আপডেট : ২২ জানুয়ারী, ২০১৮ ১২:০২

প্রধানমন্ত্রী রাঁধতে পারলে আপনি পারবেন না কেন?

আশা নাজনীন
প্রধানমন্ত্রী রাঁধতে পারলে আপনি পারবেন না কেন?

প্রধানমন্ত্রী রান্নাঘরে গিয়া মাছের ঝোল বা কবুতরের মাংস রান্না করছে, এই নিয়া বেশি লাফায়েন্না বঙ্গ ভ্রাতার দল। দেশের সর্বাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী যদি রান্নাঘরে যাইতে পারেন, বিরিয়ানি রান্না করতে পারেন, তবে আপনারা কোন জমিদার যে তাঁর অধীনে চাকরি করে এইটুকু শিখলেন না? বাসায় গিয়ে কি বউরে বলছেন যে, 'প্রধানমন্ত্রী যদি পারে আমি কেন রাঁধতে পারব না?' না বলেন নাই, কারণ গাধার দল পানি ঘোলা করে খাইবেক, উহাই সাধারণ|

আপনি কী বলছেন সেইটা আমি আন্দাজ করতে পারি, 'প্রধানমন্ত্রী নারী হয়ে যদি রান্না করতে পারে, তাইলে তুমি কেন পার না?'

মনে রাখবেন, প্রধানমন্ত্রী তিন বেলা রান্নাঘরে যায় না, তাঁর হাজারো ব্যস্ততার ফাঁকে সামান্য যে অবসরটুকু তিনি পান, তিনি সেটা রান্নাঘরে দিতে পছন্দ করেন, টিভিতে সঙ্গীতানুষ্ঠান, ক্রিকেট কিংবা সাহিত্যে দিতে পছন্দ করেন।

আর আপনার স্ত্রী বারো মাসের প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত ওই রান্নাঘর কিংবা বাচ্চার স্কুলে আনা নেওয়ার ঠিকুজী করতেছেন। রান্নাঘর যার প্রতিদিনের বেলনা, একদিকে সন্তান আরেকদিকে চাকরির প্রেশার/কিংবা ক্যরিয়ার না করতে পারার বিষণ্ণতা, তাঁর কাছে কি রান্নাঘর শখ এর কোন বিষয় হতে পারে?

আপনি এখন বলবেন, 'মা হইছে তো করবে না?' বাচ্চা স্কুলে কে নিবে?' কথা ঠিক, তাই আমিও বলি, 'বাংলাদেশের কেমন বেটা ছেলে আপনেরা যে নিজের দেশের সত্তুরের উপরে বয়সী প্রধানমন্ত্রী এখনো এমন ফিট, রান্নাঘরে গিয়ে ভালোমন্দ তৈরি করে, আর আপনারা বাসায় ফেরার লগে লগে এতো টায়ার্ড হয়ে যান কেন? কেন আপনার স্ত্রীকে চা বানিয়ে গ্লাসে পানি ঢেলে টেবিলে খাবার লাগিয়ে আপনাকে খাওয়াইতে হয়?'

ছোটলোকি ছাড়েন, সারাদিন ক্লান্ত বা দুর্বল ভাব দেখানো কোন কাজের কিছু না| খুব বেশি টায়ার্ড লাগলে ডাক্তার দেখান, আর রান্নাঘর নামের 'ক্রিয়েটিভ' জায়গাটাকে সিস্টেমেটিক ওয়েতে নিজের স্ত্রীকে আটকে না রেখে তাঁকে মুক্তি দেন|

প্রধানমন্ত্রীর মত অন্তত সপ্তাহে বা মাসে বা যেকোন বিশেষ দিন উপলক্ষে হলেও নিজের স্ত্রী সন্তানকে রেঁধে খাওয়ান, দেখিয়ে দেন বাঙ্গালী পুরুষের হ্যডম অনেক তো হইল, এইবার একটু দেখি।

লেখক- আশা নাজনীন

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে