আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০১৬ ১৯:৪২

রামপাল বাতিলের দাবিতে ঢাকায় চেগুয়েভারা ও প্রীতিলতা

রেজা করিম
রামপাল বাতিলের দাবিতে ঢাকায় চেগুয়েভারা ও প্রীতিলতা

স্বাধীকার আন্দোলন ও বিপ্লবী চেতনার দুই অগ্রপথিক চেগুয়েভারা ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। বিংশ শতাব্দীতেই তাদের জন্ম ও মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এ দুজন বিপ্লবীর চেতনা যুগে যুগে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ জাতিকে। দেখিয়েছে আলোর পথ। সেই বিপ্লবীদের এবার পূণর্জন্ম হয়েছে। চেগুয়েভারার বয়স ৪ বছর এবং প্রীতিলতার বয়স ৩ মাস। বয়স অল্প তাতে কি? ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে তাদের বিপ্লব। রাস্তায় হ্যান্ড মাইকে শ্লোগান দিতে শুরু করেছে চেগুয়েভারা। শুধু কি তাই বিপ্লবে অংশ নিতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছে তারা।

রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার দেশের পরিবেশবাদী ও বিভিন্ন বাম সংগঠনগুলো। প্রায়শই তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে নানা ধরণের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে বয়সে ছোট চেগুয়েভারা ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

আসলে তারা আবু তৈয়ব ও মিলি খানম দম্পতির দুই সন্তান। বাবা মা বিপ্লবী তাই সন্তানের নামও রেখেছেন বিপ্লবীদের নামে। আবু তৈয়ব ও মিলি খানম দম্পতি চট্টগ্রাম থেকে সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে এসেছেন। তারা প্রচারণা চালাতে চালাতে ঢাকা আসেন গত বৃহস্পতিবার। এরপর তারা ব্যক্তিগতভাবে শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেন।

এতো ছোট দুই শিশুসন্তান নিয়ে কীভাবে এ ধরনের আন্দোলন করছেন, আপনার কষ্ট হয় না?-প্রশ্নের উত্তরে মিলি বলেন, ‘আমার পেটে বাচ্চা নিয়ে ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম শহীদ মিনারের সামনে আন্দোলন করেছি। সেই আন্দোলনের চার দিন পর আমার মেয়ের জন্ম হয়। সুন্দরবন রক্ষার জন্য আরো কষ্ট করতে আমার সমস্যা হবে না। নিজের সন্তান ও দেশের নাগরিকদের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের এই আন্দোলন।’ তিনি জানান, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন।

মিলি-তৈয়ব দম্পতির বক্তব্য হল- সুন্দরবন বাংলাদেশ বাঁচায়, তাই সুন্দরবন রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার সিদ্ধান্ত সরকারের সঠিক নয়।

মিলি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে শেখ হাসিনা ভারতের স্বার্থে কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? যে বন বাংলাদেশের প্রাণ সেই বন কিসের স্বার্থে বিক্রি করতে চাইছে।

কথা প্রসঙ্গে আবু তৈয়ব বলেন, কোনো দেশের ডাস্টবিন হতে দিব না বাংলাদেশকে। সুন্দরবন ধ্বংস হতে দেবে না আমার পরিবার। এ দেশে নিজ থেকে প্রাণ দেবার মানুষের অভাব নেই। প্রয়োজনে আমার পরিবার সুন্দরবন রক্ষার জন্য এককভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

এ সময় মিলি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র না করলেই সবচেয়ে ভালো হয়।

সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনকে কোন স্থানে দেখতে চান আপনারা? জবাবে আবু তৈয়ব বলেন, সরকার গণ-প্রতারণা করছে। তাই আমাদের যা যা করার দরকার তাই করব। এটা রামপালবিরোধী হবে নাকি সরকারবিরোধী হবে সেটা জাতীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিবে। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে ও আমার পরিবার এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। জাতীয় কমিটি আন্দোলন বন্ধ করলেও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে কোনো সুযোগ কাউকে দিব না। সুন্দরবন যে অবস্থায় ছিল তার থেকে আরো ভালো করতে হবে।

তিনি বলেন, ভারত খুব ধূর্ত। বাংলাদেশের বিরল প্রজাতির প্রাণী তাদের দেশে নিয়ে যাবার জন্য রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারকে প্রলোভন দেখাচ্ছে। আর আমাদের সরকার নিজের স্বার্থে, ভারতের স্বার্থে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

মাফিয়াদের সামনে রেখে ৪৫ বছর ধরেই ক্ষমতাসীনরা সুন্দরবনের সম্পদ চুরি করেছে। এখন বাঘ, হরিণসহ মূল্যবান সম্পদ ধ্বংস করেছে এ দেশের সরকার। আমাদের এতো বড় সম্পদ কীভাবে রক্ষা করবে সেইদিকে কারো নজর নেই। ক্ষমতাসীনরা সুন্দরবনকে নিয়ে ব্যবসা করছেন।

ছোট্ট চে গুয়েভারার সঙ্গে কথা হয়। সে বলে, 'আমি চে গুয়েভারা বলছি, সুন্দরবনকে আমি বাঁচাব। আপনারা সবাই সুন্দরবন রক্ষার মহাসমাবেশে আসুন।

তৈয়ব-মিলির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু করে বিজয়নগর, শিল্পকলা ও মৎস্য ভবন এলাকায় মাইক হাতে নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে চে গুয়েভারা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে