আপডেট : ২৮ নভেম্বর, ২০১৭ ২১:৪০

‘চলছে কলম চলবে, পীর হাবীবরা লড়বে’

উজ্জ্বল চৌধুরী
‘চলছে কলম চলবে, পীর হাবীবরা লড়বে’

দেশবরেণ্য এক সাংবাদিক বড় ভাই কে প্রশ্ন করেছিলাম এ পেশা কেমন উপভোগ করছেন? তিনি প্রতিউত্তরে বলেছিলেন, প্রতিমুহূর্ত সত্য আর বাস্তবতা জাতির সামনে তুলে ধরার মরণপণ সংগ্রামের নাম হলো সাংবাদিকতা। প্রয়াত সেই বড় ভাইয়ের সংজ্ঞায় সবাই না পড়লেও যে ক’জন পড়েন তাদের মধ্যে একজন হলেন ১৯৬৩ সালের ১২ ই নভেম্বর জল জোছনা আর হাওরের রাজধানী রাজা হাসন, শাহ আব্দুল করিম, আব্দুস সামাদ আজাদ, কমরেড বরুন রায়, বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, কবি মমিনুল মইজুদ্দিনের সৃতিধন্য সুনামগঞ্জের হাসন নগরের সম্ভ্রান্ত পীর বংশে জন্ম নেয়া পীর হাবীবুর রহমান।

আজকে আমার লিখার বিষয় নির্ভীক এই কলমযোদ্ধা কে নিয়ে। আর তার কারণ হলো সত্য তুলে ধরার অপরাধে প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত একটি দৈনিকে তারেক রহমানকে নিয়ে তার সমালোচনার জবাবে যে প্রতিক্রিয়া তারেক রহমান প্রেমিরা দেখিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যম এবং তাদের প্রয়োগিত অনলাইন পোর্টালগুলোর ভাষা রুচিশীল পাঠক সমাজে তুলে ধরা অসম্ভব। অবাক হই এই ভেবে এই একই পীর হাবীব যখন বিএনপি মহাসচিব সজ্জন মির্জা ফখরুলের গাড়ী বহরে হামলাকারীদের রাজনীতির অভিশাপ বলেন তখন তিনি তাদের কাছে আদুরে দুলাল আর যখন নাকি নেতা কর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে রেখে আয়েশি জীবন যাপনকারী দুর্নীতির যুবরাজের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা আর অতীত আমলনামার সমালোচনা করেন তখন তিনি হয়ে যান আওয়ামী লীগের দালাল। সাদা আর কালো কে কালো বলাই সাহসী সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট। অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের চেতনা ধারণ আর মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে অবস্থান করা দালালী হলে হোক না। আমি বা আমরা তো জানিই পীর হাবীব বাংলাদেশের দালাল।

সমালোচনা সহ্য করা সেখান থেকে নিজেকে শুধরানো এবং নবউদ্যমে এগিয়ে যাওয়াই সত্যিকার রাজনীতিবিদের বৈশিষ্ট। অথচ মহান মুক্তিযুদ্ধের অর্জিত গৌরবের অংশীদার একজন সেক্টর কামান্ডারের সন্তান ভক্তদের একজন দেশবরেণ্য সাংবাদিক সম্পর্কে এহেন উক্তি অমার্জনীয়, অগ্রহণীয় এবং বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

একজন লেখকের বা কলামিস্টের লিখার সাথে যে কারো দ্বিমত থাকা স্বাভাবিক। কারো কাছে অসত্য মনে হলে প্রতিবাদ লেখনী লেখা সুস্থ চর্চা বলে সমাদৃত। অথচ তা না করে জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান কে নিয়ে তির্যক মন্তব্য কখনওই গ্রহণযোগ্য নয় ।আমার আজকের এই লেখার প্রধান কারণ হচ্ছে একটি পোর্টালে পীর হাবীব কে কেক খাওয়ানোরত কন্যা সম একটি মেয়ের ছবি কে নিয়ে অসত্য ও বানোয়াট বিকৃত তথ্য উপস্থাপন দেখে। পিতার আসনে বসিয়ে তার বিগত জন্মদিনে কেক খাওয়াতে আসা এ প্রজন্মের প্রতিনিধি তামান্নার কাছে নিজেদের শকুনি চরিত্র প্রকাশকারীরা কিভাবে দাঁড়াবে ভেবে পাই না।

অতি উৎসাহীদের জানা উচিৎ, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমদ, আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদ, বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, কাদের সিদ্দিকি বীরউত্তম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ওবায়দুল কাদের, সুলতান মনসুর, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অনেককেই নিয়ে পর্যবেক্ষণ, প্রশংসা, এনং তুমুল সমালোচনা করতে দেখেছি পীর হাবীবকে। কই তাদের তো প্রতিক্রিয়া এমন দেখিনি আমরা।

সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মনসুর বলতেন ‘সমালোচকদের জবাব কথায় নয় শুদ্ধ আচরণে দিতে হয়’। একটা গোলাপ কিংবা রজনীগন্ধা নিয়ে আবেগী যে মানুষটা কে জয় করতে পারতেন, মিথ্যাচার আর চরিত্রহনন করতে গিয়ে আকাশ সংস্কৃতির স্বপ্নবাজদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াটা কি পক্ষে যাচ্ছে? যে পীর হাবীবে মুগ্ধ হয়ে ১/১১ তে বেগম জিয়ার আইনজীবী ব্যারিষ্টার রফিকুল হক জন্ম শুভ বার্তায় লিখেছেন ‘সাংবাদিকরা স্বাভাবিক ভাবেই রাজনীতি সচেতন। জেনেছি তিনি ছাত্ররাজনীতি করে এসেছেন। আজকাল অনেক পেশাজীবী কে দেখা যায় প্রত্যক্ষ রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও আচার আচরণে মনে হয় রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী। পীর হাবীব এদিক থেকে সম্পুর্ণ ভিন্ন। সাদাকে সাদা আর কালো কে কালো বলার দৃপ্ত সাহস আমি তার মধ্যে দেখেছি। এই জন্য তার লেখা আমার ভালো লাগে। নিজের বিবেক আর আত্মসম্মান যারা বজায় রাখতে পারেন পীর হাবীব তাদের দলে’।

প্রয়াত কালজয়ী সাংবাদিক এ বি এম মুসা বলে গেছেন ‘আমার পারিবারিক অনুষ্ঠানে বড়দের মাঝখানে একমাত্র তরুণ অতিথি পীর হাবীব। সেই আসরে দুর্মুখ স্পষ্টবাদী পীরকে দেখা যায়না। সেখানে তার আচরণ অতি ভদ্র, নম্র, বিনয়ী ও বয়োজেষ্ঠদের প্রতি সম্মানজনক। এর কারণ অনুভব করি যখন অনুভব করি একজন পীর আমার মুরিদ’।

জাতির সম্মানিত ব্যক্তিদের মাত্র দুজনের অনুভব তুলে ধরলাম, কারো মিথ্যাচারের জবাব দিতে নয় বরং সত্য আর সাহসের প্রতিক এক হারনামানা এক কলম সৈনিকের অগ্রযাত্রা কে অব্যাহত রাখতে কিঞ্চিৎ প্রেরণা হিসেবে। আসুন সত্যের পথে চলি,আর আওয়াজ তুলি ‘চলছে কলম চলবে, পীর হাবীবরা লড়বে’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে