত্বজ্ঞানহীন পুত্র কন্যা!  ভালো যে কোনও পুত্র কন্যার জন্ম দিইনি। কোনও গ্যারেন্টি আছে জন্মালে দায়িত্বজ্ঞানহীন হতো না? 

আমার এক বিদেশি বন্ধু বলেছে, এই ভাইরাস আমাদের সবাইকে ধরবে,কিছু  আগে বা কিছু পরে। কেন বলেছে, কে জানে। আমি তো ভাবছি, আর কদিন পর ভাইরাস বিদেয় নেবে। আবার পৃথিবী আগের মতো হয়ে উঠবে, জীবন্ত।

আশা না থাকলে কি বাঁচা যায়। আমার যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তখনও আমার আশা ফুরোবে না, আমি বলবো আমি না হয় যাচ্ছি, কিন্তু বাকি মানুষ  বেঁচে থাকুক, পৃথিবী  বাসযোগ্য হোক আরও।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/ধ্রুব  

উপরে